হকিতে ৪৯ সেকেন্ড বাকি থাকতে পাকিস্তানকে হারাল ভারত, ফাইনালে মনপ্রীতরা

৩৬৫দিন। রোহন রায় চৌধুরী। শেষ দশ বছরে ভারতীয় হকির ইতিহাসে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচটা বড্ড একপেশে হয়ে গিয়েছে। দশটা বছর হয়ে গেল। পাকিস্তান একবারও হারাতে পারেনি ভারতকে। আজকেও পারল না। তবে আজকে যারা জাপানের মাটিতে দুই
চির প্রতিদ্বন্দ্বী দলের ম্যাচটা দেখেছেন তারা স্বীকার করতে বাধ্য হবেন আজ ভারতের টেনশন বেড়ে গিয়েছিল শেষ কোয়াটারে পাকিস্তান দুর্দান্ত কাম ব্যাক করায়। দিন ১৫ আগে শেষবার দুই দলের সাক্ষাতে ভারত জয় পেয়েছিল ৫-৩ ব্যবধানে। সেখানে আজ পাকিস্তান তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও যেভাবে শেষ কুড়ি মিনিট লড়াই করে ৩-৩ করে ফেলেছিল তাতে ভারতের কপালে দুঃখ ছিল। সত্যি বলতে কোনওমতে জিতল ভারত। হকির পুরুষদের ফাইনালে উঠলেন হরমনপ্রীত সিংহেরা। সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৪-৩ গোলে হারালেন তাঁরা। খেলা শেষ হওয়ার ৪৯ সেকেন্ড আগে গোল করেন অভিষেক। সেই গোলেই জেতে ভারত। বলটা অবশ্য এক পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের শরীরে লেগে দিক পরিবর্তন করে। এই কারণেই বলের লাইন থেকে বোকা বনে যান পাক গোলরক্ষক। চলতি এশিয়াডে এর আগে প্রতিটি ম্যাচে বড় জয় পেয়েছে ভারত। প্রতিপক্ষদের উড়িয়ে এগিয়েছেন হরমনপ্রীতেরা। ফলে সেমিফাইনালে আত্মবিশ্বাস নিয়েই নেমেছিলেন তাঁরা। শুরুটাও করেছিলেন সে ভাবেই।শুরুর ৫ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি কর্নার পায় ভারত। এই মুহূর্তে পুরুষদের হকিতে বিশ্বে পেনাল্টি কর্নার থেকে হরমনপ্রীতের থেকে ভাল কেউ নেই। যথারীতি গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। প্রথম কোয়ার্টার শেষ হওয়ার আগে ১৩ মিনিটের মাথায় আরও একটি পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে ব্যবধান বাড়ান হরমনপ্রীত।
দ্বিতীয় কোয়ার্টারেও দাপট দেখায় ভারত। বার বার পাকিস্তানের গোলের সামনে পৌঁছে যাচ্ছিল তারা। তার ফলও মেলে। ২৩ মিনিটের মাথায় ভারতের হয়ে তৃতীয় গোল করেন সুখজিৎ সিংহ। লড়াই ছাড়েনি পাকিস্তান। দ্বিতীয় কোয়ার্টার শেষ হওয়ার ঠিক আগে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করে দলকে খেলায় ফেরান আবু মাহমুদ।৪৩ মিনিটে সবুজ কার্ড দেখেন ভারতের দিলপ্রীত সিংহ। ফলে তৃতীয় কোয়ার্টারের শেষ দু’মিনিট দু’দলেই ১০ জন ছিল। তার সুবিধা নেয় পাকিস্তান। একেবারে শেষ মিনিটে ডান প্রান্ত ধরে ঢোকে পাকিস্তান। ভারতের রক্ষণের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে গোল করেন হান্নান শাহিদ।৪৯ মিনিটের মাথায় আবার ডান প্রান্ত ধরে আক্রমণে ভারতের গোলের মুখ খোলে পাকিস্তান। ওয়াহিদ রানা গোল করেন। খেলার ফল দাঁড়ায় ৩-৩। এখান থেকে যে কেউ জিততে পারত। গোটা স্টেডিয়াম ধরে নিয়েছে টাইব্রেকারে যাচ্ছে খেলাটা। ভারতের কপালে টেনশনের ভাঁজ। একটা ম্যাচ তিন গোলে এগিয়ে থেকে কিভাবে বিপক্ষ দলকে তারা তিনটে গোল শোধ করতে দিল এর উত্তর দাবি করা যেতে পারে কোচ ফুলটনের থেকে। তবে খেলায় এরকম হতেই পারে। ব্যাংকক এশিয়ান গেমসের পর এই প্রথম ভারতের ছেলে এবং মেয়েরা দুজনেই ফাইনালে উঠল। অর্থাৎ দুটো দলের কাছেই স্বর্ণপদক জয়ের হাতছানি আছে। মেয়েদের ফাইনাল চিনের বিপক্ষে। ছেলেদের প্রতিপক্ষ এখনও ঠিক হয়নি।

Scroll to Top