কল্যাণী বিমানবন্দর আদানিরা নেবেন

পূষন গুপ্ত

প্রস্তাবনা 
বামফ্রন্ট সরকারের শেষ পর্যায়ে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ওপর পার্টির চাপ আসতে থাকে—এবার রাজ্যে শিল্প স্থাপন না করলে, বেকাররা চাকরি না পেলে, জিডিপি গ্রোথ বাড়াতে না পারলে ভোট পাওয়া যাবে না। মুশকিল হল দুটি—প্রথমত, ততদিনে অনেক দেরি হয়ে গেছে। লাল ঝান্ডা উড়িয়ে কারখানা বন্ধ করে দেওয়াটাই যাঁদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল, সেইসব ধর্মঘটে দিনু প্রাণদের মাহাত্ম্যই পাল্টানো এত সোজা ছিল না।দ্বিতীয়ত, কোনও পুঁজিপতিকেই আর বিশ্বাস করানো সম্ভব ছিল না যে এ রাজ্যে ম্যানেজমেন্টকে সহযোগিতা করে প্রকৃত শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরি করা যাবে। টাটা একটা পরীক্ষামূলক প্রকল্প নিয়ে এসেছিল বটে, কিন্তু উভয় পক্ষের কোনও সঠিক দিশা না থাকায় এবং বামপন্থী নীতির গোলকধাঁধায় ঢুকে পড়ায় সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম নামক দুটি ভয়াবহ কবর তৈরি হল বামফ্রন্ট সরকারের জন্য। ন্যানো প্রকল্পটি কেন গোড়া থেকেই ফ্লপ ছিল, তা গুজরাটে প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। বামফ্রন্টের শিল্পায়নের চেষ্টাই বামফ্রন্টের পতনের অন্যতম কারণ। বুদ্ধবাবু সরকার এবং পার্টি দুটোকেই ডোবালেন। বিধানচন্দ্র রায় থেকে শুরু করলে তিনিই এখনও পর্যন্ত বাংলার সবচেয়ে ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যে পুঁজি ও হ্যান্ডলুমের ব্যাপক প্রয়োজন—তা জানতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ক্ষমতায় এসেই। একটি শিল্প সম্মেলন হয়েছে, দেশে ও বিদেশের বহু শিল্পপতি অংশও নিয়েছেন, কিন্তু প্রয়োজনীয় সাফল্য আসেনি। টাটা গোষ্ঠীকে দেখিয়ে দেওয়ার জন্য একটি মোটর গাড়ি কোম্পানির প্রয়োজন ছিল। জার্মানিতে বিএমডব্লিউ কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিক স্তরে বৈঠক এবং ভিয়েতনামের ‘ভিন ফাস্ট’ কোম্পানির সঙ্গে কথাবার্তাও এগিয়েছিল। কিন্তু ভিন ফাস্ট তামিলনাড়ুতে গিয়ে কারখানা করে।
এই অসাফল্যের পিছনে মূল কারণ ছিল কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক বৈরিতা। ভারতের ফেডারেল কাঠামো এমনই যে, কেন্দ্রের সঙ্গে সখ্যতা ও সহযোগিতা না থাকলে রাজ্যের পক্ষে এককভাবে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে নবজাতক শুভেন্দু বাবুর সরকার যেহেতু ডবল ইঞ্জিন, তাই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার—ধরে নেওয়া যায়। মুম্বই শিল্পমহল থেকে আমি যে খবর পেলাম, তা হল গত তিন দিনে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে (সিভিল অ্যাভিয়েশন) নীতিগত একটি জরুরি ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, যে গোষ্ঠী বিমানবন্দর পরিচালনা করছেন, তাঁরা অনায়াসেই বিমান পরিবহনেও আসতে পারবেন। এ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে বিস্তর টালবাহানা ছিল। একদল মনে করছিলেন, বিমানবন্দর পরিচালনা যে গোষ্ঠী করছিলেন, তার হাতে বিমান পরিবহনের দায়িত্ব এলে মনোপলি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, অন্য বিমান সংস্থা সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এই আশঙ্কা যে ভুল, কেন্দ্র প্রমাণ করে দিল।
