৩৬৫ দিন। দিল্লিতে মণিপুরের সঙ্গীত শিল্পী চোংথাম বিক্রম সিংকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় প্রবল চাপে কেন্দ্র। এই ইস্যুকে সামনে রেখে কেন্দ্রের মোদি সরকার ‘উত্তর পূর্ব বিরোধী’ প্রচারে হাওয়া দিচ্ছে কংগ্রেস। একে মণিপুর নিয়ে কেন্দ্রের অস্বস্তির শেষ নেই তার ওপর এবার সেই মণিপুরের এক সঙ্গীত শিল্পীর খাস দিল্লিতে খুন হয়ে যাওয়া মাথা ব্যথা বাড়াচ্ছে বিজেপির। ঘটনার নিন্দা করে দোষীদের কড়া শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং। যদিও তাঁর উদ্বেগকে লোক দেখানো দাবি করে ময়দানে নেমেছে কংগ্রেস।রাহুল গান্ধি থেকে মল্লিকার্জুন খাড়্গে দিল্লির কংগ্রেস নেতৃত্ব এককাট্টা হয়ে এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে চেপে ধরতে মরিয়া। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল সোমবার সমাজমাধ্যমে লেখেন, “দিল্লিতে থাকা উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রতিটি পরিবারের আজ একই প্রশ্ন— তাঁরা কি এখানে নিরাপদ?” রাহুলের প্রশ্ন, “উত্তর-পূর্বের মানুষদের বিরুদ্ধে এই ধরনের বাড়তে থাকা অরাজকতা রুখতে শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং দিল্লি পুলিশ কী করছে?” কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গেও কড়া সমালোচনা করে লেখেন,“মোদী সরকারের অযোগ্যতার কারণে মণিপুরবাসীকে নিজ রাজ্যে এবং রাজ্যের বাইরে—সর্বত্রই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।” পাল্টা কেন্দ্রের উত্তর পূর্বাঞ্চল মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্রিয়া সোমবার জানান, মণিপুরের এক সঙ্গীত শিল্পীর ওপর রবিবার কয়েকজন হামলা চালায়। পুলিশ প্রায় সব অভিযুক্তকেই গ্রেফতার করেছে। উত্তর পূর্ব ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ আমরা সবাই ভারতবাসী। এখানে ভেদাভেদের কোনও প্রশ্ন নেই।যারা এই নিয়ে অপপ্রচার করবে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দিল্লি পুলিশ জানাচ্ছে, মণিপুরের সঙ্গীত শিল্পীর ওপর হামলার ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরা প্রায় সকলেই ফুড হোম ডেলিভারির সঙ্গে জড়িত। একজন নাবালক রয়েছে। যাদের ধরা হয়েছে তারা হল রমজান খান (২২), বিজয় (৩৬), দীপাংশু (২১), মোহন বিশ্বকর্মা (৩২), ভরত কুমার (১৯), প্রমোদ (২৬),এবং মন্নু (২৬)। পুলিশ সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, জাতিবিদ্বেষ থেকে এই খুন তার কোনও প্রমাণ এখনো তদন্তে উঠে আসেনি প্রাথমিক তদন্তে মনে করা হচ্ছে পুরনো ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরে এই হামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কেন হামলা?
নিহত চোংথামের পরিবার জানাচ্ছে, চোংথাম বিক্রম সিং প্রায় সারাদিন গান বাজনা নিয়েই থাকতেন। পূর্ব দিল্লির বেশ কয়েক জায়গায় তিনি গিটার বাজানো শেখাতেন। নিজে আগে গান গাইতেন তবে ইদানিং গিটার নিয়েই থাকতেন। ফোনেক্স,আল্ট্রা ভায়ারস্,ইস্টার্ন ডার্কের মত বেশ কিছু ব্যান্ডের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন। রবিবার রাতে তিনি যখন নিজের ফ্ল্যাটে গিটার অনুশীলন করছিলেন তখন তার বাড়ির পাশে ধাবায় খাবার নিতে আসা কিছু ডেলিভারি বয় নিজেদের মধ্যে চিৎকার করে কথা বলছিল হাসি ঠাট্টা করছিল। চোংথাম তাদের চিৎকার করতে বারন করেন। প্রথমে এই নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় তার পর ডেলিভারি বয়রা আরো কয়েকজনকে নিয়ে এসে চোংথামকে বেধড়ক মারধর করে। তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। ওই দিন রাতেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় সোমবার তার মৃত্যু হয়। দিল্লি পুলিশ জানাচ্ছে, একটি ধাবায় কোনও বিষয়ে বচসার জেরে হামলা হয়। একটি সিসিটিভি ফুটেজ তাদের হাতে এসেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে কয়েকজন হাতে লাঠি নিয়ে একটি ফ্ল্যাটের ভেতর ঢুকছে আবার খানিকক্ষণ পর দৌড়ে বেরিয়ে আসছে। পুলিশের দাবি, ভিডিও ফুটেজে যাদের দেখা যাচ্ছে তারাই হামলাকারী। এদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের পেছনে আর কেউ আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ
দিল্লি পুলিশ যতোই সব অভিযুক্তকে গ্রেফতারের দাবি করুক না কেন পুলিশের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ দিল্লির মেইতেই গোষ্ঠী এবং উত্তর পূর্বের ছাত্র সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, সাইলাইট কলোনি পুলিশ স্টেশন এলাকায় আগেও মণিপুর সহ উত্তর পূর্বের বাসিন্দাদের ওপর হামলা হয়েছে। শেষ বার ২০২৩ সালে একটি মণিপুরী পরিবার আক্রান্ত হয় তখন-ও পুলিশ আশ্বাস দিয়েছিল এমন ঘটনা আর ঘটবে না কিন্তু ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হল। মেইতেই হেরিটেজ স্যোসাইটি দিল্লি পুলিশকে যে চিঠি দিয়েছে সেখানে তারা অভিযোগ করেছে, চোংথামকে যখন মারধর করা হচ্ছিল তখন তার ছেলে বার বার পুলিশে ফোন করে ঘটনার কথা জানালেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। উল্টে এফ আই আর নেওয়া পর্যন্ত হয়নি। অনেক পরে অভিযোগ নেওয়া হয়। তাদের দাবি, যারা অভিযুক্ত তাদের তো ধরে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবেই তার সঙ্গে যে পুলিশকর্মীরা কর্তব্যে গাফিলতি করেছেন তাদের চিহ্নিত করে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
দিল্লিতে মণিপুরের সঙ্গীত শিল্পীকে পিটিয়ে খুন, গ্রেফতার নাবালক সহ ৮
- khabar365din
- September 8, 2026
- 4:59 pm
- No Comments




