৩৬৫ দিন। অসম থেকে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনী ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা নিয়েছিলেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। বাঘিনী ফিরিয়ে আনার কাজে প্রশিক্ষিত দলের সঙ্গে নিজে অসমের জঙ্গলে গিয়েছিলেন তিনি। অসমের গ্রামের মানুষের অসহযোগিতা উপেক্ষা করে বাঘিনীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বক্সার জঙ্গলে। এবার ডিসেম্বরের মধ্যে বক্সার জঙ্গলে নতুন পুরুষ বাঘ আনার উদ্যোগ শুরু করল বন দফতর। ইতিমধ্যেই জাতীয় ব্যাঘ্র সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বন দফতর জানিয়েছে, জঙ্গলে পুরুষ বাঘের উপস্থিতি থাকলে, বাঘিনীটির বক্সার জঙ্গলে স্থায়ীভাবে বসবাস করার সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে। তাই সমস্ত প্রক্রিয়া যাতে দ্রুত সম্পন্ন হয় সেজন্য উদ্যোগী হয়েছেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও।
অসম থেকে ফিরিয়ে উত্তরবঙ্গের বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘিনীটিকে নিয়ে আসার পর এবার রাজ্যের প্রথম বাঘ পুনর্বাসন প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী নভেম্বরের শেষ অথবা ডিসেম্বরের শুরুতে বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে নতুন একটি পুরুষ বাঘ আনা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে ন্যাশনাল টাইগার কনজারভেশন অথরিটি বা এনটিসিএ -এর অনুমোদন প্রয়োজন। ইতিমধ্যেই রাজ্য বন দফতরের তরফে এনটিসিএ-এর কাছে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বন দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, পুরুষ বাঘের উপস্থিতি থাকলে বক্সার জঙ্গলে বাঘিনীটির স্থায়ীভাবে বসবাস করার সম্ভাবনা আরও প্রবল হবে। নতুন বাঘ আনার ক্ষেত্রে, ভুটান-অসমের জঙ্গল থেকে পুরুষ বাঘের গতিবিধির উপর কড়া নজর রেখেছে বন দফতর।
গত মাসে বিহারের বাল্মীকি টাইগার রিজার্ভ থেকে বক্সায় আনা বাঘিনীটি অসমের রাইমোনা অঞ্চলে ১০ দিন কাটানোর পর মঙ্গলবার বনকর্মীদের হাতে ধরা পড়ে। মঙ্গলবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে তাকে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে ফিরিয়ে আনা হয়। পুরো অভিযানে প্রশিক্ষিত বাহিনীর সঙ্গে নিজে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। বক্সায় পৌঁছনোর পর বাঘিনীকে যে খাঁচাবন্দি বিশেষ গাড়িতে করে আনা হয়েছিল, সেটিকে ২৫ মাইল এলাকার অ্যাক্লাইমেটাইজেশন এনক্লোজার বা পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য তৈরি বিশেষ ঘেরাটোপের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর খাঁচার দরজা খুলে দেওয়া হলে বাঘিনীটি নিজেই হেঁটে ২.২ হেক্টর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এনক্লোজারের মধ্যে প্রবেশ করে। বনমন্ত্রী মানোজ কুমার ওরাঁও বলেছেন, ‘আপাতত বাঘিনীটিকে ওই ঘেরাটোপের মধ্যেই রাখা হবে। বাঘিনীটি যাতে স্থায়ীভাবে বক্সার জঙ্গলে থাকতে পারে তার জন্য সব রকম উদ্যোগ নিয়েছে বন দফতর।’
অসমের গ্রামবাসীদের অসহযোগিতা
অসমের গিলাগুড়ি গ্রামের এলাকায় বাঘিনীটিকে ধরার অভিযান বনকর্মীদের কাছে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছিল। বাঘিনীকে খুঁজে বের করার কাজে নিযুক্ত দলকে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান অসহযোগিতা ও অধৈর্যের মুখে পড়তে হয়। বনকর্মীরা যে এলাকায় বাঘিনীটির উপস্থিতি রয়েছে বলে সন্দেহ করছিলেন, সেখানে পৌঁছলেই অসমের গ্রামবাসীরা বাজি ফাটাতে শুরু করে দিতেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, সম্ভবত বাঘিনীটিকে ওই এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। মঙ্গলবার দুপুরে অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থলে জমায়েত হওয়া মানুষের ভিড় নিয়ন্ত্রণ করাও বনকর্মীদের কাছে বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সব দিক বিবেচনা করে, গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে অসমের জঙ্গলে বাঘিনীটিকে ধরা হয়।
বন দফতরের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, অসমের রাইমোনা অঞ্চলে থাকার সময় বাঘিনীটি খুব বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেনি। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ চলাচল করত সে। বিশেষ করে শূকর শিকার করার পর তার চলাচল আরও সীমিত হয়ে পড়ত। শিকার ধরার জায়গার আশপাশে প্রায় ২ থেকে ২.৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যেই সাধারণত তার গতিবিধি সীমাবদ্ধ থাকত। তাই বক্সার জঙ্গলে ফেরত আসার পর বাঘিনীটির গতিবিধির ওপরেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে।
ডিসেম্বরের মধ্যে বক্সায় নতুন পুরুষ বাঘ আনার উদ্যোগ শুরু বন দফতরের
- khabar365din
- November 5, 2026
- 7:33 pm
- No Comments






