৩৬৫ দিন। সৌগত সরকার .বদলে গেল কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো এবং পুরস্কারের আদল। নতুন সরকারের তৈরি চলচ্চিত্র উৎসব কমিটির সব সদস্যরাই সর্বসম্মতিক্রমে নতুন লোগো তৈরির জন্য দায়িত্বভার তুলে দিয়েছিলেন সন্দীপ রায়কে। সেইমত সন্দীপ রায় দুটি লোগো তৈরি করেন। লোগোর মাধ্যমে চলচ্চিত্র উৎসবকেই প্রাধান্য দিয়েছেন সন্দীপ রায়। তাঁর সৃষ্ট দুটি লোগোর মধ্যে একটিকে চলচ্চিত্র উৎসবের আইকন লোগো হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। দুটি মাল্টি কালার লোগোর মধ্যে যেটি বেছে নেওয়া হয়েছে,সেটির কেবল কিফ বা কেআইএফএফ অংশটি তৈরি করেছেন সন্দীপ। কিন্তু ৩২ তম বর্ষের সংখ্যাটি ও তার ডিজাইন তার করা নয়। কারণ এটি প্রতি বছর পরিবর্তিত হবে। এই বিষয়ে সন্দীপ রায় জানান, ওনারা প্রথম মিটিংয়ে লোগো এবং স্বর্ণ বাঘিনী পুরস্কারের মডেল পরিবর্তনের কথা আমায় আমায় জানান। আমি আমার মতামত দিয়েছিলাম। সেইমত ওনারা আমায় লোগো বানিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। আমি দুটি মাল্টি কালার লোগো বানিয়েছি। কালো এবং গাঢ় কমলার বিপরীতমুখী অবস্থান,একই সঙ্গে ফিল্ম এর স্ট্রিপ ফেস্টিভ্যালকে রিপ্রেজেন্ট করে। ওনারা একটি বেছে নিয়েছেন।
প্রসঙ্গত,সরকারি ভাবে বদলে ক্যালকাটা থেকে কলকাতা হয় ২০০১ সালের পয়লা জানুয়ারি। সেই মতোই চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো বদলে ক্যালকাটা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল থেকে হয়ে যায় কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর,২০১২ সালে নতুন লোগো তৈরি হয়। ১৪ বছর বাদে সেই লোগো আবার নতুন করে তৈরি হল। একই ভাবে চলচ্চিত্র উৎসবের পুরস্কার স্বর্ণ বাঘিনীর চেহারা ও মুভমেন্ট এ বড় বদল এসেছে। বাঘিনীর পরিচিত ঝাঁপ দেওয়া বা ল্যাপিং অবস্থান বদলেছে। বাহিনী চার পায়ে স্টেবল,বা দাঁড়িয়ে। তার শরীরের আঁকিবুকি কল্কা নেই। এই প্রসঙ্গে সন্দীপ রায় বললেন,এটা নিয়ে আগেও আলোচনা হয়েছিল। জাম্পিং স্ট্রাকচার প্রচুর এজিং ছিল,বা ধার ছিল। গোটা বিশ্বে যেখানেই চলচ্চিত্র পুরস্কার দেওয়া হয় কোথাও ট্রফিতে শার্প এজ বা ধার রাখা হয় না। এটা অবশ্যই মসৃণ এবং পলিশড হতে হবে। ধারালো বা শার্প এজ ট্রফিতে এভাবে রাখা যায় না। অস্কার পুরস্কার দেখলে বোঝা যায়,কতটা প্রোফেশনাল ভাবে তৈরি। ফলে বাঘিনীর দাঁড়ানো স্টেবল ফিগারটা ভালো হয়েছে। স্ট্রাকচারের দিক থেকে দেখলে অনেক স্টেবল এবং শার্প এজ নেই। অন্যদিকে, কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের একেবারে প্রথম বছর থেকে যুক্ত ছিলেন চিত্রপরিচালক গৌতম ঘোষ। গত বছর তিনিই ছিলেন চলচ্চিত্র উৎসবের চেয়ারম্যান। লোগো বদলের বিষয়ে তিনি বলেন,গত বছর সে সময়ে আমার স্ত্রী বিয়োগ হয়েছিল, তারপরও আমি চলচ্চিত্র উৎসবে যোগ দিয়েছিলাম। নতুন লোগো দেখেছি,খুব ভাল। সন্দীপ এই বিষয়ে মাস্টার। ক্যালিগ্রাফি, ডিজাইন,লোগো,এমব্লেম বহু বছর ধরে করছে। প্রচুর সংবাদপত্র,ম্যাগাজিন,পত্রিকা কিংবা বইয়ের কভার, মাস্টারহেড,লোগো ওর তৈরি করা। প্রোফেশনাল কাজ। রংয়ের কম্বিনেশন,চলচ্চিত্র থিম প্রেজেন্টেশন সব মিলিয়ে,ঝকঝকে,স্মার্ট।
অ্যামেচার নয়,প্রোফেশনাল। প্রসঙ্গত, দুদিন আগেই নন্দনে অনুষ্ঠিত চলচ্চিত্র উৎসব নিয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত হয়েছে লোগো এবং স্বর্ণ বাহিনী পুরস্কারের চেহারা। মঙ্গলবার চলচ্চিত্র উৎসবের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় নন্দনে। প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে মিঠুন চক্রবর্তী ছাড়াও বৈঠকে সরকারি আমলারা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল, পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ,সন্দীপ রায়,প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, জিৎ প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন পাপিয়া অধিকারী,শর্বরী মুখোপাধ্যায়। আগামী ১৬ থেকে ২৩ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব। প্রতি বছর নভেম্বর মাসে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হলেও এ বার তা পিছিয়ে ডিসেম্বরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, গত বছর পর্যন্ত কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম এবং ধনধান্য অডিটোরিয়ামে। কিন্তু রাজ্যে সরকার বদলের পর এ বার সেই পরিচিত আয়োজন থেকে সরে এসে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে বেছে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের অতিথি তালিকাতেও থাকছে একাধিক চমক।
মিঠুন জানিয়েছেন, এ বছর উৎসবে উপস্থিত থাকার কথা রজনীকান্ত এবং প্রভাসের। অনুপম খেরের সঙ্গে ইতিমধ্যেই কথা চলছে। কঙ্গনা রানাউতের সঙ্গেও যোগাযোগ করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অতিথি তালিকা খুব বেশি দীর্ঘ করতে চাইছেন না তারা। পাশাপাশি হলিউডের তারকাদেরও উৎসবে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান মিঠুন। যদিও সেই পরিকল্পনা কতটা বাস্তবায়িত হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।৩২তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম চমক উত্তম পুরস্কার। মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই বিশেষ সম্মানের ব্যবস্থা করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফে।
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের লোগো বানালেন সন্দীপ রায়
- khabar365din
- October 30, 2026
- 9:07 am
- No Comments






