সেনাবাহিনীর সঙ্গে দিপাবলী উদযাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী

৩৬৫ দিন। প্রধানমন্ত্রীর দেখানো পথে হেঁটে সেনাবাহিনীর সঙ্গে দিপাবলী উদযাপন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু। ২০০১ সালে প্রথম গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদি। সেই থেকে প্রতি বছর দিপাবলী তিনি কাটান সেনার সঙ্গে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরেও তাতে বিচ্যুতি হয়নি। শুভেন্দু প্রথমবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তিনিও ২৫ বছর আগে মোদি যে ধারা প্রচলন করেছিলেন সেই পথেই অগ্রসর হলেন। এবারের দিপাবলীতে মোদি ছত্তীশগড়ে সিআরপিএফ জাওয়ানদের সঙ্গে সময় কাটান অন্যদিকে কালীপুজোর সকালে শুভেন্দু পৌঁছে গেলেন হিঙ্গলগঞ্জে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে। সেখানে দীর্ঘক্ষণ কাটালেন বিএসএফের সঙ্গে। বললেন, ‘সেনারা ঘর পরিবার ছেড়ে জলে জঙ্গলে দেশকে সুরক্ষা দিচ্ছেন। আমি এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। উৎসবের দিনে আমি আসবো না তো কে আসবে!’ অন্যদিকে, মোদির মুখে ছিল নকশাল মুক্ত ভারত ও দিমাগী নকশালদের থেকে সাবধান থাকার বার্তা।
মাও-নকশাল খতম হয়েছে তবে দিমাগী নকশাল হইতে সাবধান
চলতি বছরের গোড়া থেকেই পালা করে মোদি ও অমিত শাহ দাবি করে আসছেন দেশে মাওবাদ‌ ও নকশালবাদের শিরদাঁড়া ভেঙে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে একাধিক প্রথম সারির মাওবাদী নেতাকে হয় এনকাউন্টারে খতম করা হয়েছে না হলে তারা ধরা দিয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে মোদির দিপাবলীতে এক সময়ে মাওবাদীদের খাস তালুক ছত্তিশগড়ের বস্তারে আসা ও সিআরপিএফের সঙ্গে সময় কাটানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মাওবাদীদের হাতে সবচেয়ে বেশী রক্ত ঝরেছে সিআরপিএফ জাওয়ানদের। দান্তেওয়াড়ার প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেন, “এই প্রথম এমন একটি দীপাবলি এল, যখন দেশের প্রতিটি জেলা সম্পূর্ণভাবে নকশাল ও মাওবাদী ত্রাসমুক্ত।” আজ দেশের কোটি কোটি মানুষ কোনও রকম ভয়ভীতি ছাড়া উৎসব পালন করতে পারছেন বলে জানান তিনি। ১৪০ কোটি ভারতবাসীর পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই তিনি বস্তারে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন। মোদির কথায়, “দীর্ঘকাল ধরে আমরা দেখেছি, নকশালদের হামলায় যত না মাওবাদী মারা যেত, তার চেয়ে অনেক বেশি জওয়ানের প্রাণ যাওয়ার ঘটনা ঘটত। কিন্তু গত ৪৭ বছরের মধ্যে এই প্রথম এমন একটি নজির তৈরি হয়েছে, যেখানে বিগত এক বছরে ডিউটিরত অবস্থায় কোনও সিআরপিএফ জওয়ানকে প্রাণ হারাতে হয়নি।” সরকারের নীতি এবং জওয়ানদের সাহসিকতা ও সংযমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে বলে জানান তিনি। এরপরেই তিনি টেনে আনেন দিমাগী নকশাল প্রসঙ্গ। মোদি বলেন, “এই সাফল্যের মাঝেও আমাদের একটি বিষয় মনে রাখতে হবে। সশস্ত্র নকশালদের নির্মূল করা গেলেও, বিভিন্ন সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ এখন দিমাগি নকশালদের