পিঠে বোনকে বেঁধে ধ্বংসস্তুপে একাকী বালক খুঁজছে পরিবার বাবা-মাকে
নেপালের বালক মনে করিয়ে দেয় হিরোশিমার ছবি

৩৬৫ দিন।পিঠে দুধের শিশু। বোনকে বেঁধে কাদামাখা পথে হেঁটে চলেছে এক বালক। চোখে-মুখে ক্লান্তি, শরীরজুড়ে কাদা। তবু থামছে না তার পথচলা। হন্যে হয়ে খুঁজছে মা-বাবাকে। তার চারিদিকে কেবলই ধ্বংসলীলা।১৯৪৫ সালের ১১ আগস্ট পরমাণু বোমায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া আস্ত হিরোশিমার পর নাগাসাকি শহরের বুকে এক বালক কাপড় দিয়ে তার মৃত  ভাইকে পিঠে বেঁধে ধ্বংসস্তূপে খুঁজে বেড়াচ্ছিল বাবা মা পরিজনের লাশ। তারপর সে এসে দাঁড়ায় গণ সৎকারের জায়গায়। বালককে প্রশ্ন করা হলে সে জবাব দেয়,হি ইজ নট হেভি। আমার ভাই অত ভারী নয়। পারমাণবিক বোমা হামলার প্রায় দুই মাস পর আমেরিকান সার্জেন্ট জো ও’ডনেল একটি বিধ্বস্ত বালকের ছবি তুলেছিলেন। সেই ছবিতে বালকটির পিঠে ছিল তার মৃত ছোট বোন। ছবিটি পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের ভয়াবহতার অন্যতম প্রতীক হয়ে ওঠে। চিত্রগ্রাহকের তোলা ছবি ঘটনার দশ দিন পরে প্রকাশিত হলে, গোটা বিশ্বে হইচই পড়ে যায়। সেই হিরোশিমা বালক নাকুশি প্রয়াত হয়েছেন সাত বছর আগে। ২০২৬ সালের ৩০ আগস্ট। বিধ্বস্ত নেপালের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কাদামাটি ঘেঁটে পিঠে ছোট্ট বোনকে গামছা দিয়ে বেঁধে এক বালক খুঁজে বেড়াচ্ছে তার বাবা মা এবং পরিজনকে। ৮১ বছর পর এই দুই চিত্র যেন ঐতিহাসিকভাবে একই। নাম না জানা এই ছোট্ট নেপালি বালক যেন হিরোশিমার সেই ছোট্ট বালক নাকুশি
হিরোশিমা আর নেপাল যেন বিধ্বস্ত ভয়ংকর এর প্রাচুর্যে একই জায়গায় অবস্থান করছে। অজ্ঞাত কোন ইউটিউবার এর ফোনে ধরা পড়েছে নেপালের এই চিত্র। হিরোশিমা সেই ঘটনা এবং দৃশ্য অবলম্বনে পরবর্তীকালে নির্মিত অ্যানিমেশন ছবি গ্রেভ অফ দ্য ফায়ারফ্লাইস তৈরি হয়েছিল,সাড়াও ফেলেছিল দর্শকমহলে। নেপালের এই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, নেপালের বিপর্যস্ত পথে হেঁটে বেড়াচ্ছে খুদে দাদা। তার পিঠে বাঁধা ছোট বোন। সে একেবারে দুধের শিশু। দু’জনেরই মুখ, হাত, পা কাদায় অপরিষ্কার। চোখে ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট।বালকটির চোখে-মুখে কাদা লেগে আছে। দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটার কারণে তার শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে। তারপরও ছোট ছোট পায়ে সে এগিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে চারপাশে তাকাচ্ছে। যেন ভিড়ের মধ্যে কিংবা ধ্বংসস্তূপের পাশে মা-বাবার দেখা মিলবে,এমন আশাতেই পথ চলছে সে। বিপর্যস্ত রাস্তায় শুধু বাবা-মায়ের খোঁজ করে চলেছে দু’টি চোখ। আর বোন বোঝে না কিছুই। কী যে বিপর্যয়, কোথায় তার বাবা-মা জানে না কিছুই। শুধুই কেঁদে চলেছে সে। এই ভিডিওটি এক্স হ্যান্ডলে গত ৩০ আগস্ট শেয়ার করা হয়। তবে ওই শিশুদের নাম, ঠিকানা সম্পর্কে কিছুই জানা যায়নি। আদৌ তাদের বাবা-মা বেঁচে রয়েছেন কিনা, থাকলেই বা কোথায় রয়েছেন, তা জানেন না কেউ। ভিডিও দেখে চোখের জল যেন ধরে রাখতে পারছেন না নেটিজেনরা। আদৌ কী আছে দু’জনের ভাগ্যে, তা কারও জানা নেই। তবে সকলেই প্রার্থনা করেছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দুই খুদে যেন তার বাবা-মায়ের খোঁজ পায়।

Scroll to Top