লাল হলুদে নো প্র্যাকটিস!
২২ বছর পর ইতিহাসের সামনে হাবাসের ইস্টবেঙ্গল

৩৬৫ দিন।রোহন রায় চৌধুরী। মহারণের আগে আবেগে ভাসতে নারাজ লাল-হলুদ কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। তাঁর চোখে ডার্বি মানেই আবেগের পাশাপাশি বুদ্ধির পরীক্ষা। ম্যাচের উত্তাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই সাফল্যের রাস্তা খুঁজতে চান তিনি। সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “কলকাতার জন্য এই ম্যাচের গুরুত্ব নিঃসন্দেহে আলাদা। কিন্তু আমাদের এই ম্যাচটাকেও অন্য ম্যাচের মতোই খেলতে হবে। ডার্বিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বুদ্ধিমত্তা দিয়ে খেলা। পাশাপাশি আবেগকেও নিয়ন্ত্রণে রাখা।” লাল-হলুদ কোচের কথায়, আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থেকে নামিয়ে আনতে হবে ২৫ শতাংশে। তাঁর মন্তব্য, “এই ম্যাচে আবেগের মাত্রা ১০০ শতাংশ থাকবে।
কিন্তু সেটাকে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে। ৯০ মিনিটের মধ্যে সঠিক মুহূর্তগুলো বেছে নিতে হবে। সেই সময়েই কৌশলগত ও মানসিক দিক থেকে আরও ভালোভাবে খেলতে হবে আমাদের। ফলও পেতে হবে।”২২ বছর। সময়টা নেহাত কম নয়। শেষ বার ২০০৪ সালে ডুরান্ড কাপের ফাইনালে মোহনবাগানকে ২-১ গোলে হারিয়ে ট্রফি ঘরে তুলেছিল ইস্টবেঙ্গল। তার পর কেটে গিয়েছে দুই দশকেরও বেশি সময়। লাল-হলুদ ক্যাবিনেটে আর আসেনি ডুরান্ড ট্রফি। রবিবার সন্ধ্যায় সেই অপেক্ষার অবসান ঘটানোর সুযোগ। প্রতিপক্ষ সেই মোহনবাগানই। বদলার মঞ্চও তৈরি। লাখব টাকার প্রশ্ন, ২২ বছর পর কি ডুরান্ড জয়ের স্বাদ পাবে ইস্টবেঙ্গল?ফাইনালেও মাঠে নামতে পারবেন না পিভি বিষ্ণু। এবারের ডুরান্ডে লাল-হলুদের অন্যতম বড় অস্ত্র ছিলেন তিনি। চিন্তা করতে রাজি নন হাবাস। তার হাতে রয়েছে বিপিন,জয়, ডেভিড, লাল, হার্দিক ভাতের মতো ভারতীয় ছেলেরা। রশিদ, দানিদের মতো বিদেশি দলটার সম্পদ। তবে নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকারকে সম্ভবত ম্যাচে নামাতে পারবে না লাল হলুদ। ডিফেন্সে আনোয়ার বড় ভরসা। হাবাস যতদিন মোহনবাগানের দায়িত্বে ছিলেন এই ম্যাচটা কোনদিন হারেননি।
কিন্তু প্রথমবার ইস্টবেঙ্গলে গিয়ে প্রথম ডার্বি হেরেছেন। মাঠের বাইরে অনেক সমালোচনা তার কানে ভেসে এসেছে। জবাবটা মুখে নয় মাঠেই দিতে চান ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ বিদেশি ম্যানেজার। আক্রমণ এবং ডিফেন্সর মাঝে একটা ভারসাম্য যুক্ত ফুটবল খেলে এই ম্যাচটা পকেটে পুরে নিতে চান স্প্যানিশ চাণক্য। কে আছে, কে নেই – এই নিয়ে কোনওদিন কান্নাকাটি করা তার স্বভাব নয়। তাই ফাইনালে তার প্রাক্তন দল মোহনবাগানের বিপক্ষে ছেলেদের কিভাবে মোটিভেট করবেন তিনি এটার নতুন করে বলার দরকার নেই। আর যদি নিউট্রাল জায়গা থেকে বিচার করা হয় মোহনবাগান দলের থেকে এই ডুরান্ড কাপে ফিটনেস এবং মবিলিটিতে কিছুটা এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল। মোহনবাগানের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের প্লেয়ার হয়তো বেশি। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের সম্পদ টিম গেম। ফুটবলে এটাই পার্থক্য করে। তাই আবেগ নিয়ন্ত্রণে রেখে বাস্তবের জমিতে পা দিয়েই চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচে নামছে হাবাসের লাল হলুদ।

Scroll to Top