ইস্টবেঙ্গল – ১ (মনতোষ) কালীঘাট – ০
৩৬৫ দিন স্পোর্টস। ফুটবল ময়দানে একটা চলতি প্রবাদ আছে। লাক ফ্যাক্টর কখন কোন দিকে ঘুরে যাবে কেউ জানে না। দীর্ঘ একটা সময় ধরে বছরের পর বছর ব্যর্থ হচ্ছিল ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু শেষ দেড় বছর ইস্টবেঙ্গল যেন নিজেদের সেরা সময়ের কাছাকাছি আসা শুরু করেছে একটু করে। ফুটবল ঈশ্বর হয়তো লাল হলুদের শনির দশা কাটিয়ে দিয়েছেন। ভারতীয় ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখতে গেলে ইস্টবেঙ্গলের সাফল্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্টবেঙ্গলের পুরুষ এবং মহিলা দল চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যোগ্যতা অর্জন করেছে। রবিবার ঘরে এসেছে ১৭তম ডুরান্ড কাপ। এর মাঝে কলকাতা লিগেও ইস্টবেঙ্গলের জয়যাত্রা অব্যাহত। সোমবার কালীঘাট মিলন সংঘকে ১-০ গোলে হারাল ইস্টবেঙ্গলের। ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন মনোতোষ মাঝি। কলকাতা লিগে আগের দু’টি ম্যাচে ড্র করেছিল ইস্টবেঙ্গল। আবার জয়ে ফিরল তারা। ৭ ম্যাচে ১৭ পয়েন্ট হল তাদের। শীর্ষে থাকা ভবানীপুরের ৯ ম্যাচে ২১ পয়েন্ট। অর্থাৎ ইস্টবেঙ্গল পর পর দু’টি ম্যাচ জিতলে ভবানীপুরকে টপকে যাবে। ভবানীপুর এদিন রেলওয়ের বিরুদ্ধে ২-২ ড্র করেছে। তবে আজ ইস্টবেঙ্গলের জয় পেতে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে। কালীঘাট কঠিন লড়াইযের মধ্যে ফেলেছিল তাদের। ইস্টবেঙ্গল নামটা দেখে ভয় না পেয়ে নিজেদের লড়াইয়ের উপর ভরসা রেখেছিল তারা।
ম্যাচের একমাত্র গোলের জন্য ইস্টবেঙ্গলকে অবশ্য ৮৪ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। তবে সুযোগ ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারলে অনায়াসে পাঁচ-ছয় গোলের ব্যবধানে জিততে পারত তারা। তবে ফুটবলে কি হতে পারতো এই ব্যাপারটার কোন গুরুত্ব নেই। আক্রমণ ভাগের ব্যর্থতা, বল পোস্টে-বারে লাগা এবং কালীঘাটের গোলকিপার রঞ্জন সোরেনের ভাল কিছু সেভ না থাকলে অনায়াসে এই ম্যাচ ইস্টবেঙ্গলের পক্ষে আরও বড় ব্যবধানে জেতার কথা। কালীঘাট কয়েক বার আক্রমণ করলেও ইস্টবেঙ্গলের জালে বল ঢোকাতে পারেনি। প্রথমার্ধে কোনও দলই গোল করতে পারেনি। তবে ইস্টবেঙ্গল বেশ ক’টি সুযোগ পেয়েছিল। চাকু মান্ডি, বিজয় মুর্মুদের শট আটকে দিয়ে দলকে বাঁচান কালীঘাটের রঞ্জন। অন্তত তিন-চারটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়েছেন তিনি। অবশেষে কালীঘাটের প্রতিরোধ ভাঙে ম্যাচের শেষের দিকে। ইস্টবেঙ্গলের কর্নার থেকে ভেসে আসা বল হাতে লাগে কালীঘাটের এক ডিফেন্ডারের। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। সেখান থেকে গোল করতে ভুল করেননি অভিজ্ঞ মনোতোষ। পেনাল্টি থেকে দলের পতন আটকাতে পারেননি রঞ্জন। শেষের দিকে আরও একটি ভুল করেছিলেন তিনি।
একটি ক্রস থেকে ভেসে আসা বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। কিন্তু ফাঁকা গোলেও বল ঠেলতে ব্যর্থ হন ইস্টবেঙ্গলের বিজয়। তবে শেষ পর্যন্ত তারা জিতেছে এবং তিনটি পয়েন্ট ইস্টবেঙ্গল ঘরে তুলেছে এটাই বড় ব্যাপার। এমনিতেই ডুরান্ড কাপ থেকে রানার্স হয়ে বিদায় নিয়েছে বাগান। তাদের পরবর্তী কলকাতা লিগের ম্যাচ ২৬ তারিখ জর্জের বিপক্ষে। সেই ম্যাচে সিনিয়র দলের চার পাঁচ জন ফুটবলারকে খেলাবে ম্যানেজমেন্ট। অর্থাৎ হাতে থাকা পাঁচটা ম্যাচ জয়ের চেষ্টা করবে মোহনবাগান। যে কলকাতা লিগ একসময় পাত্তা দিত না মোহনবাগান সেটা এখন তাদের টার্গেট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটাই প্রমাণ করে চিরকাল সমান নাহি যায়। এদিকে আজ সকালে ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে পতাকা তোলা হল ডুরান্ড জয় পালন করতে। উপস্থিত ছিলেন সরকারের পক্ষ থেকে তাপস রায়। ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের প্রেসিডেন্ট লোহিয়া, প্রাক্তন কিছু ফুটবলার।





