পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলে মনে করছে কমিশন সরশুনার ঘটনায় রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব মানবাধিকার কমিশনের

৩৬৫ দিন।সরশুনার ঘটনায় অপরাধীদের নগ্ন করে ঘোরানোর ঘটনায় এবার কলকাতা পুলিশের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন( এন এইচ আর সি )।এই ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ও প্রশ্ন তুলেছে কমিশন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে আগামী ১৪ দিনের মধ্যে এই রিপোর্ট পাঠাবারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।ওইদিন কী ঘটেছিল, কেন অভিযুক্তদের কোমরে দড়ি বেঁধে হাঁটানো হল – এমনই নানা প্রশ্ন রিপোর্ট আকারে জানতে চান তদন্তকারীরা। পুলিশ মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে বলেই দাবি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের।

বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনার কে এই নোটিস পাঠিয়েছে এনএইচআরসি। তারা জানিয়েছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতে সরশুনার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করা হয়েছে। সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যগুলি সঠিক কি না, যদি সঠিক হয়, তবে কোন আইনে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণ করা হল তা জানতে চেয়েছে কমিশন। তাদের বক্তব্য পুলিশ যদি সত্যিই এই কাজ করে থাকে, তবে তা মানবাধিকারের ঘোরতর বিরোধী।ওই অপরাধীদের নিয়ে যে সব পুলিশ আধিকারিক ঘুরিয়েছে এবং সেই তারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

কলকাতা পুলিশের দক্ষিণ শহরতলী ডিভিশনের অন্তর্গত সরশুনা থানার পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছিল। কিশোরীর বাবা, মামা এবং তাঁদের এক বন্ধুকে পরের দিন ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য পাড়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের পরনে ছিল কেবল হাফ প্যান্ট। কোমরে দড়ি পরিয়ে পুলিশ তাঁদের প্রায় ১০০ মিটার হাঁটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশি হেফাজতে অভিযুক্তদের সঙ্গে এই আচরণে বেশ অসন্তুষ্ট মানবাধিকার কমিশন। সিপি-র কাছে সেই কারণেই বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করেছে তারা। ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার। কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর সন্ধ্যায় সরশুনার ক্ষুদিরামপল্লির খালপাড়ের কাছে নাবালিকাকে চুমুর ‘অপরাধে’ ওই তরুণ, তাঁর বাবা ও বন্ধুকে পাড়ার রাস্তায় নগ্ন করে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে ওই নাবালিকার পরিবারের বিরুদ্ধে । নাবালিকার ‘দাপুটে পরিবার’-এর ভয়ে তাঁরা কোনও প্রতিবাদ করতে পারেননি। যদিও ক্ষুদিরামপল্লি থেকে সবুজ পার্কের দিকে যাওয়ার জন্য মোড় ঘুরতেই বিষয়টি চোখে পড়ে এলাকার বাসিন্দারের যারা কাপড় দিয়ে বাবা ও ছেলেকে নগ্ন দেহ ঢাকতে সাহায্য করে। তবে শুধু এই ক্ষেত্রে ওই যুবকের বাবা ‘ই নয় পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যক্তি স্বাধীনতা খর্ব করার অভিযোগ আগেও উঠেছিল । তৃণমূল কংগ্রেসর বেশ কয়েকজন নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করার ফলতা ও পর কোমরে দড়ি বেঁধে ‘প্যারেড’ করিয়েছে। ফলতা বিধানসভা আসনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান এর সঙ্গে ও এই ধরণের আচরণ করা হয়েছিল।

Scroll to Top