মির্জাপুর সিরিজের ফ্যানদের জন্যই তৈরি মির্জাপুর ছবি
হত্যা, যৌনতা ,স্ল্যা আর গ্যাং যুদ্ধে জমজমাট মনোরঞ্জন
জনপ্রিয় কালীন ভাইয়াকে ছাপিয়ে গেল নবাগত বাব্বান বাবুয়া

৩৬৫ দিন।সৌগত সরকার। মির্জাপুর ছবিটি কেমন হলো? প্রশ্নের উত্তর, যারা মির্জাপুর সিরিজটি দেখেননি , তাদের জন্য পরিচালক এই ছবিটি বানাননি। পরিচালক গুরমিত সিং এবং চিত্রনাট্যকার পুনিত কৃষ্ণ এই ছবিটি নির্মাণ করেছেন কেবল তাদেরই জন্য যারা মির্জাপুর সিরিজ বিগত ছয় বছর ধরে দেখেছেন। ফলে দর্শকদের আগ্রহ ছিল তাদের পরিচিত চরিত্ররা বা জনপ্রিয় চরিত্রগুলো বড়পর্দায় কেমন ভাবে এসেছে তা জানার, দেখার। জনপ্রিয় টিভি সিরিজ থেকে বড় পর্দায় সফল হয়েছে বা সফল হয়নি এমন সিনেমার তালিকা বিরাট লম্বা। যেমন তুমি যে নামগুলো মনে পড়ে, মিশন ইমপসিবল। ১৯৬০ এর দশকে টিভি পর্দায় ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছিল। পরে সিনেমায় এলে ইতিহাস তৈরি হয়। এরপর এই যে নামটা মনে পরবে, ব্রেকিং ব্যাড কিংবা সেক্স ইন দ্যা সিটি। এত গেল হলিউডের কথা, বাংলাতেও সিরিজ হওয়ার পর বড় পর্দায় এসেছে একেন বাবু। ফলে এটা নতুন ফ্রেন্ড নয়, কখনো সফল কখনো বা অসফল। যদিও মির্জাপুর সফল বলে আমার ধারণা।
পরিচালকের কাছে সব থেকে বড় হার্ডল ছিল, ৬ বছর ধরে তিনটি সিজন তৈরি করার পর সেই গল্প নিয়ে একটা পূর্ণাঙ্গ ছবি বানানোর। ছয় বছর ও তিনটি সিজন জুড়ে বিস্তৃত একটি সিরিজে চরিত্র ও পরিস্থিতিগুলো ধীরেসুস্থে গড়ে তোলা সহজ। প্রায় চার ঘণ্টার একটি চলচ্চিত্রকে, দীর্ঘায়িত হওয়া সত্বেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত টানটান উত্তেজনায় বেঁধে রাখাটা অবশ্যই পরিচালকের ক্রেডিট।
এই দিক থেকে, মির্জাপুর দ্য মুভি তার ১৯৭ মিনিটের যাত্রাটা বেশ দাপটের সাথেই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে। এখন সিনেমায় ভায়োলেন্স বেশি হলেই ,রক্তপাত বেশি হলেই জমে যাচ্ছে। এটা ট্রেন্ড। রণবীর কাপুরের অ্যানিম্যাল, পরবর্তীতে ধুরন্ধর সেই ধারা বজায় রেখেছে। আর মির্জাপুরের ভায়োলেন্স বীভৎসতা মৃত্যু হত্যা কিংবা যৌন দৃশ্যের বীজ তো ওটিটি সিরিজের মধ্যেই বপন করা ছিল। ফলে সে দিক থেকে পরিচালকদের অসুবিধা হয়নি। এখানেও সেই মির্জাপুরের সিংহাসন দখলের রক্তক্ষয়ী লড়াইকে কেন্দ্র করে অপরাধ জগতের গ্যাংস্টারদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী লড়াই। রাজনৈতিক হিংসা থেকে রক্তক্ষরণ, গুলিবর্ষণ, ষড়যন্ত্রের মাঝে হঠাৎ এসে যাওয়া যৌনতা, স্ল্যাং ভাষা, অসমাপ্ত প্রেম নিয়েই সফল মির্জাপুর ছবি। শব্দের জন্য সব মসলা মজুত।
ছয় বছর ও তিনটি সিজন জুড়ে বিস্তৃত একটি সিরিজে চরিত্র ও কাঠামো ধীরেসুস্থে গড়ে তোলা সহজ। কিন্তু প্রায় চার ঘণ্টার একটি চলচ্চিত্রকে, তার দৈর্ঘ্য সত্ত্বেও,  দীর্ঘায়িত বলে মনে হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সেই ঝুঁকিও পরিচালক এড়িয়ে গিয়েছেন ক্লাইমেক্সের দুরন্ত টুইস্টে। ফলে কখনোই মনে হয়নি ছবি হিসেবে এটি বেশি দীর্ঘ।
