৩৬৫ দিন। ফাইনালের আগে মোহনবাগানকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছে ব্যস্ত সূচি। যেখানে ইস্টবেঙ্গল কলকাতাতেই সব ম্যাচ খেলেছে, সেখানে মোহনবাগানকে সেমিফাইনালের জন্য শিলং যেতে হয়েছে। নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচ খেলে পরদিনই ফিরতে হয়েছে ফুটবলারদের। পর্যাপ্ত বিশ্রাম কিংবা অনুশীলনের সুযোগ প্রায় মেলেনি। এই পরিস্থিতিতে ডুরান্ড কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ লুকোননি পানোস। তাঁর অভিযোগ, ডুরান্ডের সূচি এমন ভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ফুটবলারদের জন্য মোটেও আদর্শ নয়। তাঁর মতে, ডার্বির মতো উচ্চচাপের ম্যাচের আগে একটি দলের বিশেষ প্রস্তুতি, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং রিকভারি সময় প্রয়োজন। কিন্তু মোহনবাগান সেই সুযোগ পায়নি। শিলং সফরের ধকল কাটার আগেই ফাইনালের প্রস্তুতিতে নামতে হয়েছে দলকে। ফলে কৌশলগত পরিকল্পনার পাশাপাশি এখন তাঁকে ভাবতে হচ্ছে ফুটবলারদের ক্লান্তি, চোট-আঘাত এবং শারীরিক অবস্থার কথাও।পানোসের সরাসরি অভিযোগ, ‘ডুরান্ডের সূচি ফুটবলারদের কথা ভেবে তৈরি হয়েছে বলে মনে হয় না। ডার্বির মতো বড় ম্যাচের আগে সাধারণত বিশেষ প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমরা সেই সুযোগ পাইনি। মরশুমের প্রথম ডার্বিটাও প্রায় প্রস্তুতি ছাড়াই খেলতে হয়েছিল। এ বার ফাইনালের আগে আবার ভাবতে হচ্ছে টানা ম্যাচের ধকল, ফুটবলারদের ক্লান্তি এবং ছোট-বড় চোটের বিষয়গুলো নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে দলকে সেরা অবস্থায় রাখা সহজ নয়।’
তবে ক্ষোভের মাঝেও আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছেন না তিনি। সহজ ভাষায় তাঁর বক্তব্য, প্রথম ডার্বি জয় দলের মধ্যে বিশ্বাস তৈরি করেছে। সেই ম্যাচ প্রমাণ করে দিয়েছে, ইস্টবেঙ্গলকে হারানোর ক্ষমতা তাঁদের আছে। কিন্তু ফাইনাল সম্পূর্ণ অন্য রকম লড়াই। ডার্বির মতো ম্যাচে কৌশল বা ফিটনেসের পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাকেও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন মোহনবাগান কোচ। তাঁর মতে, অভিজ্ঞ ফুটবলাররা আবেগে ভেসে যান না। চাপের মধ্যে কী ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, কখন শান্ত থাকতে হয় এবং কখন লড়াই করতে হয়, সেই শিক্ষা অভিজ্ঞতা থেকেই আসে। তাই দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের ভারসাম্যকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছেন তিনি। মোহনবাগানে জেমি, লিস্টোন, সাহল, শুভাশিস থেকে শুরু করে অভিষেক, থাপা – প্রত্যেকেই মুখিয়ে আছে ফাইনাল জিতে ট্রফি ধরতে। তাদের ওপর হওয়া অবিচারের জবাব মুখে নয়, মাঠেই প্রমাণ দিতে মরিয়া বাগানের ১১।