হাতে চলে গিয়েছে। আজও তারা সংবিধান ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে মানুষকে উসকে দিচ্ছে। এই আদর্শগত নকশালরা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নানা সংগঠনে অনুপ্রবেশ করেছে। আমাদের এদের চিহ্নিত করতে হবে, পরাজিত করতে হবে এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।” তবে শুধু মাওবাদীদের নিকেশ নয় তাদের বাড়বাড়ন্তের পেছনে যে দারিদ্রতা বড় কারণ তা উল্লেখ করে মোদি বলেন, “দিন কয়েক আগেই একটি খুশির খবর এসেছে। যে খবর নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্বব্যাঙ্ক একটা রিপোর্ট দিয়েছে। ১২ বছরে ৫০ কোটি মানুষ অতি গরিবি থেকে মুক্তি পেয়েছেন। ৫০ কোটি, সংখ্যাটা ভাবুন।” কৌশলে কংগ্রেসকে ঠুকে তিনি বলেন, “মুখে গরীবী হটাও স্লোগান দিলে হবে না বাস্তবে কাজ করে দেখাতে হবে। স্বাধীনতার ৫০ বছরের বেশী সময় যে দল ক্ষমতায় সবচেয়ে বেশী সময় ছিল তারা শুধু মুখেই বলে গিয়েছে কাজের কাজ কিছু করেনি।
একটাও অনুপ্রবেশ হবে না, সব অনুপ্রবেশকারীদের তাড়াবো
মোদি যখন বস্তারে সিআরপিএফ জাওয়ানদের সঙ্গে দিপাবলী পালন করছেন তখন শুভেন্দু চলে আসেন হিঙ্গলগঞ্জে ভারত পাক সীমান্তে। বিএসএফ জাওয়ানদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তাদের মিষ্টিমুখ করান তিনি। এরপর সরাসরি সীমান্ত সুরক্ষার প্রসঙ্গ টেনে আনেন তিনি। শুভেন্দু বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের অরক্ষিত অংশে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার প্রক্রিয়ায়আ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিএসএফ সতর্ক দৃষ্টি রাখছে। দিন রাত এক করে তারা অনুপ্রবেশ আটকাচ্ছে। রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের সঙ্গে এখন বিএফএফের সংযোগ অনেক দৃঢ় হয়েছে। সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকানো কতটা কঠিন তা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমি একদম শেষ বোটিংয়ে যেটাতে উঠেছিলাম, বাইনোকুলার দিয়ে দেখেছি— বাংলাদেশের দিকে কিচ্ছু নেই, সব ওঁত পেতে বসে আছে! কখন বিএসএফ একটু আড়াল হবে আর এ দিকে ঢুকে পড়বে।”হুঁশিয়ারীর সুরে শুভেন্দু এরপর বলেন, কোনও চিন্তা করবেন না। আমরা একটা অনুপ্রবেশকারীকেও দেশে ঢুকতে দেব না। যারা ঢুকেছে তাদের তাড়াবো। এদিন বিএসএফের তরফে মুখ্যমন্ত্রীকে তিনটি প্রস্তাব দেওয়া হয়। যার মধ্যে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার যুব সমাজকে বিকল্প কাজে যুক্ত করা যাতে তারা সীমান্তে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে না পড়ে, দুই, সীমান্তে যারা অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের খবর গোপনে সেনাকে সরবারহ করছে বা সীমান্ত সুরক্ষায় বিশেষ যোগদান রাখছে তাদের জন্য সীমান্ত বন্ধু চালু করা ও তিন, সীমান্ত এলাকায় আরো থানা বাড়ানো। সূত্রের খবর, এই তিন দাবি-ই দ্রুত কার্যকরের ব্যাপারে শুভেন্দু আশ্বাস দিয়েছেন। তার মধ্যে ২০২৭ থেকে সীমান্ত মিত্র চালু হয়ে যাবে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Scroll to Top