১ স্বমহিমায় কালীন ভাইয়া
বিশ্ব চলচ্চিত্রে একটা কথা আছে, ভারতীয় দর্শকরা দুর্বল সিনেমাকেও ক্ষমা করে দিতে পারেন, যদি চরিত্রগুলো তাদের ভালো লেগে যায়।পঙ্কজ ত্রিপাঠী কালীন ভাইয়ার চরিত্রটা সিরিজে যেই উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, সেই উচ্চতাতেই এই ছবিতে অভিনয় করে গিয়েছেন। কোথাও টিউন ডাউন হয়নি। সেই রোয়াব, সাপের মতো প্রায় ঠোঁট চেপে হিস্ হিসিয়ে কথা বলা, বড় সংলাপকে ছোট ছোট ভাগে ভেঙে বলা, বলা যেতে পারে ঋষির শান্ত অথচ ভয়ংকর ক্ষমতালোভী ও নির্মম এক মাফিয়ার চরিত্রে তিনি বেস্ট ফিট। প্রতিটি নিয়ে, মির্জাপুরের গদি নিয়ে প্রায় ঐতিহাসিক রাজনৈতিক ও মাফিয়া যুদ্ধ, চারপাশের নানা চরিত্র কেউ মুখোশ পরে কেউবা সোজাসুজি শত্রুতায়, এইসব তোলপাড় করে দেওয়া দৃশ্যের মাঝে হঠাৎ শান্ত অথচ নিশংস কালীন ভাইয়া যেন মাস্টার অফ ইউনিভার্স। তারই অদৃশ্য পুতুল নাচের টানে ঘটে যাচ্ছে সব মহাপ্রলয়।
২ চমক বাব্বান বাবুয়া  রবি কিষাণ
তিন সিরিজের গল্প থেকে তিন ঘন্টার ছবি বানাতে গিয়ে একটা মাস্টার স্ট্রোক দিয়েছেন পরিচালক। নতুন এক চরিত্রের আমদানি, বাব্বান বাবুয়া। জয়সলমীরের কুখ্যাত মাফিয়া। মানুষ মারার অস্ত্র হিসেবে যে ব্যবহার করে নকশা কাটা পিতলের কাঁচি। নৃশংস এই মাফিয়া মরুভূমিতে রাজত্ব করার পর মির্জাপুর আসে ক্ষমতা দখল করতে। ক্ষুরধার বুদ্ধি, দুর্দান্ত ম্যানারিজম এবং দুরন্ত হিউমারে বাজিমাত করেছেন রবি কিষান। গ্যাংস্টার বব্বান বাবুয়া যতটা রূঢ় ,প্রেমিকের চরিত্রে ঠিক ততটাই রোম্যান্টিক। যেভাবে চরিত্রটার মধ্যে নৃশংসতার পাশাপাশি হিউমার এবং তীব্র প্রেম সমান্তরাল ভাবে চলেছে,কোন সন্দেহ নেই এই ছবি র মূল আকর্ষণ এই চরিত্র।
৩  বাবলুর চরিত্র বদল মন্দ নয়
মির্জাপুর ছবিটি বাবলু পণ্ডিতের চরিত্রে বিক্রান্ত ম্যাসির জায়গায় পঞ্চায়েত-এর নায়ক জিতেন্দ্র কুমারকে নির্বাচন নিয়ে দ্বিমত থাকতে পারে। মির্জাপুর সিরিজ চেহারা দেখেছেন, তারা বিক্রান্তের প্রেমে পড়ে গিয়েছিলেন। শিক্ষিত মার্জিত অমায়িক কথাবার্তার এক গ্যাংস্টার। যার প্রেম কবিতা স্বপ্ন ছারখার করে, শর্ট গানের গুলিতে ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল  মাথা। বাবলুর মৃত্যুর পর দর্শকদের আকর্ষণ টেনে রাখতে বিরাট টুইস্ট এনেছিলেন পরিচালক। শর্ট টেম্পারড,অস্থির, ভাইয়ের বুদ্ধিতে পথ চলা গুড্ডু পন্ডিত হয়ে উঠেছিল গ্যাংস্টার। মির্জাপুর ছবিতে পরিচালক বিক্রান্তকে পাননি কিন্তু তার বদলে এনেছেন পঞ্চায়েতের অতি জনপ্রিয় সচিবজিকে। বাবলুর চরিত্রের প্রতি সুবিচার করে গিয়েছেন অভিনেতা। শান্তধ্রির তার অভিনয় সিনেমার পর্দায় বিক্রান্তের অভাব পূরণ করেছে বলে আমার ব্যক্তিগত ধারণা।
