কোল ইন্ডিয়াকে ৭ গোল! ইস্টবেঙ্গলকে থামতে হল রানার্স হয়ে

ইস্টবেঙ্গল – ৭

কোল ইন্ডিয়া – ০

৩৬৫ দিন। সিনেমায় অনেক সময় ট্রাজিক নায়ক যারা হয় তাদের চরিত্রটা দর্শকদের নায়কের চরিত্রের থেকেও মনে দাগ কেটে যায়। এবারের কলকাতা লিগে ইস্টবেঙ্গল দলটা সেরকমই ট্রাজিক নায়ক। সবচেয়ে বেশি পয়েন্ট, সবচেয়ে বেশি গোল কিন্তু হাতে চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি নেই। আসলে লিগ পর্যায়ের কোনও অঙ্কই তো ক্যারি ফরওয়ার্ড হয়নি সুপার সিক্স পর্বে। আর এখানেই বলা ভালো তিনটে ম্যাচের ভিত্তিতে ইস্টবেঙ্গলকে পয়েন্টের বিচারে টেক্কা দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেল মোহনবাগান। যদিও টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই সব দলকে ডেকে এই নিয়ম বলে দেওয়া হয়েছিল। সবার সবুজ সংকেত পেতেই এই নিয়মে সিলমোহর দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা ফুটবল লিগের রোমাঞ্চকর ‘সুপার স্যাটারডে’তে ঘরের মাঠে এক অবিশ্বাস্য গোলের উৎসব উপহার দিল ইস্টবেঙ্গল। শনিবার বিকেলে ঘরের মাঠের চেনা গ্যালারির সামনে কোল ইন্ডিয়ার ওপর রীতিমতো গোলের সুনামি বইয়ে দিল লাল-হলুদ ব্রিগেড। ম্যাচ শুরুর মাত্র দুই মিনিটের মাথায় গোল থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষের কয়েক সেকেন্ড আগে গোল। সব মিলিয়ে লাল হলুদ ৭-০ গোলে জিতল। তবে এই ম্যাচে কোল ইন্ডিয়ার গোলকিপার সঞ্জয় কুমার ভট্টাচার্য না থাকলে গোলের সংখ্যা ১০-এর বেশি হতে পারত। যদিও এই বড় ব্যবধানে জিতলেও লাল হলুদ কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হতে পারল না, মোহনবাগানের থেকে দুই পয়েন্ট পিছনে থেকে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করল।ম্যাচের শুরুতে ছোট ছোট পাসের অসাধারণ মুভ থেকে বক্সে ঢুকে ঠান্ডা মাথায় গোলকিপারকে পরাস্ত করে দলকে এগিয়ে দেন মহম্মদ বিলাল।
সেই গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই দশম মিনিটে আকাশ হেমব্রমের নিখুঁত ক্রস থেকে দর্শনীয় হেডে ২-০ করেন বিজয় মুর্মু। প্রথমার্ধের পুরো সময়টাই কোল ইন্ডিয়ার বক্সে ছড়ি ঘোরায় লাল-হলুদ ফুটবলাররা। কোল ইন্ডিয়ার গোলকিপার সঞ্জয় কুমার ভট্টাচার্য অন্তত তিন-চারটি নিশ্চিত গোল না বাঁচালে বিরতির আগেই ব্যবধান ৫-০ হতে পারত। অন্যদিকে, কোল ইন্ডিয়ার সুপ্রিয় পণ্ডিতের শট সহজেই রুখে দেন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক গৌরব সাউ। বিরতির ঠিক পরেই কোল ইন্ডিয়ার পরিবর্ত ফুটবলার ইরফান একাই বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন, তবে মনোতোষ চাকলাদার ও গৌরবের তৎপরতায় সেই বিপদ কেটে যায়।৫৩ মিনিটে জয় বাজ়ের পাসে কোল ইন্ডিয়ার গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে চিপ করে বল জালে জড়িয়ে ৩-০ করেন আকাশ হেমব্রম, যা চলতি লিগে তাঁর নবম গোল। ঠিক সাত মিনিট পর, ৬০ মিনিটে ফের আকাশের নিখুঁত মাইনাস থেকে বাঁ-পায়ের নিখুঁত ফিনিশে নিজের দ্বিতীয় ও দলের চতুর্থ গোলটি করেন বিজয় মুর্মু। ৬৬ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোলকিপারকে উল্টোদিকে ফেলে দলের পঞ্চম গোল করেন মিডফিল্ডার তন্ময় দাস।ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে কোল ইন্ডিয়া যখন সম্পূর্ণ ক্লান্ত, তখন যোগ করা অতিরিক্ত সময়ে জোড়া গোল তুলে নেয় ইস্টবেঙ্গল। ৯০+৯ মিনিটে বাঁদিক থেকে একাই ডিফেন্স চিরে ঢুকে কিপারকে কাটিয়ে উত্তম হাঁসদাকে ফাঁকা বল দেন বিলাল, যা থেকে গোল করতে বিন্দুমাত্র ভুল করেননি উত্তম। ঠিক পরের মুভেই ম্যাচের শেষ লগ্নে কোল ইন্ডিয়ার কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে নিজের জোড়া গোল ও দলের সপ্তম গোলটি সম্পন্ন করেন আকাশ হেমব্রম।তবে ঘরের মাঠে ৭-০ গোলের এমন ঐতিহাসিক ও চোখ ধাঁধানো জয়ও শেষ পর্যন্ত সমর্থকদের মুখে ট্রফি জয়ের চওড়া হাসি ফোটাতে পারল না। কারণ একই সময়ে বারাসত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত অপর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মহামেডান স্পোর্টিংকে ৩-২ গোলে হারিয়ে দিয়ে লিগের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে নেয় মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট।

Scroll to Top