ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিলেন রেনিয়ার ফার্নান্ডেজ,কাস্টমসকে হারাল লাল হলুদ

ইস্টবেঙ্গল – ২ কাস্টমস – ০

৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী। কথায় আছে উপরওয়ালা যাব দেতা হে দেতা ছাপ্পার ফারকে। অর্থাৎ উপরওয়ালা যখন দেন হাত খুলে দেন। ইস্টবেঙ্গলের খারাপ সময়টা এখন মনে হচ্ছে অনেকটাই অতীত। এখন তাদের সুসময় চলছে। যা হচ্ছে ভালো হচ্ছে লাল হলুদের জন্য। আসলে জীবনের মত ফুটবল জগতটাও একটা সার্কেল। ভালো, খারাপ মিশিয়ে চলে। দীর্ঘদিন প্রায় দশটা বছর চূড়ান্ত হতাশায় কেটেছিল লাল হলুদ সমর্থকদের। ১২ বছর পর ওড়িশাকে হারিয়ে সুপার কাপ জয়। তারপর একে একে আইএসএল এবং ডুরান্ড। এখন দেশের বেশির ভাগ ভালো ফুটবলার মোহনবাগানের পাশাপাশি ইস্টবেঙ্গলে সই করছেন সমানভাবে। আসলে এখন ইস্টবেঙ্গল ভারত সেরা দল। তাছাড়া এবছর এশিয়ার মানচিত্রেও ভারতের দায়িত্ব তাদের কাঁধে। আইএসএলের আগে মাঝমাঠের শক্তি বাড়িয়ে নিল ইস্টবেঙ্গল। জাতীয় দলের আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার রেনিয়ার রেমন্ড ফার্নান্ডেজকে এক বছরের চুক্তিতে দলে নিল লাল-হলুদ শিবির। গত ডুরান্ড কাপে জামশেদপুর এফসির হয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন তিনি। ফার্নান্ডেজের সঙ্গে চুক্তির কথা রবিবার সরকারি ভাবে জানিয়েছেন ইস্টবেঙ্গল কর্তৃপক্ষ।মোহনবাগানের প্রাক্তন ফুটবলার ফার্নান্ডেজের সঙ্গে ডুরান্ড কাপের সময়ই যোগাযোগ করেন ইস্টবেঙ্গল কর্তারা। মূলত মাঝমাঠের ফুটবলার হলেও ৩০ বছরের ফার্নান্ডেজ গোলও করতে পারেন। মোহনবাগান, জামশেদপুর এফসি ছাড়াও মুম্বই সিটি এফসি, ওড়িশা এফসি, এফসি গোয়ার মতো ক্লাবের হয়ে আইএসএস খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে মুম্বইয়ের ফুটবলারের। খেলেছেন ভারতের হয়েও।আইএলএল শিল্ড, আইএসএল কাপ এবং এআইএফএফ সুপার কাপজয়ী দলের সদস্য ছিলেন ফার্নান্ডেজ। আইএসএলে ১২৫টি ম্যাচ খেলেছেন এখনও পর্যন্ত। এ ছাড়া মোহনবাগানের হয়ে আই লিগের ১৯টি ম্যাচ খেলেছেন তিনি। ফার্নান্ডেজ যোগ দেওয়ায় ইস্টবেঙ্গলের মাঝমাঠের সঙ্গে আক্রমণ ভাগের বোঝাপড়া আরও ভাল হবে বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা লিগের সুপার সিক্স নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছিল মাত্র ১ পয়েন্ট। তবে ড্র নয়, ক্যালকাটা কাস্টমসকে উড়িয়েই গ্রুপ পর্ব টপকাল ইস্টবেঙ্গল। এই গ্রুপ থেকে ইতিমধ্যে ভবানীপুর, মোহনবাগান সুপার সিক্সে চলে গিয়েছে। এবার ২-০ গোলে জিতে জায়গা করে নিল লাল-হলুদ বাহিনীও। ঘরের মাঠে ইস্টবেঙ্গলের হয়ে গোল করেছেন মনোতোষ মাঝি ও আকাশ হেমব্রম। প্রথম গোলটা পেতে সময় লাগল মাত্র ৩ মিনিট। শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের চাপে বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যর দল। মাঝমাঠ থেকে একক দক্ষতায় বল নিয়ে বক্সের মধ্যে ঢুকে যান অধিনায়ক তন্ময় দাস। সেখান থেকে বল চলে আসে মনোতোষের কাছে। জালে বল জড়াতে ভুল করেননি তিনি। ৩৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোল আকাশের। তবে এতে কাস্টমসের অবদানই বেশি। মনোরঞ্জন সিং বক্সের মধ্যে বল ক্লিয়ার করতে অযথা ঝুঁকি নিলেন। ফলে সেই বল চলে আসে আকাশের কাছে। কার্যত ফাঁকা জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি। ইস্টবেঙ্গলের কলকাতা লিগের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার অর্চিমান বিশ্বাস জানালেন, ছেলেদের বেশি কিছু তার বোঝানোর দরকার পড়েনি। প্রত্যেকেই এই দলটার সঙ্গে গত চার বছর ধরে আছে। একে অপরকে চেনে এবং মাঠে বোঝাপড়া দেখেই সেটা বোঝা যায়। এটারই লাভ পাচ্ছে ইস্টবেঙ্গল।
এই দলের অধিকাংশ ছেলে এক সঙ্গে দীর্ঘদিন খেলার কারণে কাউকে নতুন করে জায়গা বা মুভমেন্ট বোঝানোর দরকার পড়ে না। একটা টেলিপ্যাথি এমন হয়ে গেছে না দেখেও একজন ফুটবলার বুঝতে পারে অন্যজন কোথা দিয়ে দৌড়াবে। তাই এবার যদি লাল হলুদ কলকাতা লিগ আবার জিততে পারে তাহলে লিগ জয়ের হ্যাটট্রিক হবে তাদের। কাস্টমসের দায়িত্বে থাকা কোচ বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য বলেন নিঃসন্দেহে ইস্টবেঙ্গল লিগের সেরা দল। সবকটা বিভাগে ওরা এগিয়ে বাকিদের থেকে। চ্যাম্পিয়ন না হলে অবাক হব।

Scroll to Top