৩৬৫ দিন।কথাকলি দত্ত। সেপিলক থেকে লম্বা সফর দিয়ে পাঁচতারা রেইন ফরেস্ট রিসর্টে পৌঁছে যাওয়া মানেই, ওরাং ওটাং দের আরো কাছাকাছি চলে আসা। যদিও প্রচুর ইউরোপীয় এবং মার্কিন পর্যটক দল বেঁধে আসেন,কিন্তু ভারতীয় সেই অর্থে নেই বললেই চলে। তবে জাপানি ও চিনা পর্যটকরা আসেন। এখান থেকে খানিকটা পথ জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে পার হলেই, বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় ওরাং ওটাং রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে ,একটু ধর্য্য ধরলেই দেখা পাওয়া যাবে ডজন খানেক ওরাংওটাং। পাম গাছের বিস্তীর্ণ অরণ্য দিয়ে ঘেরা, এই ওরাংওটাং সেন্টার রেইন ফরেস্টের আকাশছোঁয়া,মানে ন্যূনতম যাদের উচ্চতা ৩৫ থেকে ৭০ মিটার পর্যন্ত। অর্থাৎ ৫ থেকে ১৫ তলা বাড়ির উচ্চতার বাদাম, মেনেরা,বেলিয়ান, স্ট্রাংলিং, মেহগিনি , পাইনের মত সাড়ে তিন হাজার প্রজাতির ঘন অরণ্য দিয়ে ঘেরা এই সেন্টার। মাটি থেকে ৪০ ফুট উচ্চতায় ক্যানোপি ওয়াক পর্যটকদের সামনে এনে দেবে ওরাংওটাংদের দুনিয়া। যেখানে নির্দিষ্ট সময় তাদের জন্য রাখা থাকে খাবার। সেন্টারের কর্মীরা বিশাল গাছের মাথায় তাদের জন্য তৈরি কাঠের ডাইনিং স্টেজে উঠে আসেন সুউচ্চ সিঁড়ি বেয়ে।
ফিডিং প্ল্যাটফর্মে তাদের জন্য রাখা থাকে বিশাল বাকেট। তাতে দেওয়া হয় প্রচুর খাবার। এদের খাদ্য তালিকা কিছু এক আশ্চর্য বিষয়। যদিও পর্যটক হিসাবে সেটা দেখার সুযোগ মিলবে না। কারণ পর্যটকদের ক্যানোপির থেকে ওদের ফিডিং প্ল্যাটফর্মের এয়ার ডিসটেন্স প্রায় ৫০ থেকে ৬০ ফুট। এদের প্রতিদিনের ডায়েটে থাকে পাঁচ থেকে সাত রকমের পাকা ফল,গাছের কন্দ, পাতা,ফুল,পতঙ্গ এমনকি প্রোটিন হিসাবে পাখির ডিমও কখনও কখনও দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময়ে খাওয়ার জন্য দল বেঁধে হাজির হয় ওরাং ওটাংরা । জঙ্গলে ওদের বাসা থেকে চলে আসে। কখনও কখনও পর্যটকদের সামনে নির্ভয়ে ওরা নির্ভয়ে হেটে যায় খাবার খায় খুনসুটি করে। কোলে শিশু নিয়ে মায়েরা মোটা দড়ি ঝুলে চলে আসে মাটি থেকে ৬০ মিটার উচ্চতায় তৈরি ওদের ডাইনিং প্ল্যাটফর্মে।
অবশ্য খাবার দেখলে লোভ সামলাতে না পেরে কিছু বাদরের দলেরও দেখ আজ মেলে। ওরাংওটাং ওদের বাকি প্রজাতিদের থেকে একটু আলাদা, এরা শিম্পাঞ্জি বা গরিলাদের মত মাটির কাছে বাসা বানায় না। উঁচু গাছের মাথায় নরম পাতার বিছানা বানিয়ে শোয়। বর্ণিয়োর আরেক আশ্চর্য বাঁদর, বিশাল রকম লম্বা নাকওয়ালা প্রবোসিস বাঁদররা এদের জন্য হুইসেল ব্লোয়ার এর কাজ করে। বিপদ দেখলেই ডাকে, এরা নিরাপদে লুকিয়ে পড়ে। যদিও ডাবলু ডাবলু এফ এফ রিপোর্ট অনুযায়ী বিগত ৫০ বছরে বর্ণীয় ও সুমাত্রা মিলে ৩৫ হাজারের বেশি ওরাং ওটাং পোচিং হয়েছে, কিংবা উধাও হয়েছে। বর্তমানে এদের রক্ষা করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে মালয়েশিয়া প্রশাসন। ড্রোনে নজরদারি, এবং পর্যটকদের সামনে ওরাংওটাং ব্র্যান্ডিংকে অন্যভাবে তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় বছর ধরে মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জঙ্গল কেটে পাম ওয়েলের ব্যবসা তুঙ্গে উঠেছে। বিশ্বের সেরা পামওয়েল এই অঞ্চল থেকেই আসে। দেশের অর্থনীতির প্রায় ৪০ শতাংশ দাঁড়িয়ে আছে পাম তেলের রপ্তানির ওপর। ফলে একদিকে মাইলের পর মাইল পাম গাছ, অন্যদিকে এই বর্ষা বনকে বাঁচানোর সমান্তরাল প্রয়াস চলেছে।






