৩৬৫ দিন। নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়াই করতে দিন। আমরা অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে দিচ্ছি। নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের মমতার তৃণমূল সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের দায়ের করা জামিনের মামলায় এমন পর্যবেক্ষণ জানালো কলকাতা হাইকোর্ট। আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলে এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য ধার্য করলেও যেভাবে ২০০৭ সালে দায়ের হওয়া মামলার প্রেক্ষিতে দীর্ঘ ১৯ বছর পরে ভোটে প্রার্থী হওয়া মাত্র মিলন প্রধানকে রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করেছে তার জন্য তীব্র ভর্ৎসনা করেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে গত শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর এলাকা থেকে পুলিশ গ্ৰেফতার করে মিলন প্রধানকে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কালীঘাটে নিজের বাসভবনে বসে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করার ঘোষণা করে কংগ্রেসের প্রার্থীদের সমর্থনের কথা ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘটে এই গ্রেফতারের ঘটনা। পুলিশ সূত্রে যদিও দাবি করা হয়, ২০০৭ সালের নন্দীগ্রামের জমি অধিগ্রহণ বিরোধী আন্দোলনের সময় থেকে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ঝুলছিল। খুন, খুনের চেষ্টা, বেআইনি জমায়েত এবং সম্পত্তি লুটপাটের অভিযোগে নন্দীগ্রাম থানায় তিনটি ও খেজুরি থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছিল। ২০০৭ সালের দু’টি পুরোনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হলেও বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচনী সুবিধা পেতে রাজনৈতিক চক্রান্তের অঙ্গ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। মমতা সমর্থন দেওয়ার কথা ঘোষণা করার কিছুক্ষণের মধ্যেই যেভাবে কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তার জন্য সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে প্রতিহিংসার রাজনীতির অভিযোগে সরব হন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ডিভিশন বেঞ্চে রাজ্য
অন্যদিকে অপর একটি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নন্দীগ্রাম উপ-নির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের শোন অ্যারেস্ট কার্যকর না-করার নির্দেশ দেন৷ সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গেল রাজ্য৷ প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রাজ্যের আইনজীবীরা৷ আগামীকাল প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হবে। আজ বৃহস্পতিবার মিলনের মামলার শুনানি চলাকালীন রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের উদ্দেশ্যে বলেন, এটা অবাক লেগেছে, ২০০৭ সালে অভিযোগ আর ১৯ বছর পর তদন্তকারী অফিসার পদক্ষেপ করলেন! ২০০৭ সালের অভিযোগ। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি ছিল, তারপরও এত বছর কী করছিলেন?
মমতার সাহায্য প্রার্থনা মিলনের স্ত্রী-র
আগেই নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারে জেলবন্দি মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা প্রদেশ কংগ্রেস সদর দপ্তর থেকে সরাসরি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করে বলেন, আমি ওঁর হয়ে লড়তে নামছি। আমি সবাইকেই চাইছি আমার পাশে আসুন। এই লড়াই একা হয় না, দলবদ্ধ ভাবে হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে থেকে বলেছেন, আমি মিলন প্রধানের পাশে আছি। তাই আমি ওঁর কাছে সাহায্য চাইছি।
মিলন প্রধানকে নির্বাচনে লড়তে দিন, আমরা অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করে দিচ্ছি – নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থীর জামিনের আবেদনের মামলায় পর্যবেক্ষণ হাইকোর্টের




