সাবেকি লক্ষ্মীর পাশাপাশি হাওড়ার রামরাজাতলায় এবার বাজার মাতাচ্ছে ‘কিউট লক্ষ্মী’,

খবর ৩৬৫ দিন। সুমন আদক। হাওড়া। পুজোর রীতি একই, তবে বদলাচ্ছে দেবীর রূপ। বাঙালির ঘরে ঘরে কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতির মাঝেই প্রতিমার বাজারে এবার নজর কাড়ছে এক নতুন সংযোজন—‘কিউট লক্ষ্মী’। শিশুকন্যার মতো গোলগাল মুখ, টানা চোখ, মিষ্টি হাসি আর ঝলমলে সাজে দেবী লক্ষ্মীর এই অভিনব রূপ ক্রেতাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। সাবেকি প্রতিমার চেনা গাম্ভীর্যের বাইরে বেরিয়ে ছোট্ট মেয়ের আদলে তৈরি এই মূর্তি যেন উৎসবের বাজারে এনেছে নতুন স্বাদ।
হাওড়ার রামরাজাতলা স্টেশনের কাছে প্রতিমার বাজারে এই পরিবর্তনের ছবি যেন স্পষ্ট। শিল্পীর দাবি, এবারে মোট ২৭টি কিউট লক্ষ্মীপ্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। তার মধ্যে ২৫টিই বিক্রি হয়ে গিয়েছে। অথচ একই বাজারে সাবেকি প্রতিমাও রয়েছে। ফলে ক্রেতাদের পছন্দের এই বদল বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। প্রতিমাশিল্পীদের মতে, সময়ের সঙ্গে মানুষের রুচি বদলাচ্ছে, আর সেই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়েই প্রতিমার নকশায় আসছে নতুনত্ব। কিউট লক্ষ্মীর আকর্ষণ মূলত তার শিশুসুলভ মুখাবয়ব ও রঙিন সাজসজ্জা। ছোটদের মতো নিষ্পাপ চেহারার এই দেবীমূর্তি অনেকের কাছেই হয়ে উঠেছে স্নেহ ও মমতার প্রতীক। পুজোর জন্য নতুন কিছু বেছে নিতে চান, এমন ক্রেতাদের কাছে তাই এই প্রতিমার কদর বাড়ছে। তবে এই নতুন ট্রেন্ডের অর্থ সাবেকি প্রতিমার আবেদন কমে যাওয়া নয়। বাঙালির ধর্মীয় ঐতিহ্য ও পারিবারিক পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে প্রচলিত লক্ষ্মীমূর্তির গভীর সম্পর্ক। সেই ঐতিহ্য বজায় রেখেই কেউ বেছে নিচ্ছেন চেনা সাবেকি রূপ, আবার কেউ ঘরে আনছেন আধুনিক নকশার কিউট লক্ষ্মী। দুই ধরনের প্রতিমার সহাবস্থানেই স্পষ্ট, উৎসবের আবেগ অটুট রেখেই বদলাচ্ছে পছন্দের ধরন। রামরাজাতলার বাজারে কিউট লক্ষ্মীর প্রায় সব মূর্তি বিক্রি হয়ে যাওয়ার ঘটনা সেই পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে ঐতিহ্যের শিকড়, অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের রুচি—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে লক্ষ্মীপুজোর বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন প্রবণতা। সাবেকি প্রতিমার পাশাপাশি ‘কিউট লক্ষ্মী’র জনপ্রিয়তা আগামী দিনে আরও বাড়ে কিনা, এখন সেদিকেই নজর প্রতিমাশিল্পীদের।

Scroll to Top