৩৬৫ দিন। দেশের এয়ারপোর্ট পরিকাঠামো উন্নয়নে আগামী পাঁচ বছরে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি এয়ারপোর্ট, অর্থাৎ ভারতীয় মু্দ্রায় প্রায় ১০ হাজার কোটির-ও বেশী টাকা ঢালতে চলেছে আদানিরা। এসবিআইয়ের এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জানালেন আদানি এয়ারপোর্টের সিইও অরুণ বনসল। মুম্বাই, নভি মুম্বাই, লখনউ, আহমেদাবাদের মত বিমানবন্দর এখন আদানি গ্রুপের হাতে রয়েছে। সূত্রের খবর, আরও বেশ কয়েকটি এয়ারপোর্ট আদানিদের হাতে আসতে পারে।
সেই সম্ভবনা যে উজ্জ্বল তা বনসলের কথাতেই স্পষ্ট। অরুণ বলেন, আমরা ইতিমধ্যেই গোটা বিশ্বে বিমান যাত্রী পরিষেবার নিরিখে দ্বিতীয়। ভারতের বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভবনার বিষয়টি মাথায় রেখেই দেশের একাধিক এয়ারপোর্টে বিনিয়োগ করা হয় এবং আশানুরূপ ফল হয়েছে। তাই যে যাত্রীরা আমাদের এয়ারপোর্ট ব্যবহার করছেন তাদের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় নামতে পারবো না আমার হাত ভরে দিয়েছেন ওঁরা। ভারতে এয়ারপোর্ট পরিষেবায় বিপুল সম্ভবনার কথা তুলে ধরে অরুণ জানান, ভারত বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে আগামী দশ বছরের মধ্যে প্রথম অথবা দ্বিতীয় বড় বাজার হয়ে উঠতে চলেছে। আগামী ২০ বছরে দেশের জিডিপি যদি ৮ গুন বাড়ে তাহলে বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে অন্তত ১০ গুন বাড়বে।সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার বেসরকারি সংস্থার হাতে থাকে এয়ারপোর্ট গুলোর লাভ ক্ষতি বা বলা ভালো সেগুলোর হাল হকিকত, যাত্রী পরিষেবার মান প্রভৃতি বিষয় গুলো খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এসবিআই-এর এক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এই মন্তব্য করলেন আদানি এয়ারপোর্টের সিইও অরুণ বনসল। তিনি বলেন, বিমান যাত্রীদের নিয়ে প্রতিযোগীতায় আমি নেই – যে জায়গায় এত সম্ভবনা রয়েছে সেখানে যাত্রীদের সঙ্গে প্রতিযোগীতায় না নেমে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ-ই বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারি সূত্র এবং শিল্পমহলের একাধিক সূত্রের দাবি, বর্তমানে দেশের দুটি ব্যস্ততম বিমানবন্দর—দিল্লি ও মুম্বই বিমানবন্দরের পরিচালনাকারী সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে একটি নিয়ম রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী, এই বিমানবন্দরগুলির অপারেটর কোনও নির্ধারিত বিমান সংস্থায় ১০ শতাংশের বেশি অংশীদারিত্ব রাখতে পারে না। ২০০৬ সালে এই দুই বিমানবন্দর বেসরকারিকরণের সময় ওই শর্ত চুক্তিতে যুক্ত করা হয়েছিল। আদানি গোষ্ঠী চলতি বছরের জুলাই মাসে সেই শর্তে পরিবর্তন আনার আবেদন করেছে।
বর্তমানে মুম্বই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৭৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক আদানি গোষ্ঠী। অন্যদিকে দিল্লি বিমানবন্দরের ৭৪ শতাংশ মালিকানা রয়েছে জিএমআর এয়ারপোর্টসের হাতে। সরকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। জানা গিয়েছে, এই নিয়মে অতীতের চুক্তি সংশোধন করা আইনগতভাবে সম্ভব কি না, তা নিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার মতামত চেয়েছে কেন্দ্র। যদি নিয়ম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়, তাহলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনও লাগবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারও হয়তো বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে আরও প্রতিযোগিতা তৈরি করতে আগ্রহী। বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান বাজারের প্রায় ৯০ শতাংশই ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়ার দখলে। ফলে নতুন কোনও আর্থিকভাবে শক্তিশালী সংস্থা বাজারে এলে প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে। এই প্রেক্ষাপটে আদানি এয়ারপোর্টের সিইও -র বক্তব্যের প্রধান দুটি বিষয়ে-১, পাঁচ বছরে এয়ারপোর্ট পরিকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ আর ২, যাত্রী নিয়ে প্রতিযোগীতায় নেই – যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশের এয়ারপোর্ট পরিকাঠামো উন্নয়ন
আগামী পাঁচ বছরে ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করতে চলেছে আদানি এয়ারপোর্ট




