৩৬৫ দিন। চাঁদের দক্ষিণ মেরুর কাছে ভারতের ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করে কলকাতার বীরলা ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল মিউজিয়ামে (বিআইটিএম) শুরু হয়েছে জাতীয় মহাকাশ দিবস উদ্যাপন। ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিন ধরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মহাকাশবিজ্ঞানকে বইয়ের পাতার গণ্ডি থেকে বের করে সাধারণ মানুষ ও পড়ুয়াদের সামনে হাতেকলমে তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট চন্দ্রযান-৩-এর চাঁদের দক্ষিণ মেরু সংলগ্ন এলাকায় সফল অবতরণের ঐতিহাসিক মুহূর্তকে কেন্দ্র করেই জাতীয় মহাকাশ দিবস পালনের সূচনা। বিআইটিএম-এর আধিকারিকের কথায়, এই সাফল্য শুধু ভারতের গর্ব নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মহাকাশবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং স্পেস টেকনোলজিকে পেশা ও গবেষণার ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিতে উৎসাহিত করারও বড় সুযোগ। সেই লক্ষ্যেই ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
তিন দিনের অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ‘স্পেস-ট্যাকুলার’ বিজ্ঞান প্রদর্শনী। প্রতিদিন সকাল ১১টায় আয়োজিত এই শো-তে রকেট কীভাবে কাজ করে, মহাকাশে অক্সিজেন না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে রকেটের জ্বালানি দহন সম্ভব, এই জটিল বিষয়গুলিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ছাত্র – ছাত্রীদের বোঝানো হচ্ছে। হাইড্রোজেন, অক্সিজেন-সহ বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করে দহন প্রক্রিয়ার প্রদর্শনও করা হচ্ছে। পুরো অনুষ্ঠানটি রাখা হয়েছে ইন্টার্যাক্টিভ, যাতে পড়ুয়ারা এবং সাধারণ মানুষেরা সরাসরি অংশ নিতে এবং প্রশ্ন করতে পারে।দুপুর ১২টা থেকে রয়েছে ‘ইন্ডিয়া ইন স্পেস’ ওপেন হাউস কুইজ। ভারতের মহাকাশ গবেষণা, ইসরো এবং দেশের মহাকাশ অভিযানের নানা সাফল্য নিয়ে এই কুইজে পড়ুয়া থেকে সাধারণ মানুষ—সকলেই অংশ নিতে পারছেন। সঠিক উত্তরদাতাদের জন্য রয়েছে পুরস্কারের ব্যবস্থাও।
সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত ‘নাইট স্কাই: থ্রু টেলিস্কোপ’-এর মাধ্যমে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকছে। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে প্রথম লক্ষ্য হিসেবে চাঁদকে টেলিস্কোপে দেখানো হবে। পাশাপাশি পরিস্থিতি অনুকূল হলে অন্যান্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তুও দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বর্ষার মেঘলা আকাশ অবশ্য এই পর্যবেক্ষণে কিছুটা বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিআইটিএমের আধিকারিকের সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা-সহ বিভিন্ন জায়গার প্রায় ১৩-১৪টি স্কুল এই কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। আগামী দিনেও আরও কয়েকটি স্কুল আসার কথা। আধিকারিকের দাবি, শো শেষ হওয়ার পর পড়ুয়াদের নানা প্রশ্ন ও কৌতূহলই এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় সাফল্য। গত এক বছরে আটটিরও বেশি নতুন বিজ্ঞান প্রদর্শনী চালু করেছে বিআইটিএম। লক্ষ্য একটাই—বিজ্ঞানকে শুধু বয়েই পড়া নয়, হাতে-কলমে শেখানো এবং তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার দিকে এগিয়ে দেওয়া।
মহাকাশকে হাতের মুঠোয়, জাতীয় মহাকাশ দিবস উপলক্ষে বিআইটিএম-এ বিজ্ঞানচর্চার উৎসব
- khabar365din
- August 25, 2026
- 2:56 pm
- No Comments