অর্থাৎ আদানি গোষ্ঠী—যারা বিমান পরিবহণ ব্যবসায় আসার জন্য প্রায় তৈরি হয়ে আছে—তাদের দরজা খুলে গেল। ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে বোয়িং ও এয়ারবাস সংস্থার প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। দেশে একই বিমান পরিবহণের অবস্থা কাহিল। একটি-একটি করে বিমান সংস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছে গত ১০/১৫ বছরে। জেট, কিংফিশারের মতো উচ্চমাপের বিমান পরিবহণও আর্থিক দুরবস্থা বা ভুল পরিচালনার ফলে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। স্পাইসজেট চলছে টিমটিম করে। বস্তুত এয়ার ইন্ডিয়া (টাটা গোষ্ঠী) আর ইন্ডিগোর হাতে শতকরা ৯০ ভাগের বেশি পরিবহণ ব্যবস্থা। এটি কোনও সুস্থতার লক্ষণ নয়। এই অবস্থা যত দ্রুত পরিবর্তন হয় ততই ভালো। সিভিল অ্যাভিয়েশনের মতে, দেশে অন্তত স্টেডি ৫ বিমান পরিবহণ সংস্থা থাকা দরকার।পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে সুখবর। কিন্তু কথা হল—এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের কী লাভ হল? প্রসঙ্গত, আন্দাজে প্রায় ১০ বছর আগে একটি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরি হয়ে গিয়েছে। বেঙ্গল এয়ারট্রোপলিসের উদ্যোগে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি গোষ্ঠীর সহযোগিতায়, রাজ্য সরকারের দেওয়া জমিতে বিমানবন্দরটি গড়ে ওঠে। কিন্তু বিমান চলাচলের ব্যাপারে প্রকল্পটি সফল হল না। চাঙ্গি গোষ্ঠী সরে গেল, দেশীয় গোষ্ঠীটিও চালাতে ব্যর্থ হল।
এখনও মুম্বই থেকে একটি-দুটি সার্ভিস চলে বটে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর হয়ে উঠল না। কেন্দ্রের আগ্রহও ছিল না। দমদম বিমানবন্দরের করুণ হাল, জায়গা কম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার খারাপ। এই অবস্থায় কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানবন্দরটি গড়ে তোলার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছিল বটে, কিন্তু কাজ এগোয়নি। কল্যাণী না ভাগড়া—এ নিয়েও রাজ্য-কেন্দ্র বিতর্ক চলেছে প্রচুর। এবার নতুন রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণের পথে হেঁটেছেন। মুম্বই শিল্পমহল সূত্রে খবর পেলাম—কল্যাণী বিমানবন্দর আদানি গোষ্ঠী অধিগ্রহণ করবেন। এটি অতীব সুখের কথা। হাইওয়ে ইত্যাদির ফলে কলকাতা-কল্যাণী দেড় ঘণ্টা, নিউটাউন থেকে ৪৫ মিনিটের বেশি লাগা উচিত নয়।
সরকারি মালিকানায় বিমানবন্দর থাকলে তার উন্নতি অসম্ভব—এটা প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। আদানি গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিমানবন্দর নিয়েছেন। কল্যাণী তাদের হাতে গেলে একটি প্রকৃত কর্পোরেট পরিচালনা যাত্রীদের ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতির মানচিত্র স্বাস্থ্যকর করবে।