শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের চলন্ত কামরায় অভিনব বিশ্বকর্মা আরাধনা
এবার কুড়ি তম বর্ষে পড়লো

৩৬৫ দিন। বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী।  চলন্ত ট্রেনের কামরায়  ঢাক বাজিয়ে, মন্ত্রোচ্চারণ ও নৈবেদ্য সাজিয়ে বিশ্বকর্মা পুজো চলছে চলন্ত ট্রেনে এমন অভিনব দৃশ্য দেখার সুযোগ মিললো ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালে। নিত্যযাত্রীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই ভ্রাম্যমাণ পুজো এবার কুড়ি তম বর্ষে পদার্পণ করল।  বিগত বছরগুলির মতো এবারেও পুজোর রীতিনীতি একরকম এমনকি এই ধারাবাহিকতা করোনা মহামারির  সময়েও বন্ধ হয়নি ডাউন শান্তিপুর-শিয়ালদহ লোকালের । প্রথম কম্পার্টমেন্টের দ্বিতীয় গেটের যাত্রীদের মিলিত উদ্যোগেই আয়োজন এই পুজোর। উদ্যোক্তারা বলেন ১৭ বছর আগে  ৩০ জনকে নিয়ে এই পুজো শুরু হলেও বর্তমানে  তাদের সদস্য সংখ্যা ১৭৫ জন। এরমধ্যে যেমন রয়েছেন চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী আবার হকার তাদের পেশা যাই হোক না কেন  দিনের অনেকটা  কাটে ট্রেনের কামরায় । বিশ্বকর্মার তৈরি এই ট্রেনের যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করেই তাঁদের রুটিরুজি। পরিবারের সদস্যরা যখন ঘরে ফেরার অপেক্ষায় থাকেন, তখন এই নিত্যযাত্রীরা নিজেদের যাতায়াতের বাহনকে সুরক্ষিত রাখতে এবং দেবশিল্পীর কৃপা পেতেই এই আরাধনার সূচনা করেন। ট্রেনের এই সফর নিত্যযাত্রীদের মধ্যে গড়ে উঠেছে পারিবারিক সম্পর্ক তারা কেউ রক্তের সম্পর্কের নয়  গভীর এক পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ।
বিশ্বকর্মা ​পুজোর দিন তাই  প্ল্যাটফর্মে ট্রেন ঢুকতেই শুরু হয়ে যায় ব্যস্ততা। ট্রেনের সামনে মাঙ্গলিক কলাগাছ ও ফুলের মালা পরানো হয়। স্টেশন মাস্টার থেকে শুরু করে আরপিএ সকলের হাতে মিষ্টি তুলে দিয়ে শুরু হয় যাত্রা। সাধারণ যাত্রীদের অনেকেই এই অভিনব পুজো দেখার আকর্ষণে বিশ্বকর্মা পুজোর দিন এই কামরাতেই ভিড় জমান। ট্রেন ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কামরার ভেতর শুরু হয় ফল কাটা ও নৈবেদ্য সাজানোর তোড়জোড়। সুরক্ষার জন্য আগুনের ব্যবহার নেই বললেই চলে। নিয়ম রক্ষার্থে প্রদীপ ও ধুনুচি জ্বালানো হয়। ট্রেন রানাঘাট স্টেশনে পৌঁছাতেই পুজোয় বসেন ঠাকুরমশাই। শ্যামনগর স্টেশনে পৌঁছানোর পর বিশ্বকর্মা পুজো সম্পন্ন হয়। এরপর পুরোহিত এবং ঢাকি দক্ষিণা নিয়ে আপ শান্তিপুর লোকাল ধরে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ট্রেন ব্যারাকপুর পৌঁছানো পর্যন্ত চলতে থাকে প্রসাদ বিতরণ।  ট্রেন শিয়ালদহ পৌঁছালে যাত্রীরা দেবশিল্পীর আশীর্বাদ নিয়ে নিজ নিজ কর্মস্থলের দিকে পা বাড়ান।​যাত্রীরা নেমে গেলেও, দেবাদেব বিশ্বকর্মা থেকে যান ওই কামরাতেই। সারাদিন বিভিন্ন শাখায় ট্রেনের যাত্রাপথের সাক্ষী থাকেন তিনি। মধ্যরাতে ট্রেন কারশেডে ফিরলে, স্টেশন মাস্টারের সহযোগিতায় কর্মীরা প্রতিমা নামিয়ে রাখেন। পরের দিন সকালে সম্পন্ন হয় বিসর্জন পর্ব।

Scroll to Top