দিল্লিতে মমতার জ্ঞানেশ বিক্ষোভ

৩৬৫ দিন। ভোট চুরি এবং ইভিএম হ্যাকিং করে ভোট চুরি করে পশ্চিমবঙ্গে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। আমরা ব্যালটে নির্বাচন চাইছি। ২০২৯ অবধি অপেক্ষা করতে হবে না। দেশজুড়ে খেলা শুরু হয়ে গিয়েছে। তার আগেই শিগগিরই সুখবর আসবে। কেন্দ্রে বিজেপি সরকার ক্ষমতা থেকে উৎখাত হবে। ক্ষণেশ কুমার, সীমা খাঁনকে সরতেই হবে। ওরা দুজনে মিলে ভোট চুরি করেছে। ওদের একটাই লক্ষ্য ছিল—বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা। এদের কি পদত্যাগ চাইব না?  বৃহস্পতিবার দিল্লির সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এভাবেই ব্যালটে নির্বাচনের দাবি জানানোর পাশাপাশি ফের একবার জ্ঞানেশ কুমার, সীমা খাঁনের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা ছাড়াও এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অন্যান্য দলীয় নেতৃত্ব। বাংলায় বিজেপি এবং কমিশনের আঁতাতে ভোট চুরির অভিযোগ তুলে মমতা দাবি করেন, নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় শাসকদল বিজেপি যৌথভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে। সরাসরি জেলাভিত্তিক হিসাব এবং পরিসংখ্যান পেশ করে মমতা দেখান কীভাবে শতাংশের হিসেবে শাসকদলের জয়ী কেন্দ্রগুলি থেকেই লক্ষ লক্ষ বৈধ ভোটারের নাম গায়েব বা ছাঁটাই করা হয়েছে। ব্যালটে নির্বাচন—২০১৯ সালেই কেন্দ্রের সরকার পড়ে যাবে, এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “কখনও শুনেছেন বিরোধী আর শাসক এক ছাদের তলায় আছে? পশ্চিমবঙ্গে সেটাই হচ্ছে। পুলিশ জোর করে বিরোধী শিবিরে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বলছে, ওই ছেলে যায় না, ওরেবল হয় না। পুলিশের দফতরই বিজেপির অফিস হয়ে গিয়েছে। কমিশন ও বিজেপি একজোট হয়ে ইভিএম হ্যাক করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে। আমরা ব্যালটে নির্বাচন চাইছি। জ্ঞানেশ কুমারকে সরতেই হবে। নিজে থেকে চলে গেলে ভালো। পরে অবশ্যই আইনের মুখোমুখি হতে হবে। আর না হলে জনতা বুঝে নেবে। বিধানসভা নির্বাচনে আমি ১৫ হাজার ভোটে জিতেছিলাম। আমাকে মারধর করা হয়। দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী। ইভিএম হ্যাক করা হয়েছিল। ভোটের ফলাফলের পর তো ক্ষণেশ মিষ্টি বিলি করেছেন।”

প্রসঙ্গ সীমা খাঁন, নির্বাচন কমিশনের আইটি শাখার শীর্ষ পদাধিকারী সীমা খাঁনের নিয়োগ এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকার সমালোচনা করে মমতা বলেন, “সীমা খাঁন, জ্ঞানেশ কুমারের ষড়যন্ত্রে ভোটপ্রক্রিয়া ধ্বংস করা হয়েছে। সীমা খাঁন, ভবানীশ কুমার মিলে হাইজ্যাক করেছেন গোটা ভোটপ্রক্রিয়া। ভবানীশ কুমারের একটাই লক্ষ্য ছিল—বিজেপিকে সন্তুষ্ট করা। এদের কি পদত্যাগ চাইব না? এদের শাস্তি হবে না? জনতা চায়।” জেলাভিত্তিক ভোট লুটের পরিসংখ্যান এদিন জেলাভিত্তিকভাবে কমিশনের নেতৃত্বে ভোট চুরির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক। উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, হুগলি সহ গোটা রাজ্যে কমিশনের নেতৃত্বে ভোট চুরি করা হয় হয়। মমতা বলেন, “এই তথ্যগুলি কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বয়ান নয়, নথি পরীক্ষা করলেই সত্যতা সামনে আসবে। কীভাবে কমিশন এবং বিজেপি ভোট চুরি করে আমাদের হারিয়ে দিয়েছে।” শত শত ‘ফর্ম ৬’ ব্যবস্থাপন ও বাতিল অবস্থায় সরাসরি কমিশন বা সরকারি অফিসে ফেলে রাখা হয়েছিল। বিএলওরা প্রতিবাদ করতে গেলে পুলিশ দিয়ে তাঁদের থামানো হয়। নির্বাচন চলাকালীন প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও তৃণমূলের পোলিং এজেন্টদের আটক করে রাখা হয়। প্রচার শেষের পর রাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। তৃণমূলকে ভোট না দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হয়। ক্ষণেশের রক্ষাকবচে সায় নেই। ২০২৩ সালের আইন অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচন কমিশনারের বিশেষ রক্ষাকবচ পান। সরকারি কোনও কাজের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা যায় না। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, “জোর করে আইন পাস করা হয়। এই আইন যখন পাস করা হয় তখন ১৪৭ জন সাংসদ বাইরে ছিলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন নেই।”

Scroll to Top