৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। প্রথম ম্যাচে গুয়াহাটির মাঠে হেরে শুরু করলেও পরের দুটো ম্যাচে দিল্লি এবং চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে জয় এসেছে মোহনবাগানের। আজ অর্থাৎ শনিবার সন্ধ্যায় যুবভারতীতে বাগানের সামনে পঞ্জাবের চ্যালেঞ্জ। এই ম্যাচটা মোহনবাগান দলের দুটো মানুষের কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমজন কোচ পানোস, দ্বিতীয় জন মিডফিল্ডার সামির জেলকোভিচ। দুজনেই গত বছর ছিলেন পঞ্জাবের দলে। কিন্তু এখন তারা মোহনবাগানে। এমনিতেই মোহনবাগান কোচকে নিয়ে একটা আলোচনা চলছে এমন কান পাতলে শোনা যাচ্ছে ময়দানে। তবে মোহনবাগানের প্রেসিডেন্ট এবং সচিব দুজনেই দাঁড়িয়েছেন কোচের পাশে। তারা দুজনেই আশাবাদী এই কোচ একটু সময় পেলে ভালো করবেন। এত তাড়াতাড়ি একজন কোচকে এনে তাড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়।
তবে মোহনবাগানকে চিন্তায় রাখছে দলের পারফরম্যান্স। জিতলেও মোহনবাগানের খেলার বাঁধুনি এবং বোঝাপড়া একেবারেই চোখে পড়ছে না। চেন্নাই ম্যাচটা প্রায় ভাগ্যের জোরে জিতেছে তারা। হেরেও যেতে পারত। দিল্লির বিরুদ্ধে জিতলেও দাপুটে ফুটবল দেখা যায়নি। যে মোহনবাগান দলকে কয়েক বছর আগেও দেখে মনে হতো নিজেদের বোঝাপড়া এবং আক্রমণের জোরে বিপক্ষ দলকে নিয়ে ছেলেখেলা করবে তারা এই দলটাকে কিন্তু সেরকম লাগছে না। ইতিমধ্যে এই নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। কিন্তু মোহনবাগান ম্যানেজমেন্ট এবং কোচ দুজনেই চাইছেন অতীত ভুলে সামনে তাকাতে। সামনে এমন একটা দল যারা ফিজিক্যাল ফুটবল খেলে। যাদের উচ্চতা এবং গতি দেখার মতো। পঞ্জাবের দায়িত্বেও আছেন একজন গ্রিক কোচ। সঙ্গে আছেন সহকারি শংকর লাল চক্রবর্তী। যিনি অতীতে মোহনবাগানের দায়িত্ব সামলেছেন। যার প্রত্যেকটা খুঁটিনাটি সম্পর্কে আইডিয়া আছে সবুজ মেরুন ব্রিগেডের। মোহনবাগানের কিছুটা অসুবিধে দলের দুই নির্ভরযোগ্য ফুটবলার আপুইয়া এবং ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েলকে এই ম্যাচেও পাওয়া যাবে না। তবে জেমি রিজার্ভ বেঞ্চে থাকতে পারেন। প্রয়োজন হলে শেষ ১৫ মিনিট তাকে নামানো হতে পারে। তবে সম্ভবত এই ম্যাচে প্রথম থেকে শুরু করবেন সাহাল আব্দুল সামাদ। তার মত বল ধরে খেলার ক্ষমতা এই মোহনবাগান দলে খুব বেশি প্লেয়ারের নেই। পাশাপাশি দীপক এবং ডিফেন্সে রাহুল ভেকের ওপর অনেকটাই নির্ভর করে দল। ডিফেন্ডার আলবার্তো নির্ভরতা দিচ্ছেন। অভিষেক সিং লড়াই করছেন। ধীরে ধীরে নিজের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন মোহনবাগানের ঘরের ছেলে মনবীর সিং। শেষ ম্যাচে যেভাবে তিনি গোলটা করেছেন তার তারিফ করতেই হয়। তবে গোলটার পেছনে নিখুঁত সেন্টার ছিল লিস্টন কোলাসোর। এই গোয়ান ফুটবলার নিজের ছন্দ ফিরে পেলে মোহনবাগানের আক্রমণ ভাগ অনেকটাই ধারালো হয়ে উঠবে। তাই পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মোহনবাগান সমর্থকদের প্রার্থনা নিজের ছন্দ ফিরে পান কোলাসো। অনুশীলনে দেখা গেল মোহনবাগানের কোচ সেট পিস ডেলিভারির ওপর জোর দিচ্ছেন। কয়েক রকম ভ্যারিয়েশন চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা। উইং প্লে ব্যবহার করলে গোল পাওয়া সহজ হয় এটা প্রমাণিত হয়েছে গত ম্যাচে। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধেও সেই উইং প্লে যাতে আরও ধারালো হয় সেই চেষ্টা চলল। আগের ম্যাচে একেবারেই খেলতে পারেনি মাঝ মাঠের অন্যতম ভরসা এবং ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে শিল্ড ফাইনালে গোল করা সামির। তাই শনিবার নিজের পুরনো দলের বিরুদ্ধে তার দিকে নজর থাকবে সকলের। পাশাপাশি সার্বিয়ার দেজন ড্রজিচ উইং থেকে কয়েকটা ভালো বল বাড়াতে পারলে বিপক্ষ ডিফেন্ডারদের চাপে রাখা যাবে। তাই ছোট করে এটাই বলা যায় মোহনবাগান দলের ওপর চাপ অবশ্যই আছে। কিন্তু তার অ্যান্টিডট খুঁজে পেতে মরিয়া ফুটবলার এবং কোচ। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে মাঠে সেটা কতটা কার্যকর করতে পারে সবুজ মেরুন সেটাই দেখার।
আজ ইন্ডিয়ান সুপার লিগে
মোহনবাগান বনাম পাঞ্জাব এফসি (যুবভারতী, সন্ধ্যা ৭:৩০)
আজ মোহনবাগানের সামনে পাঞ্জাব, ৩ পয়েন্টের ব্লু প্রিন্ট রেডি পানোসের
- khabar365din
- October 30, 2026
- 2:54 pm
- No Comments