কারখানা করে। এই অসাফল্যের পিছনে মূল কারণ ছিল, কেন্দ্র রাজ্যের মধ্যে রাজনৈতিক দ্বৈরথ ভারতের ফেডারেল স্ট্রাকচার এমনই যে, কেন্দ্রের সঙ্গে সখ্যতা ও সহযোগিতা না থাকলে রাজ্যের পক্ষে এককভাবে দেশীয় বা আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যবসা করা প্রায় অসম্ভব। বর্তমানে নবজাতক শুভেন্দুবাবুর সরকার যেহেতু ডবল ইঞ্জিন, তাই রাজ্যের বিজেপি সরকারকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসবে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার, ধরে নেওয়া যায়। মুম্বই শিল্পমহল থেকে আমি যা খবর পেলাম, তা হল গত ৩ দিনে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে (সিভিল অ্যাভিয়েশন) নীতিগত একটি জরুরি ঘোষণা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে, যে গোষ্ঠী বিমানবন্দর পরিচালনা করছেন তারা অনায়াসেই বিমান পরিবহনেও আসতে পারেন। এ নিয়ে কিন্তু গত বছরখানেক ধরে বিস্তার টালবাহানা ছিল। একদল মনে করছিলেন বিমানবন্দর পরিচালনা যে গোষ্ঠী করছিলেন, তার হাতে বিমান পরিষেবার দায়িত্ব এলে মনোপলি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে, অন্য বিমান গোষ্ঠী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। এই আশঙ্কা যে ভুল কেন্দ্র প্রমাণ করে দিল। অর্থাৎ আদানি গোষ্ঠী, যারা বিমান পরিবহণ ব্যবসায় আসার জন্য প্রায় তৈরি হয়ে আছে, তাদের দরজা খুলে গেল। ইতিমধ্যেই তাদের সঙ্গে বোয়িং ও এয়ারবাস সংস্থার প্রাথমিক কথাবার্তা হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। দেশে একেই বিমান পরিবহনের অবস্থা কাহিল। একটির পর একটি বিমান সংস্থা বন্ধ হয়েছে গত ১০/১৫ বছরে। জেট, কিংফিশারের মতো উঁচুমাপের বিমান পরিবহনও আর্থিক দুরাবস্থা বা ভুল পরিচালনার ফলে বন্ধ হয়েছে। স্পাইসজেট চলছে টিমটিম করে। বস্তুত এয়ার ইন্ডিয়া (টাটা গোষ্ঠী) আর ইন্ডিগোর হাতে শতকরা ৯০ ভাগের বেশি পরিবহণ ব্যবস্থা। এটি কোনও স্বাস্থ্যের লক্ষণ নয়। এই অবস্থা যত পরিবর্তন হয় তত ভাল। সিভিল অ্যাভিয়েশনের মতে, দেশে অন্তত স্টেডি ৫ বিমান পরিবহন সংস্থা থাকা দরকার।
পশ্চিমবঙ্গের পক্ষে সুখবর
কিন্তু কথা হল, এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের কী লাভ হল? প্রসঙ্গত, অন্ডালে প্রায় ১০ বছর আগে একটি গ্রিনফিল্ড বিমানবন্দর তৈরি হয়েছে। বেঙ্গল এয়ারট্রোপলিসের উদ্যোগে সিঙ্গাপুরের চাঙ্গি গোষ্ঠীর সহযোগিতায়, রাজ্য সরকারের দেওয়া জমিতে বিমানবন্দরটি গড়ে ওঠে। কিন্তু বিমান চলাচলের ব্যপারে প্রকল্পটি সফল হল না। চাঙ্গি গোষ্ঠী সরে গেল, দেশীয় গোষ্ঠীটিও চালাতে ব্যর্থ হল। এখনও মুম্বই থেকে একটি দুটি সার্ভিস চলে বটে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর হয়ে উঠল না। কেন্দ্রের আগ্রহও ছিল না। দমদম বিমানবন্দরের করুণ হাল, জায়গা কম, ইনফ্রাস্ট্রাকচার খারাপ। এই অবস্থায় কল্যাণীতে দ্বিতীয় বিমানব¨রটি গড়ে তোলার ব্যাপারে কথাবার্তা চলছিল বটে, কিন্তু কাজ এগোয়নি। কল্যাণী না ভাঙড়, এ নিয়েও রাজ্য-কেন্দ্র বিতর্ক চলেছে প্রচুর। এবার নতুন রাজ্য সরকার জমি অধিগ্রহণের পথে হেঁটেছেন। মুম্বই শিল্পমহল সূত্রে খবর পেলাম, কল্যাণী বিমানবন্দর আদানি গোষ্ঠী অধিগ্রহণ করবেন। এটি অতীব সুখের কথা। হাইওয়ে ইত্যাদির ফলে কলকাতা-কল্যাণী দক্ষিণ কলকাতা থেকে দেড় ঘণ্টা, নিউটাউন থেকে ৪৫ মিনিটের বেশি লাগা উচিত নয়। সরকারি মালিকানায় বিমান বন্দর থাকলে তার উন্নতি অসম্ভব, এটা প্রমাণ হয়ে গেছে। আদানি গোষ্ঠী দেশের বিভিন্ন যায়গায় বিমানবন্দর নিয়েছেন, কল্যাণী তাদের হাতে গেলে একটি প্রকৃত কর্পোরেট পরিচালনা যাত্রীদের ও পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্র স্বাস্থ্যকর হবে।

Scroll to Top