৩৬৫ দিন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবন ও রাজনৈতিক যাত্রা এবার কমিকসের পাতায় তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রায় ১.২ লক্ষ অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে এই কমিকস বিতরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজ্যের প্রায় ৬৯ লক্ষ শিশুর কাছে প্রধানমন্ত্রীর জীবন, কর্মজীবন এবং দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান সম্পর্কে তথ্য পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিই হবে মূল বিতরণস্থল
রাজ্যে থাকা বিপুল সংখ্যক অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রকে এই কর্মসূচির প্রধান মাধ্যম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।সংশ্লিষ্ট দফতরের পরিকল্পনা অনুযায়ী, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে থাকা শিশুদের মধ্যে কমিকস বই বিতরণ করা হবে। সরকারি উদ্যোগের সঙ্গে শিশুদের পরিচিত করার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জীবন ও কর্মজীবন সম্পর্কেও তাদের ধারণা দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।নবান্নের এক শীর্ষ আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই কমিকসে নরেন্দ্র মোদির গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায় তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি তাঁর নেতৃত্বে ভারতের অর্থনৈতিক অগ্রগতির বিষয়টিও কমিকসের মাধ্যমে শিশুদের সামনে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
বইয়ের মাধ্যমে শিশুদের কাছে প্রধানমন্ত্রীর জীবন
সরকারি সূত্রের বক্তব্য, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের শিশুদের প্রধানমন্ত্রীর জীবন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা থাকা প্রয়োজন। তবে শুধুমাত্র প্রচলিত বা প্রাতিষ্ঠানিক বইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পরিবর্তে শিশুদের উপযোগী কমিকসের আকারে তা উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সাধারণ পাঠ্যধর্মী বা লিখিত বইয়ের তুলনায় কমিকস শিশুদের মধ্যে বেশি আগ্রহ তৈরি করতে পারে। ছবির সঙ্গে সহজ ভাষায় ঘটনাগুলি তুলে ধরলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের ছোটদের কাছেও বিষয়টি সহজবোধ্য হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
‘সেবা সংকল্প’ অভিযানের সঙ্গে যুক্ত কর্মসূচি
এই কমিকস বিতরণ কর্মসূচি ‘সেবা সংকল্প’ নামে একটি বৃহত্তর অভিযানের অংশ। এই অভিযান ১৭ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন থেকে শুরু হয়ে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। এই সময়ের মধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
অভিযানের মূল লক্ষ্য হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প সাধারণ মানুষের কাছে কতটা প্রভাব ফেলেছে, তা তুলে ধরার কথা বলা হয়েছে। দলের কর্মীরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা পাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলবেন এবং তাঁদের অভিজ্ঞতা নথিবদ্ধ করবেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তিন দিন ধরে চলবে কমিকস বিতরণ
অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে কমিকস বিতরণ একদিনে শেষ করার পরিকল্পনা নেই। কর্মসূচির সময়কালে তিন দিন ধরে শিশুদের মধ্যে বইগুলি বিতরণ করা হবে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বর্তমানে কমিকসগুলি ছাপার কাজ চলছে। বইগুলি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে পৌঁছানোর পর বিতরণের নির্দিষ্ট দিন চূড়ান্ত করা হবে।বিতরণের সময়সূচি আগে থেকেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে জানিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট দিনে শিশুরা যাতে উপস্থিত থাকে এবং কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে, তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হবে।কেন্দ্রগুলিতে কর্মীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার নির্দেশ।অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে সন্ধ্যা ৭টায় প্রদীপ বা মোমবাতি জ্বালানোর কর্মসূচিও রয়েছে।’আশীর্বাদ কা দিয়া’ কর্মসূচির আওতায় এই আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজ্যের মহিলা ও শিশু উন্নয়ন এবং সমাজকল্যাণ দফতরের পক্ষ থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে এই বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে প্রতিটি কেন্দ্রে অন্তত একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী বা সহায়ককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
কর্মী না থাকলে বিকল্প ব্যবস্থা
কোনও কেন্দ্রে কর্মী বা সহায়ক-দু’জনের কেউ উপস্থিত থাকতে না পারলে স্থানীয় প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পাশের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে কর্মীদের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
জেলা প্রকল্প আধিকারিক এবং শিশু উন্নয়ন প্রকল্প আধিকারিকদের প্রতিটি কেন্দ্রে কর্মসূচি যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র যাতে কর্মসূচির বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজরদারির নির্দেশও রয়েছে।
জেলা ও প্রকল্প স্তরে সমন্বয়ের ওপর জোর
কর্মসূচি সফল করতে আগে থেকেই পরিকল্পনা, যোগাযোগ এবং পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জেলা এবং প্রকল্প স্তরের আধিকারিকদের মধ্যে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্ধারিত কর্মসূচিতে কোনও কেন্দ্র বাদ পড়ে যাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কথাও বলা হয়েছে।জানা গিয়েছে,কমিকস বই পৌঁছনোর পর বিতরণের তারিখ চূড়ান্ত হবে। ফলে আগামী দিনগুলিতে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে এই কর্মসূচির প্রস্তুতি আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রায় ৬৯ লক্ষ শিশুর কাছে কমিকস পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগ রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি ব্যবস্থার মাধ্যমে বড় পরিসরে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাংলায় কমিকসে প্রধানমন্ত্রীর জীবনগাথা, পৌঁছবে ৬৯ লক্ষ শিশুর কাছে




