পশ্চিমবঙ্গে ইউসিসি চালু করার জন্য বঙ্গভবনে বসলো কমিটির প্রথম বৈঠক
প্রস্তাবিত আইনের রূপরেখা তৈরি হলেই পেশ হবে বিধানসভায়

৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি তাদের নির্বাচনের সংকল্প পত্রের ঘোষণা করেছিল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় এলে চালু হবে অভিন্ন দেওয়ানী বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড। সেই ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষনা করেছেন চলতি বছরেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে ইউসিসি। রাজ্য মন্ত্রিসভার ক্যাবিনেট বৈঠকেও রাজ্য জুড়ে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার জন্য কি কি নিয়ম-কানুন করা হবে তা ঠিক করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির রঞ্জনা দেশাইয়ের নেতৃত্বে তৈরি হয়েছে বিশেষ কমিটি। বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গের ইউসিসি বিল পেশ করার আগে সেই প্রস্তাবিত আইনের খসড়া কি হবে তার রূপরেখা চূড়ান্ত করবে এই কমিটি। তার জন্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ দিল্লিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকদের পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে বসেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই এবং কমিটির বাকি সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, খসড়া তৈরির ক্ষেত্রে উত্তরাখণ্ড, গুজরাত এবং অসমের মতো বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির প্রয়োগ করা মডেল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, বিষয়টিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় বজায় রাখবেন রাজ্যের আধিকারিকরা। নতুন এই আইন চালু হলে দেওয়ানি ক্ষেত্রেও ফৌজদারি আইনের মতো সমস্ত ধর্মের নাগরিকদের জন্য এক ও অভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হবে এবং শরিয়ত আইনের প্রাসঙ্গিকতা বিলুপ্ত হবে। তবে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতা থেকে মুক্ত রাখা হচ্ছে। বিল চূড়ান্ত করার আগে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার ও সম্পত্তি বন্টনের মতো অন্তত ৯টি বিষয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে মতামত গ্রহণ করবেন কমিটির সদস্যরা।
রাজ্যের এই উচ্চপর্যায়ের ইউসিসি কমিটিতে রয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন রাজ্যপাল তথাগত রায়, রেসিডেন্ট কমিশনার দ্যুষ্মন্ত নারিয়ালা, অবসরপ্রাপ্ত আইএএস শত্রুঘ্ন সিং, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি সংঘমিত্রা ঘোষ, বঙ্গবাসী কলেজের নৃতত্ত্ব বিভাগের প্রাক্তন প্রধান ডঃ রত্না ভট্টাচার্য, গৌরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহ-উপাচার্য গোপালচাঁদ মিশ্র, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী ওসমান গনি মল্লিক এবং প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর নির্মাল্য ভট্টাচার্য।
এবারের বাজেট সেশনে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, গুজরাত, উত্তরাখণ্ড ও অসমের পর এ রাজ্যেও ইউসিসি বিল আনা হবে। সব সম্প্রদায়ের জন্য একই আইন কার্যকর হবে। ধর্মভিত্তিক পৃথক ব্যক্তিগত আইন থাকবে না। তবে আদিবাসী ও জনজাতি সম্প্রদায়কে এই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে। পাশাপাশি কমিটির কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি জানিয়েছিলেন, রাজ্যে বর্তমানে প্রচলিত বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আইন নিয়ে বিস্তৃত সমীক্ষা চালাবে এই কমিটি। বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার, দত্তক গ্রহণ, লিভ-ইন সম্পর্ক-সহ একাধিক বিষয়ে বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি সাংবিধানিক দিক, সামাজিক প্রভাব এবং প্রশাসনিক বাস্তবতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশও করবে কমিটি।

Scroll to Top