৩৬৫ দিন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বিদায় নেওয়ার পরেই রাজ্যজুড়ে মমতার নামকরণ করা বিশ্ব বাংলা নাম বদলে যাচ্ছে সর্বত্র। নিউটাউনে বিশ্ববাংলা গেটের থেকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশ্ব বাংলা নামটি। অন্যদিকে ইএম বাইপাসের নামকরণ করে যেটিকে মমতা বিশ্ব বাংলা সরণি নাম দিয়েছিলেন তা বদলে হতে চলেছে শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য সরণি। যদিও জানা গিয়েছে, পাশাপাশি বিকল্প নাম হিসেবে ভাবনায় রয়েছে মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব সরণি। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে শুরু করে কামালগাজি পর্যন্ত বিস্তৃত রাস্তার নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করেছিলেন বিশ্ব বাংলা সরণি। যদিও মমতার আগে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামে নিউটাউনের নাম জ্যোতি বসু নাগরী করার পাশাপাশি জ্যোতি বসু সরণি করার কথা ঘোষণা করেছিল তৎকালীন সিপিএম সরকার। নিউটাউনের এই মেজর আর্টারিয়াল রোডের নাম পরবর্তীকালে বিশ্ব বাংলা সরণি হলেও এখনো পর্যন্ত নিউটাউনের বাসিন্দারা এখনো পর্যন্ত মেজর আর্টারিয়াল রোড বলেই লিখে আসছেন।চলতি বছরের মে মাসে রাজ্যের শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপির সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরেই কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে পার্ক সার্কাসের সেভেন পয়েন্ট সংলগ্ন সোহরাবর্দি অ্যাভিনিউয়ের নাম বদলে রাখা হয় গোপাল মুখার্জি রোড। ইতিহাসে গোপাল পাঁঠা নামে পরিচিত গোপাল মুখার্জি। গোপাল পাঁঠার স্মৃতিতেই রাস্তার নতুন নামকরণ করা হয়েছে। সেই রাস্তার নামকরণ নিয়ে রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কম হয়নি। যদিও বিরোধীদের সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার অধিবেশনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, কলকাতায় কোনও মুঘল, পাঠান বা অত্যাচারী ব্রিটিশের নামে নামকরণ থাকবে না। ভগিনী নিবেদিতা ছাড়া কোনও বিদেশির নাম থাকবে না। এপিজে আব্দুল কালামের মতো প্রকৃত দেশভক্তদের তথ্য দিন, রাজ্য সরকার যথাযথ মর্যাদা দেবে। সেইসঙ্গে কলকাতা শহরের বিভিন্ন জায়গার নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি রাস্তার নামকরণ মূল্যায়নের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। সেই কমিটির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কার্তিক মহারাজকে। সেই কমিটির সুপারিশ রাজ্য সরকারের কাছে জমা পড়বে। সরকারি অনুমোদন মিললেই ধাপে ধাপে নতুন নাম কার্যকর করা হবে। জানা গিয়েছে, আসন্ন দুর্গাপুজোর আগেই বিশ্ব বাংলা সরণিতে নতুন নামের ফলক বসানোর প্রস্তুতি শুরু হতে পারে। রাস্তার নতুন নামকরণ প্রসঙ্গে কার্তিক মহারাজ বলেন, আমরা বাংলার ইতিহাসবিদ, যারা স্বাধীনতার সঙ্গে যুক্ত, ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করেছি। সেই কমিটিতে দশটি নাম নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। কোন জায়গায় কোন নাম হবে তারপরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমান প্রজন্মের ধারনা বদলে ফেলার চেষ্টা হয়েছে ভারতীয় সংস্কৃতি সম্পর্কে। ভুল বার্তার জন্য বিদেশিরা তাদের সংস্কৃতি আমাদের উপর চাপিয়ে দিতে পেরেছিল। আমরা চাই ভারতীয় উৎকর্ষের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত তাঁদের নামেই নামাঙ্কিত হোক সরণি। সেই নামের তালিকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ক্যাবিনেট। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে গঠিত বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশে খুব দ্রুত শহর ও শহরতলীর একাধিক রাস্তার নাম বদলাতে চলেছে বলেও জানান তিনি।

সর্বত্র সরানো হচ্ছে বিশ্ব বাংলার নাম ও লোগো
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার নিজস্ব ব্র্যান্ডিং তৈরীর জন্য বিশ্ব বাংলা নাম ও প্রতীক চালু করেছিলেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গা এবং রাস্তার ক্ষেত্রে। কিন্তু নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রথমে দীঘার সমুদ্র সৈকতের ঠিক পাশে বিশ্ব বাংলার লোগো লাগানো বিশ্ব বাংলা গ্লোব থেকে সরিয়ে ফেলা হয় নাম ও প্রতীক। এর পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলার প্রত্যন্ত এলাকার হস্তশিল্পীদের কাজ বিক্রি করার পাশাপাশি গোটা বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য কলকাতার পাশাপাশি দিল্লিতে ও তৈরি করা হয়েছিল বিশ্ব বাংলা স্টোর। কলকাতা বিমানবন্দরের মধ্যেও রয়েছে বিশ্ববাংলা স্টোর। এবারে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিতি পাওয়া এই বিশ্ব বাংলা স্টোরের নাম বদল করে পশ্চিমবঙ্গ স্টোর করা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে সরকারি সূত্রে। কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় বিশ্ব বাংলা স্টোরের ফলকে যেখানে বিশ্ব বাংলার লোগো রয়েছে তা কোথাও ঘষে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে আবার কোথাও বা ঢেকে দেওয়া হয়েছে।




