৩৬৫ দিন। বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী। নদীয়া। জেলার শান্তিপুরের রামনগর চর পুরাতন পাড়ায় শুরু হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী ও লোকসংস্কৃতির অন্যতম অঙ্গ ‘করম পরব’। ঝুমুরিয়া আখড়ায় জাওয়া তোলার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের শুভ সূচনা হয়েছে। আগামী ২২শে সেপ্টেম্বর মূল করম পূজা ও উৎসব সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে।
প্রতি বছর ভাদ্র মাসের শুক্লা একাদশীতে এই আদিবাসী লোকউৎসবটি মহাসমারোহে পালিত হয়। তবে মূল পূজার ৫ থেকে ৭ দিন আগে থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রস্তুতি পর্ব। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, করম পরবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও পবিত্র আচার হলো এই ‘জাওয়া তোলা’। শুক্রবার ভোরবেলায় গ্রামের কুমারী মেয়েরা ঘুম থেকে উঠে শালগাছের দাঁতন কেটে নদী কিংবা নিকটবর্তী পুকুরে স্নান করতে যান। স্নান সেরে শুদ্ধাচারে বাঁশের চুপড়ি, ঝুড়ি অথবা বেতের ডালা নিয়ে আসা হয়। সেই পাত্রে বিভিন্ন রবিশস্যের বীজ—যেমন ধান, সর্ষে, ভুট্টা, কলাই, কুর্তি ইত্যাদি নানা রকমের বীজ পরম যত্নে রোপণ করা হয়, যাকে স্থানীয় ভাষায় ‘জাওয়া পাতা’ বা ‘জাওয়া তোলা’ বলা হয়।
উৎসবের সূচনা থেকে শুরু করে একাদশী তিথি পর্যন্ত প্রতি সন্ধ্যায় এই জাওয়াকে ঘিরে কুমারী মেয়েরা ও মহিলারা গানের সুরে মেতে ওঠেন। করম ও জাওয়ার লোকগীতি পরিবেশনের মাধ্যমে পরম যত্নে সেই অঙ্কুরিত শস্য বা জাওয়াকে জাগিয়ে তোলা হয়। প্রকৃতি ও ফসলের প্রাচুর্য কামনায় এই আচার অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
ঝুমুরিয়া পরিবারের এক সদস্য জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও রামনগর চর পুরাতন পাড়ার ঝুমুরিয়া আখড়ায় করম পরব আয়োজিত হচ্ছে। ২২শে সেপ্টেম্বর মূল উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষকেও এই বর্ণাঢ্য সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য দেখার আগ্রহে।
শান্তিপুরের রামনগর চরে জাওয়া তোলার মধ্য দিয়ে সূচনা হলো ঐতিহ্যবাহী করম পরবের




