ইস্টবেঙ্গল – ৩
ইউনাইটেড কলকাতা – ০
৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী।কাস্টমসের বিরুদ্ধে যেদিন দুই গোলের ব্যবধানে জিতেছিল ইস্টবেঙ্গল, ওই ম্যাচে দ্বিতীয় গোলটা করেছিলেন আকাশ। আর আজকে অর্থাৎ বুধবার হ্যাটট্রিক করে ফেললেন তিনি। যেখানে ভারতীয় ফুটবলে এবং বাংলার ফুটবলে একজন পজিটিভ স্ট্রাইকারের অভাব দেখা যাচ্ছে, সেখানে দুই ছেলেটার উপর নজর রাখলে লাভবান হবে বাংলা এবং ভারতীয় ফুটবল। নিজেকে ধরে রাখতে পারলে এবং চোট মুক্ত রাখতে পারলে এই ছেলেটা লম্বা রেসের ঘোড়া। শুধু পা মাটিতে রাখতে হবে আর পরিশ্রম করতে হবে। ইস্টবেঙ্গল কোচ এবং ম্যানেজমেন্ট আশাবাদী আকাশের যা কোয়ালিটি তাতে তিনি একদিন ভারতের জাতীয় দলের হয়ে খেলবেন। নৈহাটির বঙ্কিমাঞ্জলি স্টেডিয়ামে আয়োজিত এই ম্যাচে শুরু থেকেই দাপট দেখায় ইস্টবেঙ্গল। বারবার আক্রমণ শানাতে থাকেন আকাশ হেমব্রম, মনোতোষ মাজি এবং অনন্থুরা। ইউনাইটেড কলকাতা স্পোর্টস ক্লাবের ডিফেন্ডাররা চাপে পড়লেও কিছুতেই গোলমুখ খুলতে পারছিল না ইস্টবেঙ্গল। ২২ মিনিটের মাথায় গোলের মুখ খোলেন আকাশ। দারুণ থ্রু পাস ধরে ইউনাইটেডের গোলকিপার সুরজ মল্লিকের নাগাল এড়িয়ে জালে বল জড়িয়ে দেন তিনি।গোল হজম করেও দমে যায়নি ইউনাইটেড কলকাতা। পাল্টা আক্রমণ শানান বালি গগনদীপ, সুপ্রদীপ হাজরারা। হাফ টাইমের আগে সমতা ফেরানোর সুযোগ ছিল তাঁদের কাছে। তবে গোলের কাছে এসেও ব্যর্থ হন।দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা করে ইউনাইটেড।
৬৭ মিনিটে পোস্টে লেগে ফিরে আসে তাদের এক প্লেয়ারের শট। কিন্তু ৮৬ মিনিটে দ্বিতীয় গোলটি করে ইস্টবেঙ্গলের জয় কার্যত নিশ্চিত করেন আকাশ। শেষে অতিরিক্ত সময়ে (৯০+৪ মিনিট) হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি।আর এই শেষ গোলটা ছিল নজরকাড়া। বিপক্ষ বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দূরপাল্লার জোরালো শটে গোল করেন তিনি। ৩-০ গোলে জিতেই মাঠ ছাড়ে ইস্টবেঙ্গল। ৭ তারিখ অর্থাৎ সোমবার মোহনবাগানের বিরুদ্ধে নামবে লাল-হলুদ ব্রিগেড। সেই বড় ম্যাচের আগে প্রস্তুতি ভালোভাবেই সেরে নিল ইস্টবেঙ্গল। ডুরান্ড কাপে কদিন আগেই জিও প্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে চার গোল দিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লাল হলুদ। আবার আগামী ৭ তারিখ বারাসাতের মাঠে মোহনবাগানের মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল। কলকাতা লিগের ম্যাচ। বিদেশি ফুটবলারদের খেলানো যাবে না।
কিছু বাংলার ভূমিপুত্র এবং ভারতের ছেলেদের খেলাতে হবে দুই দলকে। মোহনবাগান যেমন সেদিন ডুরান্ডের পরাজয়ের বদলা নিতে মরিয়া হবে, তেমনই ইস্টবেঙ্গল জানে কিভাবে তাদের সম্মানের ম্যাচটা বুদ্ধি করে খেলতে হবে। মশাল বাহিনীর কলকাতা লিগের দায়িত্বে থাকা অর্চিমান বিশ্বাস বলেন, আমাদের ওই ম্যাচটা এখনই ভাবছি না। কয়েকদিন সময় আছে। ছেলেরা প্রত্যেকে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। আমরা অতিরিক্ত ভেবে নিজেদের ওপর চাপ বাড়াতে চাই না। তবে আমরা জানি প্রত্যাশা কতটা আমাদের উপর আছে মানুষের। সেটা ধরে রাখার চেষ্টা করব। আর এদিন লাল হলুদ জার্সিতে হ্যাটট্রিক করা আকাশ বলেন, আসল লক্ষ্য কলকাতা লিগ জয় এবং দলকে সম্মানের ডার্বি জেতানো। নিজের সেরাটা দেব। আশা করি জিতব এবং সমর্থকদের খুশি করতে পারব।




