এআই দিয়ে লটারির টিকিট জাল,ডানকুনি থেকে ৫ জনকে ধরল পুলিশ

৩৬৫ দিন। লটারির টিকিট আছে, তার নম্বর আছে, ফার্স্ট প্রাইজ জেতা ব্যক্তি তার নাম ছবি সব আছে – ভুল হল আছে আবার নেই-ও! সবটাই এআই নির্মিত কল্পিত। তা দিয়েই ডানকুনির ঘুপচি ঘরে বসে লাখ লাখ টাকার লোক ঠকানো কারবার ফেঁদে বসেছিল বিহার থেকে আসা ৫ জন। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম শাখার অভিযানে ৫ জনকেই বমাল ধরল পুলিশ। উদ্ধার হল কাঁড়ি কাঁড়ি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, জাল লটারির টিকিট আর এআই নির্মিত ভুয়ো কোটি টাকা লটারি প্রাপকদের ছবি। পুলিশ বলছে, এই পাঁচ জন ডানকুনির সূর্যনগরের একটি ঘরে বসে এই কারবার চালাতো। এআই দিয়ে তারা প্রথমেই বেশ‌ কিছু লটারির টিকিট বানাতো। তারপর সেই লটারির টিকিটের ফার্স্ট প্রাইজ জিতেছে ওমুক বলে ভুয়ো ছবি দিয়ে সমাজ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিত তারা।
ওই বিজ্ঞাপন দেখে যারাই যোগাযোগ করত লটারি জেতার আশায় তাদের থেকে আধার, প্যান, ব্যাঙ্ক ডিটেলস সহ যাবতীয় তথ্য হাতিয়ে নিয়ে অ্যাকাউন্ট ফাঁকা করে দিত কখনো আবার লটারি জেতানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা আদায় করত অনেক সময় আবার আধার প্যান ছবি ব্যবহার করে মোটা টাকা লোন তুলতো। চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় কয়েকটি জায়গা যেমন ডানকুনি, উত্তরপাড়া, শ্রীরামপুর ইত্যাদি থেকে সম্প্রতি এই ধরণের অভিযোগ আসছিল। তারপরেই ফাঁদ পাতে পুলিশ। চিহ্নিত করা হয় পাঁচজনকে। তারপর অভিযান চালিয়ে সকলকেই গ্রেফতার করা হয়। তবে পুলিশের অনুমান এটা একটা বড় চক্র। এই পাঁচজন ছাড়াও এই চক্রে আরো অনেকে রয়েছে। যাদের ধরা হয়েছে তাদের জেরা করে বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালানো হবে। চন্দননগর পুলিশের ডিসি ডিডি রূপান্তর সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘সাইবার অপরাধ ঠেকাতে স্পেশ্যাল ড্রাইভ চলছে। সাইবার অপরাধের অভিযোগের ভিত্তিতে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে অভিযান হচ্ছে। এনসিআরপি পোর্টালে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর একটি মামলার তদন্তে নেমে ডানকুনি থেকে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’’

Scroll to Top