কলকাতা বইমেলায় ইজরায়েলকে থিম কান্ট্রি করার চিন্তাভাবনা কমিটির
স্টল বন্টন থেকে শুরু করে যাবতীয় আয়োজন নজরদারি চালাবে এনবিটি

৩৬৫ দিন। আগামী জানুয়ারি মাসের শুরু হতে চলেছে ৫০ তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা। আর এবারের বইমেলায় থিম কান্ট্রি হিসেবে জায়গা পেতে পারে ইজরায়েল। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্তের তত্ত্বাবধানে কলকাতা বইমেলা আয়োজনের জন্য যে বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি তৈরি হয়েছে সেই উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি এই প্রসঙ্গে জানিয়ে দেন, ইজরায়েলকে থিম কান্ট্রি হিসেবে প্রাথমিক ভাবে ভাবা হয়েছে। তবে থিম কান্ট্রি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যথাসময়ে উপদেষ্টা কমিটিই নেবে বলে জানানো হয়েছে। কারণ বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এবং দেশের বিদেশ মন্ত্রকের অনুমোদনের পাশাপাশি আরো আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় জড়িত রয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি জানিয়ে দেন।
50তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা নিয়ে প্রথম প্রেস কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা কমিটির সদস্য তথা আইনজীবী দেবজিৎ সরকার, গ্রন্থ বিকাশ পরিষদের সদস্য অনির্বাণ দে এবং উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি। আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি জানান, আমি আর অরিন্দম ভট্টাচার্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক৷ আমরা দু’জনেই এই উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক। সেই কারণে আমরাই এই সাংবাদিক বৈঠক করব। আজকে একটি বিশেষ কাজের জন্য অরিন্দম বাবু ব্যস্ত আছেন৷ তাই তাঁর অনুপস্থিতিতে দেবজিৎ সরকার এবং অনির্বাণ দে এসেছেন। অন্যদিকে, এই উপদেষ্টা কমিটির পর আরও কয়েকটি সাব কমিটি তৈরি করা হয়েছে।
স্টল বন্টনের জন্য এনবিটি-র অটোমেশন
বিগত কয়েক বছরে কলকাতা বইমেলায় স্টলবন্টন এবং বিভিন্ন আর্থিক বিষয় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে বলে জানিয়েছে বইমেলার জন্য গঠিত বিশেষ উপদেষ্টা কমিটি। তার জন্য এবারে পাবলিশার্স এন্ড বুক সেলারস গিল্ড এর পাশাপাশি যৌথ আয়োজক হিসেবে রয়েছে ইজেডসিসি ও এনবিটি। বইমেলায় স্টল বন্টন এর ক্ষেত্রে যাতে কোন দুর্নীতি বা অস্বচ্ছতার অভিযোগ না ওঠে তার জন্য এনবিটি যেভাবে আন্তর্জাতিক বই মেলা বা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বড় মাপের বইমেলা আয়োজন করে তাদের অটোমেশন প্রক্রিয়াকে কলকাতা বই মেলাতেও কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় বইমেলায় ব্যবহৃত ব্যবস্থার আদলে কম্পিউটারাইজড বা অটোমেটিক পদ্ধতিতে স্টল বণ্টন করা হতে পারে। কলকাতা বইমেলায় ঠিক কোন পদ্ধতি নেওয়া হবে, তা ন্যাশনাল বুক ট্রাস্টের তরফে সফটওয়্যার সামনে আসার পর আরও পরিষ্কার হবে। সেই সফটওয়্যার কীভাবে কাজ করবে, কত ধরনের ইউনিট থাকবে এবং কীভাবে প্রকাশকদের জায়গা নির্ধারণ করা হবে – সবকিছু বোঝার পর প্রকাশকদের বিষয়টি জানানো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বইমেলার থিম
বইমেলা উপদেষ্টা কমিটির আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি বলেন, আগামী বছরের বইমেলার কেন্দ্রীয় থিম হতে পারে বন্দে মাতরম-এর ১৫০ বছর। এটি স্বাধীনতা আন্দোলন, জাতীয়তাবাদ এবং ভারতের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তিনি জানান, আগামী বইমেলায় বাংলার ইতিহাস, সাহিত্য এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনের বিভিন্ন দিকও গুরুত্ব পাবে। কমিটি দেশভাগের ইতিহাস এবং পশ্চিমবঙ্গ গঠনের পরিস্থিতি তুলে ধরার বিষয়টি বিবেচনা করছে। জনপ্রিয় সংস্কৃতিও বইমেলায় জায়গা পেতে পারে। উত্তম কুমারের জন্মশতবর্ষ এবং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাটক রক্তকরবী-র ১০০ বছর পূর্তিও আলোচ্য বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে বলে তিনি জানান।
বইমেলায় বাংলাদেশের স্টল প্রসঙ্গে
গত দু’বছর কলকাতা বইমেলায় রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশের স্টলকে জায়গা দেওয়া হয়নি। এবারেও সেই সম্ভাবনা কার্যত ক্ষীন বলেই জানা গিয়েছে। আহ্বায়ক প্রসেনজিৎ বক্সি জানান, বাংলাদেশের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে শুধু বইমেলা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই যথেষ্ট নয়। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র দফতর এবং বিদেশ দফতরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা কী সিদ্ধান্ত নেয়, কী নির্দেশ দেয়, তার উপর অনেকটাই নির্ভর করবে বাংলাদেশের প্রকাশকরা এবার কলকাতা বইমেলায় আসতে পারবেন কি না।

Scroll to Top