তথ্য তুলে ধরেনির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ কংগ্রেসের

৩৬৫ দিন। ৬ রাজ্যের প্রায় ১০ কোটি ভোটারের যাবতীয় তথ্য বিচার বিবেচনা করে ১৬০০ সন্দেহভাজন বিদেশি বা অবৈধ ভোটার খুঁজে পেল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। এমন তথ্য তুলে ধরে জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালো কংগ্রেস। কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র তথা প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়রাম রমেশ আজ এই তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনী বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন-এর কারণ হিসেবে কেন্দ্রীয় সরকার এবং জাতীয় নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বারে বারে জানানো হয়েছিল দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের পাশাপাশি অবৈধ বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গা খুঁজে বের করাই মূল উদ্দেশ্য এই প্রক্রিয়ার। ইতিমধ্যেই গোটা দেশে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর ফলে ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় সাড়ে তেরো কোটি ভোটারের নাম। তবে তার মধ্যে গোটা দেশ জুড়ে কতজন বিদেশি চিহ্নিত হয়েছে তার সঠিক তথ্য এখনো পর্যন্ত প্রকাশ্যে না এলেও কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গিয়েছে দেশের ছয় রাজ্যে প্রায় ১০ কোটি ভোটারের নাম ও নথি বিবেচনা করার পরে সেখান থেকে পাওয়া গিয়েছে মাত্র ১৬০০ অবৈধ ভোটারের নাম।
হিন্দুস্তান টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন পোস্ট করে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র জয়রাম রমেশ জানিয়েছেন, এই ৬ রাজ্য হল কর্নাটক, ঝাড়খণ্ড, মেঘালয়, কেরল, গোয়া এবং মিজ়োরাম। কর্নাটকে ৭১৬ জন, ঝাড়খণ্ডে ৩ জন, মেঘালয়ে ২ জন, কেরলে প্রায় ৫০০ জন এবং গোয়ায় ৪১৯ জনকে চিহ্নিত করার কথা বলা হয়েছে। মিজ়োরাম এমন কোনও ঘটনা পায়নি বলে জানিয়েছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, অন্য যে সমস্ত রাজ্যে এসআইআর হয়েছে, সেখানে এই সন্দেহজনক বিদেশিদের পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। এই তথ্য পেশ করার পাশাপাশি কংগ্রেসের সর্বভারতীয় মুখপাত্র জয়রাম রমেশ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, এসআইআর-এর তিনটি লক্ষ্য রয়েছে। সেগুলি হল অনুপ্রবেশকারীদের ডিটেক্ট, ডিলিট এন্ড ডিপোর্ট অর্থাৎ চিহ্নিতকরণ, নাম বাদ দেওয়া এবং দেশের বাইরে পাঠানো। এর ফলে স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরি হবে বলেছিলেন তিনি। ১৬০০ বিদেশিকে খুঁজতে ছ’টি রাজ্যের ১০ কোটি ভোটারকে এসআইআর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হল।

Scroll to Top