আনন্দপুরের অভিজাত বহুতলে ধর্ষণের চেষ্টা
বাধা দেওয়ায় একের পর এক ছুরির কোপ চলন্ত ট্রেন থেকে গ্রেফতার অভিযুক্ত

৩৬৫ দিন। আনন্দপুরের অভিজাত আবাসনে পরিচারিকাকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ। বাধা দেওয়ায় রান্নাঘরের ছুরি দিয়ে তাঁকে আঘাত করারও অভিযোগ উঠল অন্য এক কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর কলকাতা থেকে পালিয়ে বিহারে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষরক্ষা হল না। চলন্ত অমৃতসর মেল থেকে দুর্গাপুরে নামার আগেই অভিযুক্ত মন্টু কুমারকে আরপিএফের সাহায্যে গ্রেফতার করল লালবাজারের গোয়েন্দারা।পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার বিকেল তিনটে নাগাদ আনন্দপুর থানা এলাকার একটি বহুতলের ফ্ল্যাটে ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত ওই ফ্ল্যাটে রাঁধুনির কাজ করত। সম্প্রতি সেখানে কাজে যোগ দেন দক্ষিণ সুন্দরবনের বাসিন্দা এক মহিলা। ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে অন্য কেউ ছিলেন না। রান্নাঘরে কাজ করার সময় আচমকাই পিছন থেকে তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে মন্টু। অভিযোগ, তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে সে। মহিলা বাধা দিয়ে অভিযুক্তকে ধাক্কা দিলে মন্টু রান্নাঘর থেকে ছুরি নিয়ে এসে তাঁর উপর হামলা চালায়।রক্তাক্ত অবস্থায় রান্নাঘরে পড়ে যান ওই মহিলা। তাঁর চিৎকার ও শব্দ শুনে ফ্ল্যাটের বাসিন্দারা ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তাঁকে দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়।তদন্তে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগের গুন্ডাদমন শাখা। পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্ত বিহারের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ ছিল। এরপর কোন কোন ট্রেনে করে বিহারে পালানো সম্ভব, তা খতিয়ে দেখেন গোয়েন্দারা। মন্টুর ছবি সংগ্রহ করে আরপিএফ ও রেল পুলিশকে পাঠানো হয়। এরপর হাওড়া থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছাড়া অমৃতসর মেলে নজরদারি শুরু হয়। রাত ৯টা নাগাদ ট্রেনটি দুর্গাপুরে ঢোকার সময় দরজার কাছে মন্টুকে দেখতে পান পুলিশকর্মীরা। দুর্গাপুরে নেমে অন্য ট্রেনে উঠে পালানোর আগেই আরপিএফের সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়।

Scroll to Top