পুজোর আগেই শিক্ষক ও সরকারি কর্মীরা ২০ শতাংশ বাড়তি ডিএ-সহ আগাম বেতন পাবেন- মালদহ সফরে গিয়ে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

৩৬৫ দিন। পুজোর আগে পুলিশকর্মী, সরকারি কর্মী, শিক্ষকরা ২০ শতাংশ বাড়তি ডিএ-সহ আগাম বেতন পেয়ে যাবেন। আজ মালদহ সফরে গিয়ে রাজ্যের সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে এমন ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই সঙ্গে সম্প্রতি অতিবৃষ্টি এবং বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হেলিকপ্টার থেকে পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ‌মালদার বন্যা ও ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী জানান, বন্যা ও ভাঙনে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকদের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য দেওয়া হবে ৯০ হাজার টাকা।
আগামী দিনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায় মালদহের প্রত্যন্ত 29 গ্রামকে ভাইব্রান্ট ভিলেজ বানানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২৯ ভাইব্র‍্যান্ট ভিলেজ হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সহযোগিতায়৷ এক লক্ষ নিয়োগ আমরা করবই। পিএম কিষাণে ৯০০০ টাকা পাবেন। অগাস্ট মাস থেকে বার্ধক্য, বিধবা ভাতা ১৫০০ করে নিতে পারবেন। যাঁরা নেবেন না তারা বিডিওকে জানিয়ে অন্নপূর্ণা ভান্ডারে টাকা নিন। শুধুমাত্র দিব্যাঙ্গ যাঁরা তাঁদের আমরা ৩০০০ এবং ১৫০০, অর্থাৎ মোট ৪৫০০ করে দেব৷ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ৫ হাজার পরিবারকে নতুন পোশাক, মশারি, ত্রিপল দেওয়া হবে। এই জেলায় গঙ্গা-ভাঙনের বাইরেও স্ব-জনগণনায় গোটা দেশের মধ্যে প্রথম হয়েছে। মালদায় ১০০ কোটি টাকায় আমের প্রসেসিং ইউনিট তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ৫ বছর এখানে কোনও রাস্তা সারানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। হাসপাতালে ৩ বেলা খাবারের রেট ছিল ৫৬ টাকা ২৫ পয়সা। যাঁরা আয়ুষ্মানে আসতে পারবেন না, একই সুবিধার মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্যবিমায় নাম নথিবদ্ধ করবেন। আমরা সারা ভারতে ৩৮ হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছি।
মালদহের ভূতনিতে বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে মোট ২৪২ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতিপূরণের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেখানেই পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে মিথ্যে প্রচারের অভিযোগ তুলে বলেন, গত সরকার ৬৭ হাজার ১১৩ জনকে প্রথম কিস্তির টাকা দিয়েছিল। আমরা ভেরিফিকেশনের পর ৫৬ হাজার ৭৬০টি পরিবারকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা দিয়েছি। আপনাদের বলা হয়েছিল না, বিজেপি ক্ষমতায় আসলে আবাসের টাকা মিলবে না। আমরা কোনও ভেদাভেদ করিনি। যাঁরা ঘর তৈরি করেছেন তাঁদের দিয়েছি। তবে যারা যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন বিগত সরকারের আমলে তাদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, টাকা ফেরত দিতে হবে। জেলেও যেতে হবে। ভাববেন না পাঁচ মাস পেরিয়ে গিয়েছি, ভুলে গিয়েছি। জেলের ভিতরে ঢোকাব। পাশাপাশি সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিকত্বের জন্য জেলাশাসকের কাছে আবেদন করলেই সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে বলে আশ্বাস দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিএএ সার্টিফিকেট এখন জেলাশাসকরাই দিয়ে দেবেন। যাঁরা আবেদন করেননি, দ্রুত আবেদন করুন, দ্রুত সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। আমি বেঁচে থাকতে আর কালিয়াচক, মোথাবাড়ি হতে দেব না। মিলে মিশে থাকুন, উন্নয়নের সব অধিকার পাবেন। মালদহ জুড়ে নাবালিকা বিবাহের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি ধর্ম পরিবর্তনের অভিযোগ কানে আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের থেকে দু’টি জিনিস চাইব। ১৮ বছরের আগে কোনও বোনের বিয়ে দেবেন না তো? ১২-১৪ বছরের মেয়েগুলো মা হচ্ছে। ভয়ংকর পরিস্থিতি। সমাজসংস্কার করতে হবে। ধর্ম পরিবর্তন করবেন না। মালদহে আমার আমলে ধর্ম পরিবর্তন হলে আমার থেকে খারাপ কেউ হবে না।

Scroll to Top