ভোটের আগে অন্নপূর্ণা যোজনায় টাকা পেতে যোগ্যতার কথা বলেনি বিজেপি, বিজেপি ঠিক করবে কে যোগ্য আর কে অযোগ্য?
ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক মমতা

৩৬৫ দিন। ভোটের আগে টাকা পেতে যোগ্যতার কথা বলেনি বিজেপি। বিজেপি ঠিক করবে কার যোগ্যতা আছে? কার যোগ্যতা নেই? কেন মেয়েরা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাচ্ছেন না? এভাবেই আজ ফেসবুক লাইভে এসে রাজ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে রাজ্যের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, বর্ণ, ধর্ম দেখে মহিলাদের টাকা দেওয়া হচ্ছে। প্রজেক্ট করতে গেলে টাকার অঙ্ক জমা রাখতে হয়। মা বোনেদের আত্মনির্ভরতার জন্য লক্ষ্মীর ভান্ডার দিয়েছিলাম। বাংলার লক্ষ্মীরা আজকে যেভাবে রাস্তায় কাঁদছেন তাদেরকেও সহমর্মিতা জানাচ্ছি। প্রশাসনের কাছে যারা নিজেদের কথাগুলো পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদেরকে সমর্থন করি। মা-বোনেরা লক্ষ্মীর ভান্ডার পেতেন। আমি নির্বাচনের আগেও তা দিয়েছি। নির্বাচনের পরে প্রচুর নাম বাদ গিয়েছে। সার্ভে না করলে তা জানা  যাবে না। নির্বাচনের আগে বিজেপি কর্মী-এজেন্সিরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা দিয়ে ফর্ম ফিলআপ করিয়েছিল। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো বিজেপি ক্ষমতায় এলে অন্নপূর্ণা যোজনা দেবে। তখন কোনও শর্ত আরোপিত ছিল না। মানুষকে প্রতারিত করা হয়েছে। আমি বারবার বলতাম আমাদের  সরকার থাকলে  লক্ষ্মীর ভান্ডার আজীবন চলবে। যারা লক্ষ্মীর ভান্ডার, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের নাম নিন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। আপনাদের সাথে আমি ছিলাম, আছি এবং থাকব।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গে
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাণ্ডব চালিয়েছে বিজেপি। যাদবপুরের এমব্লেম ধ্বংস করা হয়েছে। যাদবপুরের পড়ুয়াদের সঙ্গে মতভেদ থাকলেও তাঁদের সম্মান করি। একুশে জুলাইয়ের সময়ে কেন হামলা করেছিলেন?
ককরোচ আন্দোলনে সমর্থন
আমি সহমর্মিতা জানাচ্ছি, যে মা বা যে বোন অন্নপুর্ণা ভান্ডার না পেয়ে আত্মহত্যা করেছে তাঁর প্রতি। বাঁকুড়ার যে ছেলেটি তাঁর বাবাকে হারিয়েছে দিল্লির ছাত্র-যুবদের আন্দোলনে গিয়েছিলো বলে। দিল্লিতে ককরোচ আন্দোলনের সময় সমর্থন করেছিলাম। বাঁকুড়ায় আমিই প্রথম টিম পাঠিয়েছিলাম। আমাদেরই আরটিআই করা ছিলো, সাকেত গোখলে করেছিল। ওটার ওপরেই কেস হয়েছে।
দানবিক হওয়ার আগে মানবিক হওয়ার চেষ্টা করুন
আগে মানবিক হওয়ার চেষ্টা করুন তারপর দানবিক  হবেন। দরিদ্র হয়ে কেউ জন্মায় না। তাঁরা অনেক পরিশ্রম করেন। শিশুর জন্য ফুটপাতে দুধ গরম করছিলেন গৃহহীন মা। সেটা পর্যন্ত আপনারা করতে দেননি। মায়ের অভিশাপ বড় অভিশাপ। আমি বা আমার দলের সহকর্মীরা ওই পরিবারের দায়িত্ব নিতে রাজি আছি। দলেরই কোনও সহকর্মীর বাড়িতে আশ্রয়, তাঁদের খাওয়ার ব্যবস্থা আর বাচ্চাদের শিক্ষার ব্যবস্থা আমরা করে দেব। এটুকু আমরা করতে পারি। আমাকে মিটিং-এ অনুমতি দেয় না বিজেপি। যারা ভাবছেন অনুমতি না দিলে আমি সন্ন্যাস গ্রহণ করব, তাঁরা ভুল ভাবছেন। বিজেপিকে সন্ন্যাসে না পাঠানো পর্যন্ত  আমাদের লড়াই থামবে না। পুলিশ ডেকে বলছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল করা যাবে না, মার্ডার, গাঁজা কেস দেওয়া হচ্ছে। বাইরে চলে যেতে বলা হচ্ছে। গ্রেফতারির পর কেস লিখছে, তাঁবেদারি করে কত পুরস্কার পাবেন? আমরাও নামগুলো নোট করছি। আজ নয় কাল বন্ধু দেখা তো হবেই।
বিজেপির হানিমুন নয়, মানি-মুন পিরিয়ড
বিজেপির গ্রহণ লেগেছে, ভয় দেখাচ্ছে, মানুষ ৪ মাসেই বুঝে গেছে বিজেপি কেমন। হকার উচ্ছেদ করে  জীবিকা কাড়া হয়েছে। কিছু লোকের দালালি করছে বিজেপি। যথেচ্ছভাবে হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। কিছু লোকের দালালি করছে বিজেপি। নির্বাচন লুঠ করে জিতেছে বিজেপি, এখন বিজেপির হানিমুন নয়, মানি-মুন পিরিয়ড চলছে। প্রণামী বাক্সও লুঠ করা হচ্ছে। পানিহাটির প্রণামী বাক্স থেকে শুরু করে একেবারে রাম মন্দির। সবটাই লুঠ। ২৮ আগস্ট সবাইকে আহ্বান জানালাম।
হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে
বুলডোজার দিয়ে যে রাজনীতি শুরু করেছেন। হকাররা কি না খেয়ে থাকবে? সবাইকে একতরফা নোটিস ধরিয়ে দিয়ে চলে যেতে বলছেন। তাঁরা যখন আপনাদের চলে যেতে বলবে, তখন আপনারা কী করবেন?দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা তৃণমূল কর্মীদের কেস দিচ্ছে পুলিশ, এসপি জেলা প্রেসিডেন্টের কাজ করছে আর আইসি ব্লক  প্রেসিডেন্টের কাজ করছে। ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষের উপর কেস দিচ্ছেন। কিছু গদ্দার, লুটেরা   বাহিনীকে নিয়ে ফোন করে বলা হচ্ছে বিজেপি করুন।

Scroll to Top