৩৬৫ দিন। ২৭ লক্ষ ভোটারের নাম অ্যাডজুডিকেশনে রয়েছে। তার জন্য ইলেকশন কমিশন বা বিজেপি দায়ী নয়। এর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী। ৭ লক্ষ মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটার নিয়ে তো কোনও অভিযোগ নেই। সুপ্রিম কোর্টে কে যেতে বলেছিল ওঁকে? এভাবেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনের ফল ঘোষণার দিন সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া নিয়ে বিরোধীদের প্রচারের জবাব দিতে গিয়ে মমতাকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রেজিনগরে ৭২ শতাংশের বেশি ভোট বিজেপি পাওয়ার পিছনে এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটারের নাম বাদ যাওয়া অন্যতম কারণ কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকেই দায়ী করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
সেইসঙ্গে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা মহিলাদের একাউন্টের পাঠানোর জন্য বিজেপি সরকারের সমর্থনে মহিলারা বিপুল সংখ্যায় ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করে তিনি বলেন, বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাব নন্দীগ্রামের 70 হাজার 300 এবং রেজিনগরে প্রায় 70 হাজার অন্নপূর্ণা যোজনা প্রাপক মহিলাদের। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে তাঁরা সপরিবারে ভারতীয় জনতা পার্টিকে ভোট দিয়েছেন।
বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা
নন্দীগ্রাম এবং রেজিনগরের বিপুল সংখ্যক সংখ্যালঘু ভোটার এবারে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের বন্ধুত্বের হাত ধরেছেন সংখ্যালঘুরা, সরকারের সঙ্গে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে বন্ধুত্ব করতে চান, আমি খুশি। আমার সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা মুখ ঘুরিয়ে থাকবেন? কোনও লাভ হবে। এই তো সুযোগ বন্ধুত্ব করার। এর থেকে ভালো সুযোগ আর পাবেন না। সবার কল্যাণের জন্য কাজ করব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবার জন্য কাজ করে, মুখ্যমন্ত্রীও সবার জন্য কাজ করবে।
নন্দীগ্রামের জয় প্রসঙ্গে
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর জয় প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টিকে জিতিয়েছিলেন ফলতার মানুষ। তারপর দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচন ছিল। এই উপনির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ভোটে নন্দীগ্রাম থেকে অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে হাসিরানি রথ বিপুল সংখ্যক ভোটে জয়যুক্ত হয়েছেন। ২০২১ সালের পর প্রথম নন্দীগ্রামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ৬০টি বুথে ভারতীয় জনতা পার্টি লিড নিয়েছে। আমরা সরকারের সঙ্গে থেকে থেকে উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হওয়ার যে আবেদন করেছিলাম, তা গ্রহণ করেছেন।
রেজিনগরের জয় প্রত্যাশিত ছিল
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ভোট দেওয়ার তো কোনও প্রয়োজনই ছিল না। তিনি জানতেন, রেজিনগর থেকে বিজেপিই জিতবে। এই বিষয়ে বলেন, কী দরকার ভোট দেওয়ার? আমি তো যেদিন প্রচারে গিয়েছিলাম, শাখারভকে বলে এসেছিলাম আপনি ৫০ হাজার ভোটে জিতবেন। বলে এসছিলাম তোমার সঙ্গে আমার বিধানসভায় দেখা হবে।
আর জি কর ভাঙচুর মমতার নির্দেশে
আজ আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে সংঘ পরিবারের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ-এর ডাক্তারি পড়ুয়াদের সর্বভারতীয় সম্মেলনে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই হাসপাতালে ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার ৫ দিন পর একদল তৃণমূল দুষ্কৃতী কলকাতা পুলিসের সাহায্যে আরজি করে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ইশারায় হামলা চালিয়েছিল দুষ্কৃতীরা। সিবিআই চার্জশিট দেওয়ার জন্য দেড় বছর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ফাইল পড়েছিল। আমি দ্রুততার সঙ্গে সেই ফাইল রিলিজ করেছি।
কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ভোটের প্রস্তুতি শুরু
পশ্চিমবঙ্গের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে খুব তাড়াতাড়ি ছাত্র সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করা হচ্ছে বলে আজ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়ে দেন, বিগত তৃণমূল জামানায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলির ছাত্র ভোট এ বার ফের চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী জানান, পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বে থাকা এবিভিপি পর্যবেক্ষকের সঙ্গে এই বিষয়ে তাঁর ইতিমধ্যেই ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। নিজের রাজনৈতিক জীবনের গোড়ার কথা মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, আমরা সকলেই ছাত্র রাজনীতির ফসল। ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের মাঝে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা করতে করতেই আজ এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি।
দিমাগি নকশালদের বেছে বেছে ধ্বংস করতে হবে
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সুরে সুর মিলিয়ে দিমাগী নকশালদের আক্রমণ করে শুভেন্দু বলেন, যাদবপুরে মিছিল করে আজাদি আজাদি স্লোগান দেওয়া হচ্ছে। কিসের আজাদি? কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি! কান খুলে শুনে নিন, যে কাশ্মীরের মাটিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু, সেই কাশ্মীর আমাদেরই। কমিউনিস্ট, দিমাগি নকশাল, দেশবিরোধী শক্তিদের বেছে বেছে ধ্বংস করতে হবে। সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ আর রাষ্ট্রবাদীদের আওয়াজ বন্দে মাতরম শোনা যাবে।





