মমতার প্রার্থীর সকালে প্রত্যাহার, দুপুরে ফেরৎ

৩৬৫ দিন। মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে উপনির্বাচনে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী। তিনি প্রার্থিপদ প্রত্যাহার করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে দিয়েছিলেন শনিবার সকালে। দুপুরে মতবদল করেছেন। রবিউল আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। তারপরেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করেছেন এবং তিনি প্রচারেও নেমে পড়বেন।
সূত্রের খবর, রবিউল আলম চৌধুরী প্রার্থিপদ প্রত্যাহারের খবর জানার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করেন। ভোটের ময়দান না ছাড়ার অনুরোধ করেন মমতা। ফোনে দীর্ঘক্ষণ তাঁদের কথা হয়। শেষ পর্যন্ত প্রার্থীপদ না ছাড়ার জন‍্য রবিউলকে রাজি করান মমতাই। এরপরেই প্রথমে সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরে খোদ প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী জানিয়ে দেন তিনি প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করছেন না।
রেজিনগর এবং নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন রয়েছে ৬ অক্টোবর। ফল ঘোষণা হবে ৯ অক্টোবর। তৃণমূলের দুই শিবিরই উপনির্বাচনের জন্য প্রার্থী দিয়েছে। শুক্রবারই নন্দীগ্রামের মমতা তৃণমূল প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করে দেন, নন্দীগ্রামে তিনি কংগ্রেসকে সমর্থন করবেন। তাঁর ওই ঘোষণার পরেই সেখানকার কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এই পরিস্থিতিতে রেজিনগরে কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল ছিল। শনিবার সকালে রবিউল আলম চৌধুরী প্রথমে নিজেই জানান, তিনি ভোটে লড়ছেন না। মনোনয়ন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি, সেই প্রক্রিয়া শেষ করতে বহরমপুরের উদ্দেশে রওনাও দিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিত্রটা বদলে যায়। রবিউল জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে লড়াই চালিয়ে যাবেন তিনি। ভোটের ময়দান থেকে সরবেন না। এক জন কর্মী তাঁর সঙ্গে থাকলেও তিনি ভোটে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে। তাঁর কথায়, ‘‘প্রার্থীপদ প্রত্যাহারের যে সিদ্ধান্ত আমি নিয়েছিলাম, দিদির সঙ্গে কথা বলার পর তা থেকে সরে দাঁড়িয়েছি। দিদি আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন। দিদির দল করি, উনি যা বলবেন, তেমনই করব। কী ভাবে ভোট করতে হয়, আমরা জানি। এর আগেও একাধিক বার ভোটে লড়েছি। আমাদের কর্মীরা ঠিক বুঝে নেবেন। দলের নেতারা আসবেন প্রচারে।”
বিজেপি ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে: কুণাল
উপনির্বাচনের আগে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কখনো গুন্ডাবাহিনী কখনো আবার পুলিশ দিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে বিজেপি। শনিবার এই অভিযোগই করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, “রাজ্যে আসল বিরোধী দল হল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপি তৃণমূলকে ভয় পায়। তাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভয় দেখাচ্ছে ওরা। রেজিনগরে বাড়ি বাড়িতে পুলিশ যাচ্ছে, গভীর রাতে গিয়ে হুমকি দিচ্ছে, কেন? ১৯ বছর আগের মামলায় ভোটের মুখে প্রার্থীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। স্বৈরতান্ত্রিক রাজনীতির সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গিয়েছে বিজেপি। রেজিনগরে আমাদের প্রার্থীকে হাজার চাপ দেওয়ার পরেও, মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারেনি ওরা। বাই ইলেকশনকেও কেউ ভয় পাচ্ছে বিজেপি। তাই পুলিশ, গুন্ডাবাহিনী নামিয়ে সাধারণ ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বিজেপির কাছে প্রধান শত্রু হল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে থাকা তৃণমূল কংগ্রেস। তাই বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের টার্গেট করছে ওরা। রাষ্ট্রশক্তিকে অপব্যবহার করে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিকদের আক্রমণ করা হচ্ছে, সেটা বাংলার মানুষ দেখছে, তারা বিজেপির আসল উদ্দেশ্য বুঝে গিয়েছেন। বিজেপি যেগুলো চায়, যেটা তারা করতে পারছে না, তার জন্যেই চাটন শ্রেণির জন্ম দিয়েছে বিজেপি।”

Scroll to Top