এমন অচলাবস্থা আগে দেখিনি
কেন্দ্রের পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তেই এই বিপর্যয়
৩৬৫ দিন। তিন হাজারের টিকিটের দাম ৫০ হাজার টাকা হয়ে গিয়েছে। বর-কনে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারছে না। এরকম অচলাবস্থা আমি কোনও দিন দেখিনি। এটা একটা বিপর্যয়। কেন্দ্রীয় সরকারের পরিকল্পনাহীন সিদ্ধান্তের ফলেই দেশজুড়ে বিমান পরিবহন ব্যবস্থার উপরে এই ভয়ংকর বিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরে ইন্ডিগোর হাজার হাজার উড়ান বাতিল হওয়ার জেরে যে যাত্রী ভোগান্তি শুরু হয়েছে তার প্রেক্ষিতে এভাবেই কেন্দ্রের মোদি সরকারকে তীব্র আক্রমণ করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্র কোনও বিকল্প ব্যবস্থা না করেই নির্দেশ জারি করেছে, যার ফলে হাজার হাজার যাত্রী গত সাত-আট দিন ধরে বিমানবন্দরে আটকে রয়েছেন। আজ কলকাতা থেকে কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে মমতা বলেন, যাত্রীদের হয়রানি হচ্ছে। পাইলটদের উপরে অতিরিক্ত চাপ দিলে সে বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। কিন্তু কোনও নির্দেশ দেওয়ার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করা উচিত ছিল। সাধারণ মানুষের কথা ভাবা উচিত।আমি জানি পরিষেবা ঠিকমতো বজায় রাখতে হলে অনেককে ওভারটাইম করতে হয়। কিন্তু সেটা সমাধান নয়। পাইলটদেরও বিশ্রাম দিতে হবে। তাই জন্য বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখা উচিত ছিল।
সাধারণ মানুষকে এভাবে হয়রানি করার অধিকার কে দিয়েছে?
বিমান বাতিলের পর যাত্রীদের বলা হচ্ছে অন্য পথে যেতে। সেটা কি সম্ভব?বিমানে যেতে ২ ঘণ্টা লাগে, আর ট্রেনে সেই রাস্তাই ২৪ বা ৩৬ ঘণ্টা। তার উপর আবার আগাম টিকিট, রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা করতে হয়। সবমিলিয়ে যাত্রীদের জন্য চূড়ান্ত ভোগান্তি।আসলে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার সবসময় ভোটের কথা ভাবে আর আমরা ভাবি মানুষের কথা। তাই যাত্রীদের এত সমস্যা নিয়ে আমরা গভীরভাবে চিন্তিত।অন্তত এমন ব্যবস্থা করুন যাতে অর্ধেক উড়ান হলেও চালানো যায়।পরিস্থিতি খারাপ থেকে অত্যন্ত খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমরা গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রাখছি।আমি জানি না ওরা কী করছে। দেশের বিষয়ে কোনও চিন্তা নেই।কীভাবে ভোট আর ইভিএম দখল করবে, তা নিয়েই বিজেপি সরকার ভাবিত।বেশিরভাগ সময় দেশের বাইরে ঘুরতে ব্যস্ত থাকলে দেশের মানুষের কথা বা দেশের কথা ভাবার সময় পাবে কখন? আমি দেখছি, বেশ কয়েকদিন ধরে বিমান পরিষেবা না পাওয়ায় সবার খুব সমস্যা হচ্ছে। আমার মনে হয়, কোনও পরিকল্পনা না করায় এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হল।এর জন্য কেন্দ্র দায়ী। তাদের আগে থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নিতে হতো। আমার তো মনে হয়, এর জন্য যাত্রীরা আদালতে যেতে পারে।যে যাত্রীরা টিকিট কেটেও পরিষেবা পাননি, যাদের এতবড় লোকসান হল, তাদের অবশ্যই ক্ষতিপূরণ বা কম্পেনসেশন দেওয়া উচিত।এয়ারলাইন্স বলছে, আমরা গভর্নমেন্ট এর কথা শুনছি। আসলে এদের কোনও প্ল্যানিং ছিল না। প্যাসেঞ্জারদের বলব, আপনারা কোর্টে যান।
বন্দে মাতরম ১৫০ বছর প্রসঙ্গে,
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বন্দে মাতরম কিছু অংশ চিহ্নিত করে গিয়েছিলেন।কিন্তু ওঁদের তো সবেতেই আপত্তি। জয় হিন্দে আপত্তি, বন্দে মাতরমে আপত্তি।কাল শুনলাম কেউ কেউ বলল নেতাজিকে আমরা পছন্দ করি না। ওনারা নেতাজি, গান্ধীজি, রাজা রামমোহন রায় কাউকেই পছন্দ করেন না। তাহলে কাকে করেন? কিভাবে এলেন ক্ষমতায় ওরা? যারা দেশের সম্পর্কে কিছুই জানে না তারা দেশকে প্রমান করে।নেতাজি, বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগরকে অপমান করে। এরা জানে বাংলার অবদান?
ব্রিগেডে গীতা পাঠে যোগদান প্রসঙ্গে ,
গতকালের ছাত্র রবিবার ব্রিগেডে গীতা পাঠের যে আয়োজন করা হয়েছিল ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষ থেকে সেই আসরে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও কেন যাননি সেই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মমতা বলেন, আমি কী করে যাব বিজেপির প্রোগ্রামে? এটা যদি নিরপেক্ষ কোনও অনুষ্ঠান হত, তাহলে আমি নিশ্চয় যেতাম। বিজেপির অনুষ্ঠানে যাই কীভাবে? আমি তো একটা পার্টি করি, আমার তো একটা ইডিওলজি আছে। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি। সব বর্ণ, সব জাতিকে সম্মান করি। কিন্তু যেখানে বিজেপি সরাসরি যুক্ত, সেখানে আমি যাব কী ভাবে? যারা নেতাজিকে ঘৃণা করে, যারা গান্ধীজিকে মানে না। আমি তাদের সঙ্গে নেই। যারা নেতাজি, বিদ্যাসাগর, রামমোহন রায়দের অপমান করে তাদের সঙ্গে আমি নেই। আমার বাবা-মা আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমার বাংলা আমাকে এই শিক্ষা দেয়নি। আমি সব ধর্মকে সম্মান করি।