৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস বসু বলছেন, তিনি আত্মবিশ্বাসী শনিবার কলকাতা লিগ তারাই চ্যাম্পিয়ন হবেন। মহমেডান শিবির আশাবাদী তারাও ক্ষমতা রাখে মোহনবাগানকে হারিয়ে রেড রোডে ট্রফি নিয়ে যাওয়ার। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও সম্পূর্ণ লড়াই থেকে ছিটকে গেছে এমন নয়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ণয়ের শেষ দিন এরকম রোমাঞ্চকর পরিস্থিতি শেষবার কবে তৈরি হয়েছিল জানা নেই। আজ শনিবার সেটাই হতে চলেছে। দুপুর তিনটা থেকে তিন প্রধানের ভাগ্য ঝুলে থাকবে একটা ট্রফিকে কেন্দ্র করে। একটা ম্যাচ বারাসাতে অন্যটা ইস্টবেঙ্গল হবে মাঠে।
একটা সময় মনে হচ্ছিল কলকাতা লিগের ট্রফির লড়াইটা তিন প্রধানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে। কিন্তু সুপার সিক্সের শেষ রাউন্ডে এসে ছবিটা অনেক বেশি জটিল। এখনও পাঁচটি দলের সামনে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতি ইস্টবেঙ্গলের। শেষ ম্যাচে শুধু জিতলেই হবে না, তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য ম্যাচের ফলের দিকেও।সুপার সিক্সে দু’ম্যাচ শেষে মোহনবাগান ও মহমেডান— দুই দলেরই সংগ্রহ ৪ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে তারা। সেই ম্যাচ কার্যত ফাইনালের রূপ নিয়েছে। সমীকরণ খুবই সহজ। যে দল জিতবে, তাদের পয়েন্ট হবে ৭। তখন আর অন্য কোনও হিসাবের প্রয়োজন থাকবে না। জয়ী দলই কলকাতা লিগ চ্যাম্পিয়ন হবে।
তবে ম্যাচটি ড্র হলে দুই দলেরই পয়েন্ট দাঁড়াবে ৫। তখন গোল পার্থক্য ও অন্য ম্যাচের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমানে গোল পার্থক্যে কিছুটা এগিয়ে রয়েছে মোহনবাগান। দু’টি ম্যাচেই ড্র করে ইস্টবেঙ্গলের সংগ্রহ মাত্র ২ পয়েন্ট। ফলে ট্রফির লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে প্রথম শর্ত, কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে জিততেই হবে। জিতলে লাল-হলুদের পয়েন্ট হবে ৫। কিন্তু সেখানেই কাজ শেষ নয়। ইস্টবেঙ্গলকে আশা করতে হবে মোহনবাগান ও মহমেডানের ম্যাচ ড্র হোক। কারণ ওই ম্যাচে কোনও দল জিতে গেলে তারা ৭ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে এবং ইস্টবেঙ্গলের সুযোগ শেষ হয়ে যাবে। যদি মিনি ডার্বি ড্র হয়, তা হলে তিন প্রধানেরই পয়েন্ট হবে ৫। সেই পরিস্থিতিতে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণে বড় ভূমিকা নেবে গোল পার্থক্য। বর্তমান অঙ্ক অনুযায়ী ইস্টবেঙ্গলকে কোল ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিতে হবে। হিসাব বলছে, পাঁচ গোল বা তার বেশি ব্যবধানে জিততে পারলে লাল-হলুদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে উজ্জ্বল হবে।চমক এখানেই। ইউনাইটেড স্পোর্টসেরও এখনও ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের সংগ্রহ ২ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে জিততে পারলে তারা ৫ পয়েন্টে পৌঁছে যাবে। তখন অন্য ম্যাচের ফল ও গোল পার্থক্যের সমীকরণ কাজে আসবে। অন্য দিকে ভবানীপুরের সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। তারা যদি ইউনাইটেড স্পোর্টসকে হারাতে পারে, তা হলে ৬ পয়েন্ট নিয়ে সবার উপরে উঠে যাওয়ার সুযোগ থাকবে। সেই ক্ষেত্রে মোহনবাগান-মহমেডান ম্যাচ ড্র হলে অন্য কোনও হিসাবের প্রয়োজন হবে না ফলে সুপার সিক্সের শেষ দিন অর্থাৎ শনিবার হতে চলেছে রোমাঞ্চে ভরা। মোহনবাগান ও মহমেডানের সামনে সমীকরণ সহজ— জিতলেই ট্রফি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের ক্ষেত্রে শুধু জয় যথেষ্ট নয়। বড় ব্যবধানে জয়ের পাশাপাশি অন্য ম্যাচের ফলও তাদের পক্ষে যেতে হবে। আর সেই কারণেই কলকাতা লিগের শিরোপা লড়াই এখনও পুরোপুরি খোলা। শেষ বাঁশি বাজার আগে তাই বলা কঠিন, শেষ পর্যন্ত কলকাতা লিগের ট্রফি কার হাতে উঠবে। তবে বাংলার ফুটবলপ্রেমীদের নজর আজ যে কলকাতা লিগের ফয়সালার দিকে থাকবে সেটা নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়। ময়দানের প্রাক্তন তারকা ফুটবলাররা অবশ্য মনে করছেন মোহনবাগান বা মহামেডান যে কেউ একজন চ্যাম্পিয়ন হবে। কারণ এরা দুটো দলই অলআউট খেলবে। মোহনবাগান শেষ ম্যাচটা ইউনাইটেডর কাছে এগিয়ে গিয়েও শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে ড্র করেছিল। তাই আজ প্রথম থেকেই সাদাকালো ব্রিগেডের ওপর চাপ রেখে গোল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করবে বাস্তব রায়ের দল। অন্যদিকে ছেড়ে দেবে না মহমেডান। এটা তাদের কাছেও প্রেস্টিজ ফাইট। অন্যদিকে ইস্টবেঙ্গল যতটা বড় ব্যবধানে সম্ভব চেষ্টা করবে কোল ইন্ডিয়াকে হারাতে। তারপর বাকিটা ভাগ্য।
আজ কলকাতা লিগের চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ণয় লড়াই, নাটকীয় অঙ্কে সুযোগ ৩ প্রধানের কাছেই




