সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে মৃত্যু চারজনের

৩৬৫ দিন।অশোক কুমার মণ্ডল। পশ্চিম মেদিনীপুর। পশ্চিম মেদিনীপুরের মোহনপুর থানার আঁতলা সংলগ্ন বাদশা পুর গ্রামে গ্সেপটিক ট্যাংকে নেমে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় চরম বিপর্যয় নেমে এল। বুধবার বোনের বাড়িতে সেপটিক ট্যাংকের কাজ করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত ভেতরে পড়ে যান ৪৫ বছর বয়সে বদির মল্লিক। ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে তাঁকে উদ্ধার করতে গিয়ে ভেতরে নামেন বোন ৩৮ বছর বয়সী সারজিনা বিবি, ভাগ্নে ২৫ বছর বয়সি শেখ রবিউল এবং প্রতিবেশী ২৭ বছর বয়সী আত্মীয় শেখ সাহেব।
ট্যাংকের ভেতর জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের কবলে পড়ে এই চার জনেরই মর্মান্তিক পরিণতি ঘটে। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শেখ আবুকালাম নামে আরও এক ব্যক্তি। খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় ৫ জনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাদেরকে দেখার পর ডাক্তার বাবুরা চারজনকে মৃত বলে ঘোষণা করে। অসুস্থ অবস্থায় একজনের চিকিৎসা চলছে। মোহনপুর থানার পুলিশ চারজনের মৃত দেহ উদ্ধার করে বুধবার ময়না তদন্তের জন্য পাঠায় খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে । সেইসঙ্গে ঠিক কি কারণে মর্মান্তিক ওই ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। যার ফলে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তবে একই পরিবারের চারজনের মৃত্যুর ঘটনায় রীতিমতো এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসার পাশাপাশি সরবুল পড়ে গিয়েছে। কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশ তদন্তের কাজ শুরু করেছে।। পুলিশের পক্ষ থেকে আরো জানানো হয় যে মৃতদেহ গুলির ময়না তদন্তের পর রিপোর্ট এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। দূর্গা পূজার সময় মোহনপুরে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটায় গোটা মহনপুর ব্লক জুড়ে বুধবার শোকের ছায়া নেমে আসে। একদিকে উড়িষ্যা রাজ্য অপরদিকে পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার মোহনপুর থানা এলাকা। তাই সীমান্তবর্তী ওই গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তে পার্শ্ববর্তী দুই রাজ্যের গ্রাম গুলির বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিড় জমায় এবং মৃতদের পরিবারবর্গ কে সমালোচনা জানান। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মৃতদের পরিবারগুলিকে সমবেদনা জানানো হয় এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়।

Scroll to Top