৩৬৫ দিন। আমি বিকাশদার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। আমি আজ এখানে থাকলে হয়ত যেতাম, আমি বলেছি ফিরে এসে আমি যাব। এই অ্যাটাক আমরা মানছি না। সে যে পার্টিই করুক না কেন। কোনও অ্যাটাক আমরা মানব না। সিপিএমের আইনজীবী নেতা তথা প্রাক্তন রাজ্যসভার সংসদ বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে হামলার ঘটনায় এভাবেই তীব্র নিন্দা জানিয়ে তাঁকে ফোন করে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সম্প্রতি সিপিএমের সর্বভারতীয় সম্পাদক এম এ বেবি একজোট হয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে মমতাকে চিঠি লেখার পাশাপাশি মমতা এবং বেবির মধ্যে ফোনালাপের প্রেক্ষিতে এবার সিপিএম নেতা বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের উপরে আক্রমণের ঘটনায় মমতার এভাবে প্রকাশ্যে সরব হওয়া রাজনৈতিকভাবে রীতিমতো তাৎপর্যপূর্ণ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানোর পাশাপাশি বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এসআইআর প্রক্রিয়া সহ একাধিক বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে যে অভিযোগ উঠেছে তার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইন্ডিয়া জোটের প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে দেখা করার জন্য আজ দিল্লি যাওয়ার পথে বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে এ কথা জানান মমতা।
আজ ভোরবেলা সিপিআইএম নেতা এবং প্রাক্তন সাংসদ বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে দুষ্কতী হামলার অভিযোগ। রাস্তা থেকে কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী সিপিএমের আইনজীবী নেতার বাড়ি লক্ষ্য করে বিয়ারের বোতল ছোঁড়ে বলে অভিযোগ। এই হামলায় বাড়ির ৩ জায়গায় কাঁচের জানলা ভেঙে গিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তারপরেই তীব্র প্রতিবাদে সরব হন মমতা। বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে আক্রমণের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মমতা লিখেছেন, বারুইপুর আদালত, ব্যাঙ্কশাল আদালত, চন্দননগর এবং সালবনির পর আজ ফের একটি নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটল। এবার কলকাতায় প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের বাড়িতে। ভিডিওতে ধরা পড়া প্রমাণ থেকেই স্পষ্ট, পশ্চিমবঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এই হামলাকারীদের কতটা ঔদ্ধত্য রয়েছে। আইনজীবী সমাজের উপর এ ধরনের ধারাবাহিক হামলার আমি তীব্র নিন্দা জানাই।
তবে ২০১১ সালে সিপিএম সরকারের অবসান ঘটিয়ে মমতা মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে গত 15 বছরে বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের সঙ্গে তার রাজনৈতিক মতপার্থক্য এবং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা লিখেছেন, এটা ঠিক যে, গত ১৫ বছরে বিকাশদা এবং আমরা অনেক সময়ই আদর্শগত ও আইনি অবস্থানের দিক থেকে ভিন্ন মেরুতে থেকেছি। কিন্তু শালীনতার সীমা কখনও অতিক্রম করা হয়নি। সংবিধান এবং বিচারব্যবস্থার প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। কিন্তু আজ সংসদ থেকে বিধানসভা, স্থানীয় প্রশাসন থেকে আদালত-সর্বত্রই ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে দমন করা হচ্ছে। একজন আইনজীবী হিসেবে এই ঘটনার প্রতি সংহতি জানাতে গিয়ে আমি ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। তবে রাজনৈতিক বিশ্বাস নির্বিশেষে আইনজীবীদের ঐক্যের ডাক দিতে আমি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমাদের সংবিধান, বার, বেঞ্চ, রাজ্য এবং সর্বোপরি আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি-আমাদের ভারতকে রক্ষা করতে হবে।
বিকাশের ঘটনায় রাজ্যের জবাব তলব হাইকোর্টের
সিপিএম নেতা হওয়ার পাশাপাশি প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের উপরে যেভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে তা উল্লেখ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন জানালেন তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আদালতে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমরা যারা রাজ্য সরকারের বিরোধিতা করছি, তারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। পুলিশ ও গোয়েন্দারা কী করছেন? নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সিজ ওয়ার্ক বা কর্মবিরতির প্রস্তাব দেন। আইনজীবীদের নিরাপত্তার প্রশ্নে প্রধান বিচারপতি বিচার ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের বিচার ব্যবস্থার ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। প্রত্যেকের বাড়িতে পুলিশ বসানো সম্ভব নয়, তবে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন এবং হাইকোর্টের নিরাপত্তা বাড়ানো যেতে পারে। প্রধান বিচারপতি আর ভি ঘুঘে নির্দেশ দেন, বিরোধী আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনায় আজ পর্যন্ত কী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাজ্যকে বিস্তারিত রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন মমতা
মুখ্য নির্বাচন কমিশনের পর থেকে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি রাষ্ট্রপতির কাছে সাক্ষাতের সময় চেয়েছে ইতিমধ্যেই। রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্রে জানা গিয়েছে রাষ্ট্রপতি আগামীকাল ইন্ডিয়া জোটের এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আর ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলির সর্বসম্মতিক্রমে প্রতিনিধি দলের অন্যতম সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম। আর দিল্লি রওনা হওয়ার আগে মমতা বলেন, আমাকে যেতে বলা হয়েছে, তাই আমি যাচ্ছি। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য ইন্ডিয়া জোটের নেতাদের পক্ষ থেকে সময় চাওয়া হয়েছে। সেই তালিকায় আমার নামও রয়েছে। প্রথমে আমি ভেবেছিলাম, আমি যাব না, অভিষেককে পাঠাব। কিন্তু তাঁরা আমাকে যেতে অনুরোধ করেছেন এবং আমার নামও পাঠানো হয়েছে। যেহেতু আন্দোলন চলছে, তাই এই পরিস্থিতিতে আমি যদি তাঁদের পাশে না থাকি, সেটা ঠিক দেখাবে না। বিশেষ করে বাংলার মানুষও চাইছেন আমি যাই।





