৩৬৫ দিন। কাকদ্বীপ। ২০২৯ সালে গঙ্গাসাগরে মুড়ি গঙ্গার উপর সেতুর উদ্বোধন হবে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে বাল্যবিবাহ ঠেকাতে রাজ্য সরকার সব রকম উদ্যোগ নিচ্ছে বলেও জানালেন তিনি। সরকারি পরিষেবা মূলক মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দিলেন, পাশাপাশি আগামী দিনে কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে। পাশাপাশি এই এলাকায় সিএএ সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আগামী বছরের গঙ্গাসাগর মেলার প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে শনিবার কাকদ্বীপের রবীন্দ্র ভবনে প্রথমে প্রশাসনিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে এলাকার ১ লক্ষ ২৪ হাজার নাগরিককে বিভিন্ন পরিষেবা তুলে দেওয়া হয়। প্রশাসনিক বৈঠকে মেলার পরিকাঠামো, পুণ্যার্থীদের যাতায়াত, নিরাপত্তা এবং পরিষেবা নিয়ে পর্যালোচনা হয়। প্রশাসনিক বৈঠকের পরে সরকারি পরিষেবা প্রদান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী ২০২৯ সালে গঙ্গাসাগরে মুড়ি গঙ্গার উপর সেতুর উদ্বোধন হবে। আগের সরকার মুড়ি গঙ্গার ব্রিজ নিয়ে মিথ্যে কথা বলে গিয়েছিল। ওরা জমি অধিগ্রহণও করেনি, ডিপিআরও করেনি। কথা দিয়ে যাচ্ছি ২০২৯ সালে এখানে ব্রিজ উদ্বোধন করব।
কাকদ্বীপকে পৃথক জেলা দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ মহকুমাকে ভেঙে একটি নতুন জেলা করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সুন্দরবন অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রশাসনিক পরিষেবাকে আরও গতিশীল করতে সমস্ত দ্বীপকে এক করে একটি ‘সুন্দরবন মডেল’ গড়ে তোলার রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, কাকদ্বীপ মহকুমার অধীনে বর্তমানে কাকদ্বীপ, নামখানা, পাথরপ্রতিমা ও সাগর— এই চারটি ব্লক রয়েছে। প্রশাসনিক কাজকর্ম আরও নিখুঁত ও সহজলভ্য করে তুলতে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করানোর কাজ নিশ্চিত করা হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের প্রক্রিয়ায় একটু সময় লাগলেও কাকদ্বীপকে স্বতন্ত্র জেলা হিসেবে রূপ দেওয়ার বিষয়ে আমরা প্রতিশ্রতিবদ্ধ। সুন্দরবনের দ্বীপগুলির মধ্যে যোগাযোগ ও পরিকাঠামোর সার্বিক উন্নতির মাধ্যমেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে।’ পাশাপাশি সিএএ সার্টিফিকেট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সেদিন যারা কালো পতাকা দেখিয়েছিল আজকে তারা বলছে স্বাগতম মুখ্যমন্ত্রী। এটাই গণতন্ত্র। এসডিও ডিএমকে বলে দিলাম দ্রুত সি এ এ সার্টিফিকেট দিতে হবে।’ স্বরাষ্ট্র সচিবকেও বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গ কালীপুজো
গত বছর কাকদ্বীপের একটি পুজো কমিটিতে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলার অভিযোগ উঠেছিল পুলিশের বিরুদ্ধে।এ ব্যাপারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম না করে কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,’ ২০২৫ সালে কাকদ্বীপে মা কালিকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল। যিনি তুলেছিলেন সেই আইপিএসকে আমরা সাসপেন্ড করেছি। আর যে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মা কালীকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছিল সেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে গত মহালয়ার দিনে দিল্লিতে প্রিজন ভ্যানে উঠতে হয়েছে।এটাই সনাতনী তাকত।’ এদিন সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কোনও মাওবাদী, জঙ্গি, কোনও জেহাদি, আরশোলা, ভারতের ক্ষতি করতে না পারে তা দেখার দায়িত্ব আপনাদের । সরকার সজাগ থাকবে আপনাদের জন্য, আর আপনাদেরও সজাগ থাকতে হবে- এলাকাকে নেশামুক্ত করতে এবং বাল্যবিবাহর সামাজিক ব্যাধী দূর করার জন্য।’




