শিক্ষাঙ্গনকে কাম্য নয় রাজনৈতিক হিংসা
যাদবপুর কাণ্ডে প্রতিবাদ অর্মত্য সেনের

৩৬৫ দিন। মানুষ গড়ার উপাসনালয় , শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বহিরাগতদের হামলা যথেষ্ট উদ্বেগের,এর আগে এভাবে রাজনৈতিক হিংসা থেকে শিক্ষাঙ্গনকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায় নি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এভাবেই নিজস্ব মতপ্রকাশ করলেন নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। বৃহস্পতিবার ই- মেল বার্তায় অর্মত্য সেন দেশের নামকরা প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থাকার কথা উল্লেখ করে আরও জানিয়েছেন, যাদবপুরবিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের হামলার ঘটনায় তিনি মর্মাহত, উদ্বিগ্ন।
মানব সম্পদের অন্যতম বিষয়- শিক্ষা , শিক্ষালয়ে,অসহিষ্ণু আবহ , সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ থেকে হামলা নিন্দনীয়—-যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক অর্মত্য সেন, বরাবরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা, মুক্ত পরিবেশের পক্ষে মতপ্রকাশ করেছেন। শিক্ষায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ, সহমতের ভিত্তিতে পড়াশোনার উন্নতি চেয়ে এসেছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অর্থনীতিবিদের নজরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাগতদের হামলার অভিযোগ নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন তিনি। অর্মত্য সেনের মতে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ধরণের ভয়ঙ্কর হামলার ঘটনা ঘটেছে তা আমাকে মর্মাহত করেছে। আমি মনে করি অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মতোই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালকে রাজনৈতিক হিংসা থেকে রক্ষার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।এই ধরনের ঘটনা যে আগে ঘটেনি তাও উল্লেখ করেছেন অর্মত্য।কারণ এইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকেই অসংখ্য ছাত্র -ছাত্রী তাঁদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলেন। এই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭০ বছর আগে অধ্যাপক হিসেবে কাজ করার কথা তুলে ধরে,এই মহান বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে গভীর আত্মিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেছেন বিশিষ্ট নাগরিক। হিংসাত্মক হামলার সময়েও তিনি এই প্রতিষ্ঠানের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।এই বিষয়ে নোবেল জয়ীর স্পষ্ট মত,হিংসা থেকে মুক্তির অধিকার সবার আছে, সাম্প্রদায়িক মেরুকরণবাদী ভাবনা থেকে যেভাবে কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে এই ধরণের হিংসার ঘটনা ঘটেছে তা নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।এর আগে চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব, লেখক, অধ্যাপকরা এই ধরনের বহিরাগতদের দ্বারা হিংসার ঘটনার তীব্র ধিক্কার জানিয়েছেন, এবার এই নিন্দা প্রকাশ করলেন বিশ্ববরেণ্য বাঙালি অর্থনীতিবিদ তথা প্রতীচি ট্রাস্টের প্রাণপুরুষ অর্মত্য সেন।

Scroll to Top