রণংদেহী মমতা

বাংলাকে অসম্মান করা হচ্ছে, এই শর্ত মানি না
কেন্দ্রের চিঠি ছিঁড়ে ফেললেন মমতা

৩৬৫ দিনকোচবিহার  বলছে ৬ ডিসেম্বর থেকে কোয়ার্টারলি লেবার বাজেট দেখাতে হবে— সময় কোথায়? ডিসেম্বর চলে গেল, ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন। একটি গ্রামসভায় নাকি ১০ জন কাজ পাবে! এক পরিবারেই তো ১০ জন থাকে! আবার বলছে ট্রেনিং দিতে হবে। কবে দেব? কবে কাজ করাবে? প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও ১০০ দিনের প্রকল্পে বাংলার বকেয়া টাকা না মিটিয়েই একের পর এক নতুন শর্ত আরোপ করে এমন চিঠি দিয়েছে বলে কোচবিহারের প্রকাশ্য জনসভা থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই প্রকাশ্য মঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকারের আরোপ করা নতুন শর্তের চিঠি ছিঁড়ে ফেলে মমতা বলেন, তিন-চারদিন আগে আমাদের একটা নোটিস পাঠিয়েছে। কেন্দ্রের নতুন লেবার কোড নিয়ে। এই অর্ডারের কোনও ভ্যালু নেই। এটা ভ্যালুলেস। বাংলার মানুষ ভিক্ষে চায় না। ১০০ দিনের কাজের টাকা দিতে নতুন শর্ত চাপিয়েছে। আমরা এসব শর্ত মানি না, মানব না। এটা অসম্মানের। এই আমি কাগজ ছিঁড়ে ফেলে দিলাম। এটা কেন্দ্রের কোনও নোটিস নয়, এটা আমার কাছে থাকা কাগজ। আমি মনে করি, এটা বাংলার প্রতি অপমান। বিজেপি ভোটের সময় টাকা দেয়, নাটক করে। এটা মানছি না, মানব না। এই কাগজ ছিঁড়ে ফেললাম। এটা কেন্দ্রের পাঠানো কোনও নোটিস নয়, এটা আমার কাগজ। গত কয়েক বছর ধরেই সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বাংলার শ্রমিকদের ১০০ দিনের প্রকল্পে কোন টাকা মেটায়নি কেন্দ্রের মোদি সরকার। তার বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে একের পর এক মামলা দায়ের হয়েছিল।
কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারকে অবিলম্বে বাংলার ১০০ দিনের প্রকল্পে প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সুপ্রিম কোর্টেও দেশের প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে কেন্দ্রীয় সরকারের চ্যালেঞ্জ করা আবেদন খারিজ হয়ে যায় এবং সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয় অবিলম্বে বাংলায় ১০০ দিনের প্রকল্পের কাজ শুরু করার পাশাপাশি বকেয়া প্রাপ্য টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। তবে সেই টাকা না মিটিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে নতুন শর্ত আরোপ করেছে বলে জানান মমতা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার প্রতি রাজনৈতিক বঞ্চনার অভিযোগ তুলে মমতা কোচবিহারের জনসভা থেকে বলেন, দেশে আমরা সেরা ছিলাম বলেই ১০০ দিনের কাজ, গ্রামীণ সড়ক যোজনা, আবাস যোজনা— সব বন্ধ করে দিয়েছে। শুধুমাত্র ১০০ দিনের কাজেই ৫১ হাজার ৬১৭ কোটি টাকা পাইনি। ভোটের মুখে আবার কিছু টাকা দিয়ে বলবে— এই তো দিলাম! পরে বলবে— কাজ হয়নি, তাই টাকা ফেরত নিলাম। ১০০ দিনের কাজে এখনও ৫১,৬১৭ কোটি টাকা পাইনি। তোমাদের দয়ার দরকার নেই, আমরা বিকল্প কাজ করতে জানি। আমরা আবার ক্ষমতায় আসব, নিজেরাই কর্মশ্রী প্রকল্পের আওতায় ১০০ দিনের কাজের ব্যবস্থা করব।

 

 

Scroll to Top