কেন্দ্রের আদলে রাজ্যে ‘মুখ্যমন্ত্রী-শ্রী’ প্রকল্প’, শিক্ষক দিবসে ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর, আশ্বাস শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের

৩৬৫ দিন। শিক্ষক দিবসে রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য বিশেষ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার নিউ টাউনের কনভেশন সেন্টারে ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষাসম্মান’ প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রী’ প্রকল্পের আদলে রাজ্যের স্কুলগুলির জন্য চালু হবে ‘মুখ্যমন্ত্রী শ্রী’ প্রকল্প। এরই পাশাপাশি তিনি জানান, উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমাঞ্চলের জন্য ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন স্পোর্টস্‌’ গড়ে তোলা হবে।এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘প্রধানমন্ত্রী শ্রী’-র আদলেই এ রাজ্যে চালু হবে ‘মুখ্যমন্ত্রী শ্রী’। প্রতিটি জেলায় দু’টি করে স্কুল এই প্রকল্পের আওতায়। বিশেষ সুবিধা পাবে তারা। সে ক্ষেত্রে ওই স্কুলগুলিতে উন্নতমানের পাঠপদ্ধতি গ্রহণ করা হবে। সরকারি উদ্যোগে তৈরি হবে স্মার্ট ক্লাসঘর, ডিজিটাল গবেষণাগার। একই সঙ্গে ওই সব স্কুলে যাতে সেরা মানের শিক্ষক নিয়োগ করা যায়, সে দিকেও লক্ষ রাখা হবে।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে উন্নতির জন্য দু’টি পরিকাঠামোগত প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে। এ জন্য উত্তরবঙ্গে এবং রাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলে গড়ে তোলা হবে দু’টি ‘সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ইন স্পোর্টস্‌’। সেখানে স্কুল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমেই নিয়োগ করা হবে প্রশিক্ষক, ক্রীড়া শিক্ষক, ফিজ়িক্যাল ইনস্ট্রাক্টর পদে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এ রাজ্যের পড়ুয়ারা যেন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক স্তরে যোগ দিতে পারে, সেই ব্যবস্থা আমরা করে দেব। ভারতের প্রাচীনতম খেলা খো-খো, হাডুডু, ফুটবলকে বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে হবে।” মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে ব্রতচারীর কথাও।শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে কলকাতার মিত্র ইনস্টিটিউশনে সর্পদষ্ট ছাত্রের কথাও। তিনি বলেন, “কলকাতার একটি স্কুলপড়ুয়াকে সাপে কামড়েছে। এটা ভাবা যায় না। কিন্তু এমন হতেই পারে, কারণ, স্কুলগুলি গত তিন বছর কম্পোজ়িট গ্রান্টের টাকা পায়নি। ওই টাকা খুব সামান্য হলেও তা দিয়েই তো ব্লিচিং পাউডার, কার্বলিক অ্যাসিড কেনা হয়।” এ প্রসঙ্গে বিগত সরকারের সমালোচনাও করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, গত তিন বছরে এক টাকাও পায়নি স্কুলগুলি। ফলে একাধিক নিত্যকাজও সারতে পারেননি কর্তৃপক্ষ।
এদিন দ্রুত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের আশ্বাসও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, স্কুলের উন্নতির জন্য পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী থাকা প্রয়োজন। ঘণ্টা বাজানো থেকে সাইকেল স্ট্যান্ডের দেখাশোনা— সকল কর্মীই নিয়োগ হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা শিক্ষক নিয়োগ করে দেব, নিশ্চিন্তে থাকুন। সুপ্রিম কোর্ট ও হাই কোর্টের নির্দেশ মাথায় রেখেই শিক্ষক নিয়োগ হবে। কোনও অন্যায় হবে না। এসএসসি-কে বলেছি, মৌখিক পরীক্ষায় যেন ৫ নম্বরের বেশি না দেওয়া হয়।” এদিন স্কুলের পাঠ্যক্রম পরিবর্তনের কথাও ফের জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, “টাটা-বিতাড়ন প্রসঙ্গ’ বাদ পড়ছে পড়ুয়াদের পাঠ্য থেকে।”

Scroll to Top