মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসে আমায় থ্রেট করছেন যে রাস্তায় বেরোতে দেবেন না
শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের

৩৬৫ দিন। মুখ্যমন্ত্রী চেয়ারে বসে আমায় থ্রেট করছেন যে রাস্তায় বেরোতে দেবেন না। সোমবার তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভ এর পর নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি বলেন, “ফেসবুকেই থাকুন আপনি বিকেলবেলায়। আপনাকে রাস্তায় আর বেরোতে হবে না। রাস্তায় আপনি যাতে না বেরোতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।’’ এরপরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার রাতে টুইট করে মমতা জানান, মুখ্যমন্ত্রী নিজের সরকারি চেয়ারে বসে আমাকে থ্রেট করেছেন, আমি যেন বাড়ির থেকে বের হতে না পারি সেটা উনি দেখবেন। আমি রাষ্ট্রপতি, দেশের প্রধান বিচারপতি সর্বোপরি দেশের মানুষের কাছে বলতে চাই, সংবিধান ভাঙার কাজ চলছে। একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে তিনি প্রকাশ্যে বিরোধী নেত্রীকে হুমকি দিচ্ছেন। “আমি দেখব আপনি যেন বাড়ি থেকে বের হতে না পারেন”, এই কথাটা গণতন্ত্র বিরোধী, এটা বলা যায় না। তার মানে কি উনি আমাকে হাউজ অ্যারেস্ট করতে চান। এই ধরনের ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি, যেখানে রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা থাকবে না, সবাইকে হুমকি দিয়ে দাগিয়ে রাখা যাবে এবং সাংবিধানিক অধিকার বলে কিছু থাকবে না এমনই এক ভয়ের পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে বিজেপি। গোটা ভারত অ্যামোনিয়া এক স্বৈরাচারী সরকারকে প্রত্যক্ষ করছে। স্বৈরাচারদের পতন হবেই। ওদের দিন ঘনিয়ে এসেছে।”
পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন যে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাকে রাস্তায় বেরোতে বাধা দেওয়ার এবং গৃহবন্দী করার হুমকি দিয়েছেন। জবাবে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন যে তিনি এই ধরনের হুমকিতে পিছপা হবেন না এবং রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবেন।
তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, অন্নপূর্ণা যোজনা ও অন্যান্য ইস্যুতে সাধারণ মানুষের আন্দোলন দমন করতে এবং তাকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে তাকে রাস্তায় নামতে বা বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হবে না।
অন্যদিকে, বিরোধী ও শাসক শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী বা বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে মন্তব্য করা হয়েছে যে আন্দোলন বা প্রতিবাদের নামে রাস্তায় নামার প্রয়োজন নেই, বরং আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হবে।
নবান্নতে বসে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একে গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করার এবং রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষকে ভয় দেখানোর চেষ্টা বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সোমবার ফেসবুক লাইভে শুভেন্দুর সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বেশ কিছু মন্তব্য করেন মমতা। তাঁর আমলে মহিলাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার প্রকল্প লক্ষ্মীর ভান্ডার ফিরিয়ে আনতে বলে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। ভোটের পর মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করেছে পদ্মশিবির। শুধু তা-ই নয়, অন্নপূর্ণা যোজনা চালানোর জন্য বর্তমান সরকারের পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে তার প্রত্যুত্তরে শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘ফেসবুকেই থাকুন আপনি বিকেলবেলায়। আপনাকে রাস্তায় আর বেরোতে হবে না। রাস্তায় আপনি যাতে না বেরোতে পারেন, তার ব্যবস্থাও আমি করব।’’
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যোগ্য প্রাপকদের কেউই বঞ্চিত হবেন না। কিন্তু প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ধর্মের ভিত্তিতে বিভাজনের অভিযোগ করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র নন্দীগ্রামের তুলনা টেনে শুভেন্দুর মন্তব্য, ‘‘নন্দীগ্রামের একটা গ্রাম পঞ্চায়েতের কথা বলব? হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখানে ৮৬ শতাংশ হিন্দুর বাস। আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়েছিলেন মাত্র দু’জন হিন্দু ধর্মাবলম্বী! অ্যাপিজমেন্ট? গোটা রাজ্যের হিসেব আমার কাছে আছে। কী রকম তোষণ করেছেন, সব হিসেব আছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বাছাবাছি উনি করতেন। আমি করি না। ধর্ম দেখে উনি বাছাবাছি করতেন। আমি করি না।’’

Scroll to Top