রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর
মেঝেতে পড়ে রয়েছে এক বিধবার গলা কাটা লাশ!

৩৬৫ দিন। রক্তে ভেসে যাচ্ছে ঘর। মেঝেতে পড়ে রয়েছে এক বিধবার গলা কাটা লাশ! বিশ্বকর্মা পুজোর দিন সকালে হাড়হিম হত্যাকান্ড পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ায়। নিহত মহিলার নাম চিন্তামনি মন্ডল। বাদরা গ্রামের ঘোষ পাড়াতে একাই থাকতেন চিন্তামনি। তাঁর স্বামী বেশ কয়েক বছর হল মারা গিয়েছেন। মেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলেও কর্মসূত্রে বাইরে থাকে। ছেলের পাঠানো টাকাতেই চলত চিন্তামনির একার সংসার। স্থানীয়রা বলছেন, শুক্রবার সকাল থেকে চিন্তামনির কোনও সাড়া শব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না।
বেলার দিকে প্রতিবেশী এক মহিলা‌ তাকে ডাকতে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা খোলা। বাড়ির ভেতরে ঢুকে তিনি দেখেন শোওয়ার ঘর রক্তে ভেসে যাচ্ছে মেঝেতে পড়ে রয়েছে চিন্তামনির নিথর দেহ। ওই মহিলার চিৎকার চেঁচামেচিতে আরো অনেকে ছুটে আসেন তারাই পুলিশে খবর দেয়। দেহ পাঠানো হয় ময়নাতদন্তে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, বৃহস্পতিবার রাতে গলার নলি কেটে খুন করা হয় চিন্তামনিকে। খুব সম্ভবত চুপি চুপি ঘরে ঢুকে আততায়ী পিছন দিক থেকে চিন্তামনির গলা কেটে দেয়। দেহের পাশ থেকে একটি ব্লেড ও মোবাইল ফোন পাওয়া গিয়েছে। ব্লেড দিয়েই খুন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুনের মোটিভ স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ নিশ্চিত যে চুরি ডাকাতির উদ্দেশ্যে খুন করা হয়নি। কারণ নিহতের গায়ে যে সোনার গয়না ছিল তা খোয়া যায়নি বা ঘর তছনছ করা হয়েছে এমন নয় তাহলে কেন খুন? পুলিশের দাবি, নিহত মহিলার সঙ্গে তার ভাসুরের বনিবনা ছিল না। সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ চলছিল। সেই কারণেই খুন কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আপাতত ওই মহিলার ৩ আত্মীয়কে আটক করা হয়েছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য।

Scroll to Top