৩৬৫ দিন। নিঠারী হত্যাকান্ডের অন্যতম অভিযুক্ত পরে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া সুরেন্দ্র কোলির রহস্য মৃত্যু। শুক্রবার হরিদ্বারে নিজের চায়ের দোকানে সুরেন্দ্র’র ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান আত্মহত্যা করেছে সুরেন্দ্র। তবে হঠাৎ কী কারণে সে আত্মঘাতী হল তা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। মৃতদেহের পাশ থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়নি। সুপ্রিমকোর্টের রায়ে নিঠারী গণহত্যার অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পর সুরেন্দ্র হরিদ্বার চলে আসে। সপ্ত ঋষিতে লালা মন্দিরের উল্টো দিকে একটি চায়ের দোকান খোলে। দিন রাত সেখানেই থাকতো সে। পরিবার থাকতো আলমোরায়। তাদের সঙ্গে সে ভাবে তার সম্পর্ক ছিল না। সে যে ২০০৬ -এর নিঠারী কান্ডের অন্যতম অভিযুক্ত ছিল তা ওই এলাকায় প্রায় কেউ জানতো না। আচমকা তার রহস্যজনক মৃত্যুর পর ফের আলোচনায় আসছে ২০ বছর আগের নিঠারী কান্ড। হরিদ্বারের সপ্ত ঋষি পুলিশ ফাঁড়ি খবর পায় যে সপ্ত সরোবর রোডে লালমাতা মন্দিরের বিপরীতে অবস্থিত একটি চায়ের দোকানে এক ব্যক্তি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতকে সুরেন্দ্র কোলি হিসেবে শনাক্ত করে।পুলিশ ইতিমধ্যেই আলমোড়ায় তাঁর পরিবারকে বিষয়টি জানিয়েছে। শুরু করেছে তদন্ত।
নিঠারী কান্ড
নয়ডার ৩১ নম্বর সেক্টরের গ্রাম নিঠারী। ২০০৫ এবং ২০০৬ সালে এই গ্রামে অস্বাভাবিক ভাবে অনেক মহিলা এবং শিশু নিখোঁজ হওয়ার খবর সামনে আসতে থাকে। যদিও শুরুটা হয়েছিল ২০০৫ সালে। ৮ ফেব্রুয়ারি নিঠারী গ্রাম থেকে হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যায় ১৪ বছরের রিম্পা হালদার। ওই বছরেরই মার্চ মাসে মণীন্দ্রের বাংলোর পিছনের নর্দমায় প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়া একটি কাটা হাত দেখতে পায় কয়েকটি বাচ্চা ছেলে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্ত শেষে পুলিশ দাবি করে, কোনও জন্তু মুখে করে এনে এই হাতটি ওখানে ফেলে গিয়েছে। ফলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। পরের দু বছরে লাগাতার মহিলা শিশু নিখোঁজ হতে থাকে। তদন্ত করতে গিয়ে তদন্তকারী আধিকারিকেরা বিভিন্ন সূত্র ধরে পৌঁছে যান মণীন্দ্র সিংহ পান্ধেরের বাংলোয়। এর পর থেকেই একে একে জট খুলতে থাকে নিঠারী কান্ডের জট। ২০০৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর পুলিশ মণীন্দ্রের বাংলোর পিছনের নর্দমা থেকে নরকঙ্কাল এবং কিছু দেহাবশেষ ভর্তি অনেকগুলি প্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ধার করে। গ্রেফতার করা হয় মণীন্দ্র এবং গৃহকর্মী সুরেন্দ্রকে। মণীন্দ্রের বাড়ির পাশে নরকঙ্কাল উদ্ধার হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আর বিশেষ কোনও প্রমাণ পুলিশের হাতে আসেনি। পরবর্তীতে সিবিআই তদন্ত ভার হাতে নেয়। সিবিআই তদন্তে দাবি করা হয় শুধু শিশুদের অপহরণ খুন নয় তাদের ওপর নির্মম অত্যাচার চলতো। তাদের সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন, তাদের খুন করার পর সেই মৃতদেহকে ধর্ষণ করা হত তারপর সেই দেহ টুকরো করে প্রেসার কুকারে সেদ্ধ করে খাওয়া হত। শুধু বাংলো থেকেই ২৫ টি নরকঙ্কাল মেলে। সিবিআই দাবি করে ১৯৯৮ সাল থেকে পান্ধের মানব দেহের অঙ্গ পাচার করে আসছিল। যদিও সুরেন্দ্র’র বিরুদ্ধে সরাসরি অপরাধে যুক্ত থাকার অভিযোগ সিবিআই প্রমাণ করতে পারেনি। গত বছর নিঠারী হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত হওয়া কোলিকে সুপ্রিম কোর্ট বেকসুর খালাস করে। নিঠারীকাণ্ডে সুরেন্দ্রের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের হয়। ১২টি মামলায় বেকসুর খালাস পেলেও ঝুলে ছিল শেষ মামলাটি। সেই মামলায় শাস্তি মকুবের জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন সুরেন্দ্র। সেই মামলার শেষ শুনানিতে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ‘‘যদি একই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে অন্য মামলাগুলি থেকে খালাস দেওয়া হয় এবং এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তবে কি সেটা ন্যায়বিচারের প্রতি বিদ্রুপ করা হবে না?’’ এর পর সেই মামলায় রায়ে সুরেন্দ্রকে বেকসুর খালাস করে দেশের শীর্ষ আদালত। সেই সুরেন্দ্র’র রহস্যমৃত্যু নতুন করে নিঠারীর স্মৃতি ফেরালো।
নিঠারী হত্যাকান্ডের অন্যতম অভিযুক্ত পরে সুপ্রিমকোর্টের রায়ে খালাস পাওয়া সুরেন্দ্র কোলির রহস্য মৃত্যু


