নায়ক ড্রাজিচ, কঠিন ম্যাচে ওড়িশাকে হারিয়ে ফের শীর্ষে মোহনবাগান

মোহনবাগান – ৩
(ড্রাজিচ -২, লি)
ওড়িশা – ২
(ঈদ, এভারটন)

৩৬৫ দিন। রোহন রায় চৌধুরী। প্রথম ম্যাচে নর্থইস্ট ইউনাইটেডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলকে হেরে গিয়েছিল মোহনবাগান। তারপর দিল্লির মাঠে গিয়ে দিল্লি এবং যুবভারতীতে পরপর দুটো ম্যাচে চেন্নাই এবং পঞ্জাবকে হারিয়েছিল তারা। দেখার ছিল বৃহস্পতিবার যুবভারতীতে ঘরের দর্শকদের সামনে আরও একবার ওড়িশাকে হারাতে পারে কিনা বাগান। মোহনবাগান জিতল। একটা পেন্ডুলামর মত ম্যাচ হল এদিন। একবার মোহনবাগান গোল করল, সমতা ফিরিয়ে নিল ওড়িশা। মোহনবাগান দ্বিতীয় গোল করল। আবার সমতা ফেরাল ওড়িশা। কিন্তু মোহনবাগান কেন চ্যাম্পিয়ন দল সেটা বোঝা গেল একদম শেষে। শেষ পর্যন্ত লড়তে থাকার মানসিকতা জয় পেল। ম্যাচের উইনিং গোলটা করলেন লি আরউইন। প্রথম দুটো গোল এল সার্বিয়ান ড্রাজিচের পা থেকে। প্রথম গোলটা ইনসাইড করে বা পায়ের শটে দ্বিতীয় পোস্টে রাখলেন। দ্বিতীয় গোলটা অনিরুদ্ধর পাস থেকে হাঁটু দিয়ে ঠেলে দিলেন। ওড়িশা যখন দুবার পিছিয়ে পড়ে দুটো গোল শোধ করে দিল মনে হচ্ছিল আজ বোধহয় আটকে যাবে পানোসের ছেলেরা। কিন্তু প্রথম দিকে সমালোচিত হলেও একটু একটু করে দলটাকে তৈরি করছেন গ্রিক কোচ।
মনবির, কোলাসো আজকেও বেশ কয়েকটা গোলের সুযোগ হারিয়েছেন। তবে শেষ ১৫ মিনিট নেমে চাংতে দারুন ফুটবল উপহার দিয়েছেন। তার পায়ে বল করলে থরহরি কম্প হচ্ছিল ওড়িশা ডিফেন্স।
শেষদিকে নামলেন জেমি। যখন সামনে দুজন বিদেশি স্ট্রাইকার হয়ে গেল বাগানের আর চাপ রাখতে পারল না উড়িষ্যার ডিফেন্স। চাংতের বাড়ানো বল থেকে গোল করে গেলেন লি। পঞ্জাবের বিরুদ্ধেও গোল করেছিলেন তিনি। আজকেও করলেন। বুঝিয়ে দিচ্ছেন তিনি থাকতে এসেছেন মোহনবাগানে। জেমি পুরোপুরি ফিট হয়ে গেলে এবং ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল ফিরে এলে এই মোহনবাগান আরো আক্রমণাত্মক হবে আশা করা যায়। আপুইয়াও ফিরবেন সুস্থ হয়ে। এরপর একটা ১৫ দিনের গ্যাপ আছে। এই সময়টা মোহনবাগানের চোট পাওয়া ফুটবলারদের ফিট হয়ে ওঠার জন্য একটা স্বস্তির ব্যাপার তো বটেই। ম্যাচের শেষে পানোস বললেন, দল জিতেছে, তিনটে পয়েন্ট এসেছে এটাই গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের ডিফেন্স নিয়ে অনেক পরিশ্রম করতে হবে। আমি ছেলেদের সমালোচনা করব না। আশা করব এই ১৫ দিন পর যখন আমরা আবার ফিরব দর্শকদের আরও নিখুত খেলা উপহার দিতে পারব। ওদের জন্যই সব।

Scroll to Top