৩৬৫ দিন। জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে পথে নেমেছেন রাহুল গাঁধী। কখনও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কখনও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিঁধছেন। মঙ্গলবার নিজের দিল্লির বাড়িতে বিরোধী নেতাদের নিয়ে চা-চক্রের পরে রাহুল যখন হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন মোদী সরকারকে, তখন গাঁধীনগর-সহ গুজরাতের বিভিন্ন পুরসভার নির্বাচনে কংগ্রেসের হার নিয়ে পাল্টা তাঁকেই কটাক্ষ করলেন শাহ। তাঁর খোঁচা, এই হারের জন্যও কি কংগ্রেস এসআইআর (ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন)-কেই দায়ী করবে! শাহ আরও জানান, ২০২৪ সালের পর থেকে দেশে এসআইআর শুরু হয়েছে। কিন্তু রাহুল যবে থেকে রাজনীতি করছেন, তবে থেকে কংগ্রেস ভোটে হারছে। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে হারের জন্যও রাহুলকে প্রস্তুত থাকতে বলেছেন শাহ। আর এই হার নিয়ে আত্মসমীক্ষাও করতে বলেছেন। গাঁধীনগর পুরসভায় ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জিতেছে বিজেপি। শাহের লোকসভা কেন্দ্রের অধীনে রয়েছে সেই পুরসভা। ঠারা, ওখা পুরসভাও দখলে রেখেছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গ তুলেই শাহের খোঁচা, রাহুল আসলে নিজের এবং কংগ্রেসের ব্যর্থতা ঢাকতে এসআইআর-কে হাতিয়ার করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘গুজরাতে
বিজেপির এই বিপুল জয় আসলে ভোটারদের মানসিকতা তুলে ধরেছে। শুধু গুজরাত নয়, গোটা দেশের ভোটারই এখন নরেন্দ্র মোদীর পিছনে কঠিন শিলার মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।’’ শাহ সেখানেই থামেননি। তিনি আরও বলেন, ‘‘গত নির্বাচনের তুলনায় গাঁধীনগরে বিজেপির ভোট বেড়েছে ১০ শতাংশ। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, চাই যে রাহুলের কানে কথাটা যাক যে, গত ৪১ বছরে কংগ্রেস এখানে একটা ভোটও
জেতেনি।’’ রাহুলের উদ্দেশে শাহের প্রশ্ন, গুজরাতের পুরনির্বাচনে এই হারের জন্যও কি এসআইআর-কেই দায়ী করবেন রাহুল? তাঁর কথায়, ‘‘বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তাও কি খারিজ করবেন রাহুল? আপনার আত্মসমীক্ষা করা দরকার। এক কালে যে সব রাজ্যে
আপনারা ক্ষমতায় ছিলেন, সেখানে গত ৪১ বছরে একটি ভোটেও জিততে পারেননি।’’ শাহ মনে করিয়েছেন, সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু, পুদুচেরিতে উপনির্বাচন হয়েছে। একটিতেও জেতেনি কংগ্রেস। রাহুলকে ‘মিথ্যাবাদী’ বলেও কটাক্ষ করেছেন শাহ। তাঁর কটাক্ষ, ভোটে হারের জন্য এসআইআর-কে হাতিয়ার করেছেন রাহুল। ২০২৯ সালের লোকসভায় হারের প্রস্তুতিও এখন থেকেই নেওয়া উচিত কংগ্রেসের। চতুর্থ বার লোকসভায় হারের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত রাহুলের। মনে করা হচ্ছে, রাহুলের নেতৃত্বে লোকসভা ভোটে কংগ্রেসের বার বার হার নিয়েই কটাক্ষ করেছেন তিনি।নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ বাড়াতেই সোমবার রাহুলের বাড়িতে চা-চক্রে বসেন বিরোধী নেতারা।
ছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও। সেই বৈঠক শেষেই রাহুল জানান, প্রধানমন্ত্রী মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ, জ্ঞানেশদের ঘিরে ‘জাল গুটিয়ে আসছে’। লোকসভার বিরোধী দলনেতার সঙ্গেই গলা মিলিয়ে একই বার্তা দিয়েছেন নেহা বোরা, তেজস্বী যাদব, সুপ্রিয়া সুলে, সঞ্জয় রাউত, সাগরিকা ঘোষেরাও। সেই নিয়েও রাহুলকে কটাক্ষ করেছেন শাহ। তিনি বলেন, ‘‘দেশের মানুষের কণ্ঠ
আসলে রয়েছে মাঠে, খামারে, গ্রামে, পাহাড়ে, জঙ্গলে। সেখানে কংগ্রেসের পৌঁছোনোর ক্ষমতা নেই। এই নেতিবাচক রাজনীতি তাদের কোনও সুবিধা করে দেবে না।’’ রাহুলকে মঙ্গলবার নিশানা করেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গয়াল। তাঁর দাবি, রাহুল নিজেই তাঁর দল কংগ্রেসের জন্য সবচেয়ে বড় ‘বিপদের লক্ষণ’। অতীতে নির্বাচন কমিশনারদের নিয়ে কংগ্রেস কী পদক্ষেপ করেছে, তা-ও তুলে ধরেছেন পীযূষ। তাঁর কটাক্ষ, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে এখন কংগ্রেস প্রশ্ন তুলছে, অথচ নিজেরা কী করেছে, তা ভুলে গিয়েছে।
‘২৯ শে হারার জন্য প্রস্তুত হয়ে থাকুন’ রাহুলকে হুঁশিয়ারি শাহের
- khabar365din
- October 14, 2026
- 2:43 pm
- No Comments