৪ গুড্ডু পন্ডিতের একই রংবাজি
বাবলু পন্ডিত’ওরফে আলি ফজল। সম্ভবত এ ছবির অন্যতম ইউএসপি।  একেক সময় মনে হয়েছে ছেলেমানুষির সঙ্গে উণামদনার সমান্তরাল সিঁড়িতে তিনি যেভাবে এ ছবিতে দৌড়েছেন, তাতে কয়েকটি দৃশ্যে পঙ্কজ ত্রিপাঠির মতো পোক্ত অভিনেতাকেও লড়তে হয়েছে। কমেডি, রক্তক্ষয়ী অ্যাকশন, ছেলেমানুষি, ছবি জুড়ে কী না করেননি আলি। গুড্ডু পন্ডিত এর ব্যক্তিত্বের এই প্রতিটি  আলি সুনিপুণ অভিনেতার মতো নিখুঁত অভিনয়, ম্যানারিজম এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজে দাপিয়ে গিয়েছেন।
৫ মুন্না আছে মুন্নাতেই
মির্জাপুর সিরিজ দেখে তীব্র ঘেন্নার পাশাপাশি মুন্না ভাইয়ের চরিত্রটাকে অনেকেই ভালোবাসতে শুরু করেছিলেন। দিব্যেন্দু শর্মা এই চরিত্রে অনবদ্য ছিলেন। মির্জাপুর ছবিতেও পরিচালক তাকে একই তারে বেধেছেন। তীব্র যৌনতা, যখন তখন যাকে খুশি হত্যার লিপ্সা, হিংসা এবং একইসঙ্গে সফল বাহুবলির ব্যর্থ পুত্র হওয়ার যন্ত্রণা ফুটিয়ে তুলতে দিব্যেন্দু ১০০ ভাগ সফল। একজন ক্ষ্যাপাটে অপরাধী হওয়ার পাশাপাশি বাবার অর্থাৎ কালীন ভাইয়ার একটুখানি স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য মুন্নার ভেতরের যে আকুতি ও মানসিক টানাপোড়েন, তা দিব্যেন্দু খুব সূক্ষ্মভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। পর্দায় যখনই দিব্যেন্দু হাজির হয়েছেন, দৃশ্য নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছেন। তাঁর সংলাপ বলার ধরন এবং চিরাচরিত হঠাৎ হত্যা করার আকাঙ্ক্ষা সিরিজের মত এই ছবিতেও প্রকটভাবে প্রতিষ্ঠিত। বিশেষ করে  গুড্ডু পণ্ডিত  ও মুন্না ভাইয়ার মধ্যকার অভাবনীয় রসায়ন ও অ্যাকশন দৃশ্যগুলো টেনে রাখে।
সিনেমার মির্জাপুরের গল্প
জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এর গল্প ছোট পর্দা পেরিয়ে এবার বড় পর্দায় হাজির হয়েছে। ক্ষমতার লড়াই আর অদম্য উচ্চাকাঙ্ক্ষার গল্প নিয়ে তৈরি এই চলচ্চিত্রে দেখা যায় মির্জাপুরের একচ্ছত্র অধিপতি আখণ্ডানন্দ ত্রিপাঠী ওরফে কালীন ভাইয়াকে। নিজের ছেলে মুন্নার যোগ্যতার ওপর তাঁর খুব একটা আস্থা নেই, বরং তিনি বেশি ভরসা করেন গুড্ডু ও বাবলু পণ্ডিতের বুদ্ধিমত্তার ওপর। এরই মধ্যে আসন্ন নির্বাচনের ফান্ড জোগাড় করতে কালীন ভাইয়াকে চাপ দেন রাজনীতিবিদ জে পি যাদব। অর্থ সংগ্রহের তাগিদে কালীন নতুন মাদকের চালানের সন্ধান করেন। বাবলু খবর পায় জয়সালমীরের ব্যবসায়ী বব্বনের, যিনি সাত ট্রাক ভর্তি মাদক বিক্রি করতে চান। কিন্তু বব্বনের আড়ালে রয়েছে এক ভিন্ন মতলব; সে সুযোগ বুঝে কালীন ভাইয়াকে সরিয়ে দিতে চায়। এই রাজনৈতিক ও আন্ডারওয়ার্ল্ডের টানাপোড়েন নিয়েই আবর্তিত হয়েছে চলচ্চিত্রের মূল প্রেক্ষাপট।
চরিত্রদের প্রতিষ্ঠার দায় নেই
