৩৬৫ দিন। পেশায় অধ্যাপক, তবে তার পরিচয় গড়ে দিয়েছে সাহিত্য। মূলত কবিতার মাধ্যমে নিজের মৌলিক স্বর পৌছে দিয়েছেন পাঠকদের কাছে, পাশাপাশি গদ্য, প্রবন্ধ, এমনকি অনুবাদেও সাবলীল কানাডার কবি অ্যান কারসন। এবছরের সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিনি। অ্যানে স্রেফ কবি নন, তিনি প্রবন্ধ লেখেন। প্রাচীন গ্রিক সাহিত্য নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। অনুবাদক হিসাবেও প্রসিদ্ধ এবছরের নোবেলজয়ী। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে নোবেলজয়ীর নাম ঘোষণা করেছে নোবেল কমিটি। তাদের তরফ থেকে বলা হয়, অ্যানের ছকভাঙা এবং উদ্ভাবনী সাহিত্যকে সম্মান জানিয়ে এই পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়েছে। চিরাচরিত প্রথার সীমানায় নিজের লেখনী আটকে না রেখে সাহিত্যে নতুন ফর্ম উদ্ভাবন করেছেন। প্রথার সঙ্গে মিলিয়েছেন নিজস্ব সাহিত্য ভাবনা।
সুইডিশ অ্যাকাডেমির বক্তব্য অনুযায়ী, কারসনের সাহিত্যকর্মে প্রাচীন ধ্রুপদী ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সাহিত্যিক ভাবনার এক অভিনব সংলাপ তৈরি হয়েছে। তাঁর লেখার এই সাহসী ও সৃজনশীল বৈশিষ্ট্যই তাঁকে এবারের নোবেল পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যানের সাহিত্যে বরাবর দেখা গিয়েছে তাঁর সত্ত্বার ‘সংঘাত’। একদিকে তিনি অধ্যাপক, শব্দ নিয়ে খুঁতখুঁতানি রয়েছে। অন্যদিকে কবির মন চায় স্বাধীনতা, নতুন মানে খোঁজার নেশা। এই দুই সত্ত্বা মিলেই অ্যানের লেখনী হয়ে উঠেছে অসামান্য।১৯৫০ সালে অ্যানের জন্ম কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টোয়। সেখানেই কর্মজীবন। প্রাচীন সাহিত্যের অধ্যাপনা করতে করতেই লেখালেখি শুরু। প্রথমটায় অনুবাদ করতেন। সেই প্রাচীন সাহিত্যের অনুবাদেও নিজের আধুনিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন অ্যান। তারপর শুরু করেন নিজের সৃষ্টি। ১৯৯৮ সালে অটোবায়োগ্রাফি অফ রেড নামে পদ্যের ধাঁচে উপন্যাস লেখেন অ্যানে। সেখান থেকেই তাঁর পরিচিতি বাড়তে থাকে পাঠকমহলে।তবে ৭৬ বছর বয়সে এসে খ্যাতির ভিড় আর ভালো লাগে না অ্যানের। তাই কানাডার পাশাপাশি নিয়েছেন আইসল্যান্ডের নাগরিকত্বও। অ্যান এখন বসবাস করছেন আইসল্যান্ডেই। তবে কানাডার নাগরিক হিসাবেই নোবেল পেলেন অ্যানে।২০২৬ সালের সাহিত্যে নোবেল পাওয়ার আগে অ্যান কারসনের নাম সম্ভাব্য বিজয়ীদের তালিকাতেও জোরালোভাবে উঠে এসেছিল। তবে সুইডিশ অ্যাকাডেমির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও সরকারি শর্টলিস্ট প্রকাশ করা হয়নি। সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারের সঙ্গে অ্যান কারসন এবার যোগ দিলেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ সাহিত্যিকদের তালিকায়।





