নবমীতে নিউটাউন সনাতনীতে মুখ্যমন্ত্রী

৩৬৫ দিন।সনাতন থেকে বিজ্ঞান।নিউটাউন সনাতনী দুর্গাপুজোর এটাই থিম। নবমীর রাতে এই পুজোতে যান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।সঙ্গে ছিলেন এই পুজোর চেয়ারম্যান মুখ্যমন্ত্রীর উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত। নবমীর পুজো দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।তারপরে কথা বলেন নিউটাউনবাসীদের সঙ্গেও।পুজো উদ্যাক্তা বরুণ বিশ্বাসের কথায়,পুজোর পাঁচ দিনে দেড় লক্ষ দর্শনার্থী এসেছেন।এদিকে এবছর এই পুজোর থিমেও ছিল নতুনত্বের ছোঁয়া। ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিক বিজ্ঞানের মেলবন্ধনে নতুন ভাবনার বার্তা দিচ্ছে এবারের নিউ টাউনের সনাতনী দুর্গাপূজা ২০২৬। পুজোর থিম হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে-সনাতন থেকে বিজ্ঞান-জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা।আধ্যাত্মিকতার শিকড় থেকে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে একই সুতোয় বাঁধার অভিনব প্রয়াস দেখা গেছে এই মণ্ডপের থিমে।সনাতনের শিকড় ছুঁয়ে বিজ্ঞানের দিগন্তে এ বার নিউ টাউন সনাতনী দুর্গাপুজোর ভাবনায় ‘জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা।কংক্রিটের বহুতল, চওড়া রাস্তা আর পরিকল্পিত নগরজীবনের মাঝেই শরৎ এলে সেখানে জেগে ওঠে অন্য এক শহর আলোর, ঢাকের, ধূপের গন্ধের। উদ্যোক্তাদের এই অভিনব ভাবনায় এ বার যেন অতীতকে ছুঁয়ে ভবিষ্যতের দিকে তাকানোর গল্প।সনাতন থেকে বিজ্ঞান ও জ্ঞানের অনন্ত যাত্রা এ বার পুজোর থিমেই সেই বার্তা স্পষ্ট। দর্শনার্থীর কাছে এটি শুধু একটি পুজোমণ্ডপ নয়, হয়ে উঠতে পারে জ্ঞান ও ভাবনার এক অভিনব যাত্রাপথ।নিউ টাউন মেলা গ্রাউন্ডের কাছে বিশ্ববাংলা গেট সংলগ্ন এলাকায় বসেছে এ বারের পুজো। ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। বাঁশের কাঠামোয় ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে মণ্ডপের অবয়ব। কিন্তু মণ্ডপের চমক যতটা, তার চেয়েও বেশি আগ্রহ তৈরি করছে ভিতরের গল্পটি।
থিমের গল্প
পুজোর উদ্যোক্তা বরুণ বিশ্বাসের বক্তব্য অনুযায়ী, মণ্ডপে ছিল দু’টি সুড়ঙ্গ।একটি পথ দর্শনার্থীকে নিয়ে যায় সনাতনী ঐতিহ্যের দিকে, অন্যটি বিজ্ঞানের জগতে। দুই পথের মধ্য দিয়ে ভারতীয় সভ্যতার জ্ঞানচর্চার বিবর্তনকে তুলে ধরাই লক্ষ্য।
শূন্যের ধারণা থেকে গণিতের অগ্রগতি, প্রাচীন চিকিৎসাবিদ্যা থেকে শল্যচিকিৎসা-ভারতের জ্ঞানভাণ্ডারের নানা অধ্যায় এই উপস্থাপনায় জায়গা পাওয়া গিয়েছে।প্রাচীন ভারতীয় চিকিৎসক ও শল্যবিদ সুশ্রুতের অবদানও থাকবে বিশেষ গুরুত্বে। উদ্যোক্তাদের ভাবনায়, বিজ্ঞান কোনও বিচ্ছিন্ন আধুনিক অধ্যায় নয়-তার শিকড়ও খুঁজে পাওয়া যায় বহু পুরনো জ্ঞানচর্চার ভিতরে।এই ভাবনাই সম্ভবত পুজোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক। কারণ, এখানে সনাতন শব্দটি শুধু ধর্মীয় পরিসরে সীমাবদ্ধ থাকছে না,বরং ঐতিহ্য, জ্ঞান এবং উত্তরাধিকারের বৃহত্তর অর্থে তাকে দেখার চেষ্টা রয়েছে।
থিমের ভিড়ে সাবেকিয়ানা
আজকের দুর্গাপুজোয় থিম যেন অনিবার্য। প্রতিটি মণ্ডপের নিজস্ব গল্প, শিল্পভাবনা, আলো আর নির্মাণশৈলী থাকে। সেই প্রতিযোগিতার মধ্যেই নিউ টাউন সনাতনী দুর্গাপুজো একটু অন্য পথে হাঁটতে চাইছে।কার্তিক মহারাজের বক্তব্য, পুজোর মূল আচার-অনুষ্ঠানকে এ বার বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে দুর্গাপুজো নানা ধরনের থিম ও উৎসবের রূপ নিয়েছে। সেই পরিবর্তনের মধ্যে কোথাও যেন মূল আচার পিছিয়ে পড়েছে। তাঁদের পুজোয় সেই জায়গাটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা থাকবে।অর্থাৎ মণ্ডপে থাকবে আধুনিক ভাবনা, কিন্তু পুজোর অন্তরে থাকবে সাবেকি পরম্পরা। থিমের চাকচিক্যের পাশাপাশি মন্ত্রোচ্চারণ, বিধি এবং ঐতিহ্যবাহী পুজোর রীতিই থাকবে কেন্দ্রবিন্দুতে।পুজোর সঙ্গে আবেগের যোগটাও অন্য রকম।

Scroll to Top