সিনেমা ব্যাকরণ বলে, প্রথম দশ মিনিটের মধ্যেই নাকি ছবির চরিত্রদের প্রতিষ্ঠা করাটাই নিয়ম। মির্জাপুর ছবির ক্ষেত্রে এটি ব্যতিক্রম। তার একমাত্র কারণ ছবির চরিত্রগুলো বিগত ছয় বছর ধরে ওটি টি প্লাটফর্মে শুধু প্রতিষ্ঠিত নয় জনপ্রিয় বটে। কিন্তু সে তো গেল মির্জাপুর সিরিজ দেখা দর্শকদের কথা। যারা প্রথমবার একটা গ্যাং ওয়ার সিনেমা হিসেবে দেখতে যাবে? তারা কি করে জানবে কে কালীন ভাইয়া? সে কি করে? মির্জাপুর শহর টাই বা কোথায়? কেনই বা মির্জাপুর শহরের গদি নিয়ে এমন রক্তাক্ত হোলি খেলা?  সিনেমাটি সরাসরি মূল গল্পে প্রবেশ করে এবং চরিত্রদের আলাদা কোনো পরিচিতি দেয় না। তাই যারা আগে মির্জাপুর ওয়েব সিরিজটি দেখেননি, তাদের জন্য সিনেমার সব টুইস্ট ও আবেগ ধরা কঠিন। এটা অবশ্যই এই ছবির অন্যতম অন্ধকার জায়গা।
দ্বিতীয়ত, সিনেমার দ্বিতীয় ভাগে যখন গল্প মির্জাপুর থেকে রাজস্থানের জয়শলমীরে শিফট হয়, তখন চিত্রনাট্য কিছুটা খেই হারিয়ে ফেলে এবং ক্লাইম্যাক্সটি অযথা বেশ টেনে লম্বা করা হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। সিনেমাটি শুধু সিরিজের গল্পকে অনুসরণ করেনি, বরং একটি বিকল্প টাইমলাইন বা নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যা পুরো মির্জাপুর ইউনিভার্সকে নতুন রূপ দিয়েছে। সিনেমার একদম ক্লাইম্যাক্স এ পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্যটি  চমকে দিয়েছে, যা মির্জাপুর ইউনিভার্স বা পরবর্তী অধ্যায়ের জন্য দারুণ কৌতূহল রেখে যায়। তবে গল্পের শেষে সেলুনে বসে গুড্ডু পণ্ডিত এবং মুন্না ভাই দুই চিরন্তন শত্রুর মধ্যে সংলাপের আদান-প্রদান কোন দিকে মোড় নেয়, সেই টুইস্ট বলে স্পয়লার দিতে চাই না।
১তেরা বডি মে হিমোগ্লোবিন কম হ্যায় কেয়া, এতনা কম খুন নিকাল রাহ হ্যায়!
বব্বন বাবুয়ার হাতের ধারালো কাঁচির কোপ পড়তে থাকে যুবকের তলপেটে…
২.মুঝে মত মারিয়ে কালিন ভাইয়া, আপ তো বাহুবলী হ্যায়।
হাম নেহি মারেঙ্গে ,হাম বাহুবলী হ্যায়। বাহুবলী মারতে নেহি,ও স্রেফ মারনে কি  অর্ডার দে তে হ্যায় …
৩. শুরু মজবুরি মে কিয়ে দ্য, আব মাজা আ রাহা হ্যায়..গুড্ডু পণ্ডিতের হাতের শট গান গর্জে ওঠে…
৪ অর হাম এক নায়া নিয়ম অ্যাড কার রহে হ্যায়, মির্জাপুর কি গাদ্দি পে বৈঠনে ওয়ালা কাভি ভি নিয়ম বাদল সক্ত হ্যায়…মুন্নার হাতের রিভলভার আগুন ছড়ায়…
সংলাপ গুলো মুখস্থ, অনলাইন ওটিটি প্লাটফর্মে এখনো পর্যন্ত মির্জাপুর সিরিজটি দেখেছেন তিন কোটি সাতাশ লক্ষ দর্শক। ফলে ফলে যারা এই ছবিটি দেখতে এসেছেন তারা সকলেই মির্জাপুরবাসী। ফলে সফল ওটিটি সিরিজ সফল সিনেমায় রূপান্তরের বড় ভূমিকা রেখেছেন মির্জাপুর ফ্যানরা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় টিভি সিরিজ বা ওটিটি প্লাটফর্মে সফল সিরিজকে নিয়ে বড় পর্দায় ছবি হয়েছে। সফলতার ভাগই বেশি।

Scroll to Top